বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মায়ানমার থেকে অস্ত্র আসে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল৷ (ফাইল ছবি, সৌজন্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/ডয়চে ভেলে)
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল৷ (ফাইল ছবি, সৌজন্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/ডয়চে ভেলে)

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মায়ানমার থেকে অস্ত্র আসে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহর হত্যাকারীদের ‘শীঘ্রই' আইনের আওতায় আনার কথা জানালেন তিনি৷

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলিতে মায়ানমার থেকে বিভিন্নভাবে অস্ত্র আসার কথা বললেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল৷ রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহর হত্যাকারীদের ‘শিগগিরই' আইনের আওতায় আনার কথা জানালেন তিনি৷

দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে রবিবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা শেষে সংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন বলে ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে৷ আশ্রয় শিবিরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘যথেষ্ট ভালো' বলে দাবি তাঁর৷

রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে মাদক পাচারের বিষয়টি বহুদিন ধরেই চলে আসছে৷ কক্সবাজারের আশ্রয় শিবিরগুলো ঘিরে রোহিঙ্গা ডাকাতদের তৎপরতার খবরও আসছে সংবাদমাধ্যমে ৷ তবে রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহকে ক্যাম্পের ভেতরে গুলি করে হত্যার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি করেছে৷

মুহিবুল্লাহর হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মায়ানমার থেকে বিভিন্নভাবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিবেশ অস্থির করার জন্য অস্ত্র আসছে৷ অস্ত্র নিয়ে তাদের আধিপত্য বিস্তার করার জন্য বিভিন্ন গ্রুপের মারামারিও দেখেছেন৷ যে নেতার (মুহিবুল্লাহ) কথা বলছেন, সে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য সবসময় সোচ্চার ছিল৷ তার এই ঘটনাটা তদন্ত করে এর মূল কারণটা বের করতে হবে, সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করছি৷'

মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রাষ্ট্রসংঘ, ইউএনএইচসিআর-সহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো৷ পশ্চিমী সংবাদমাধ্যমে ‘রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর' হিসেবে পরিচিত ছিলেন রাখাইন রাজ্যের মংডুর এলাকার স্কুলশিক্ষক মুহিবুল্লাহ৷ ‘আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস' নামে রোহিঙ্গা সংগঠনের চেয়ারম্যান ছিলেন মুহিবুল্লাহ৷

একদল অস্ত্রধারী গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে উখিয়ায় লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৪৮ বছর বয়সি মুহিবুল্লাহকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়৷ রোহিঙ্গাদের অন্য একটিব সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) মুহিবুল্লাহকে হত্যা করেছে বলে সন্দেহ তার পরিবারের৷ মায়ানমারে ফিরে যাওয়ার জন্য রোহিঙ্গাদের যে গ্রুপটির মধ্যে মুহিবুল্লাহর হত্যার ঘটনা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে৷

পুলিশ ইতোমধ্যে পাঁচ রোহিঙ্গাকে গ্রেফতার করেছে এবং তাদের মধ্যে দুজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা তাঁকে হত্যা করেছে বলে আমরা মনে করছি সে বিষয়ে তদন্ত চলছে, খুব শিগগিরই এর ব্যবস্থা করতে পারব বলে বিশ্বাস করি৷"রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চারদিকে কাঁটাতাদের বেড়া দেওয়া হচ্ছে৷ চতুর্দিকে ওয়াচ টাওয়ারও করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান৷ 'আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী ভালো কাজ করছে৷ কক্সবাজারে লাখ লাখ পর্যটক যাচ্ছেন৷ সবকিছু মিলিয়ে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে বলেই সব কিছু ভালো অবস্থায় আছে৷' এমন মন্তব্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর৷

বন্ধ করুন