বাড়ি > ঘরে বাইরে > আবহাওয়া দফতর ও NDRF-এর জন্য এড়ানো গিয়েছে আমফানের কারণে আরও প্রাণহানি
পূর্ব মেদিনীপুরে আমফানের তাণ্ডবে ভেঙে পড়া বাড়ি থেকে জিনিসপত্র উদ্ধার করছেন স্থানীয় বাসিন্দা। ছবি: এএফপি। (AFP)
পূর্ব মেদিনীপুরে আমফানের তাণ্ডবে ভেঙে পড়া বাড়ি থেকে জিনিসপত্র উদ্ধার করছেন স্থানীয় বাসিন্দা। ছবি: এএফপি। (AFP)

আবহাওয়া দফতর ও NDRF-এর জন্য এড়ানো গিয়েছে আমফানের কারণে আরও প্রাণহানি

  • জাতীয় আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের সঠিক পূর্বাভাস ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর তৎপরতায় বিপুল সংখ্যক প্রাণহানি আটকানো গিয়েছে।

বৃহস্পতিবার আমফান বিধ্বস্ত ওডিশা ও পশ্চিমবঙ্গের উদ্ধার ও ত্রাণকার্য পর্যালোচনার জন্য ন্যাশনাল ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির (এনসিএমসি) তরফে বৈঠক হয়। এই বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিশার মুখ্যসচিবরা জানিয়েছেন, জাতীয় আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের সঠিক পূর্বাভাস ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) তৎপরতায় বিপুল সংখ্যক প্রাণহানি আটকানো গিয়েছে।

ক্যাবিনেট সচিব রাজীব গৌবার নেতৃত্বে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির সঙ্গে বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিশার আমফান পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ক্ষতিগ্রস্ত এই দুই রাজ্যের মুখ্যসচিব। তাঁরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া বিভাগের তরফে সঠিক ভবিষ্যদ্বাণীর ফলে সময় থাকতে এনডিআরএফ মোতায়েন করা হয়েছিল। এই বাহিনীর তৎপরতায় পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী ৫ লক্ষ এবং ওডিশায় ২ লক্ষ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরানো সম্ভব হয়েছে। যার ফলে বিপুল সংখ্যক প্রাণহানির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে দুই রাজ্যই। উল্লেখ্য ১৯৯৯ সালে যে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ওডিশায় আঘাত হেনেছিল, তাতে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল সব কিছু।

কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গে যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পুনরুদ্ধার ও পুনঃস্থাপনের জন্য এনডিআরএফ-এর অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

অন্য দিকে, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের জীবনধারণের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্যশস্য, বিশেষত চালের যাতে কোনও ঘাটতি না হয়, তা সুনিশ্চিত করছে ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া।

আবার আমফানের কবলে পড়ে পরিকাঠামোগত ক্ষতির শিকার হয়েছে রেলও। একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য কাজ শুরু করে দেওয়া হয়েছে। লকডাউনের জেরে ভিন রাজ্যে আটকে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফেরানোর জন্য বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়েছিল। সেই পরিষেবাও এর ফলে প্রভাবিত হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা।

পাশাপাশি, ওডিশা সরকার জানিয়েছে, একের পর এক কৃষিজমি ও ফসল ধ্বংস করেছে আমফান। সেখানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষিক্ষেত্র।

উদ্ধার ও পুনঃস্থাপন কাজের পর্যালোচনা করতে গিয়ে ক্যাবিনেট সচিব কেন্দ্রীয় সরকারি মন্ত্রকের এবং এজেন্সির আধিকারিকদের ওডিশা সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তৎপরতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করে রিপোর্ট তৈরির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে একটি দল পাঠানো হয়েছে।

এ দিন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিশার মুখ্যসচিব এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়াও বৈঠকে ছিলেন ভারতীয় আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগ, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক-সহ আনুষঙ্গিক দফতরের আধিকারিকরা। 

বন্ধ করুন