বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > ডলারের তুলনায় টাকার রেকর্ড পতন, কীভাবে প্রভাবিত হবেন আপনি?
ফাইল ছবি(এডিটেড): পিটিআই (PTI)

ডলারের তুলনায় টাকার রেকর্ড পতন, কীভাবে প্রভাবিত হবেন আপনি?

এরকম অস্থির মুদ্রা যে কোনও দেশেরই অর্থনীতির জন্য ভাল নয়, তা বলাই বাহুল্য। সহজ কথায়, একটি দুর্বল মুদ্রা দেশের মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি করে। এপ্রিলে ভারতের ভোক্তা মূল্যস্ফীতি আট বছরের সর্বোচ্চ ৭.৭৯%-এ পৌঁছেছে।

বিশ্বজুড়ে টালমাটাল শেয়ার বাজার। আর তাতে সরাসরি ধাক্কা ভারতীয় অর্থনীতিতে। বৃহস্পতিবার রেকর্ড হারে পতন হল ভারতীয় মুদ্রার (রূপি)। ডলারের তুলনায় রুপির দাম হ্রাসের ফলে আমদানি ব্যয়বহুল হয়ে যায়। এর থেকে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পায়। এটি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) উপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বৃহস্পতিবার টাকা ডলার প্রতি ০.৫% কমে ৭৭.৬৩১৩ টাকায় নেমেছে। এটি গত এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের জন্য একটি নতুন রেকর্ড পতন। মাঝে অবশ্য কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পর রুপির দাম সামান্য বেড়েছিল। বেঞ্চমার্ক সেনসেক্স সূচক ১.৮% কমে যাওয়ায়(গত ২ মাসে সর্বনিম্ন) ভারতীয় শেয়ার বাজারও নিম্নমুখী হয়েছে। ভারতের ভোক্তা মূল্যস্ফীতি এপ্রিল ২০২২-এ আট বছরের সর্বোচ্চ, ৭.৭৯%-এ পৌঁছেছে।

এরকম অস্থির মুদ্রা যে কোনও দেশেরই অর্থনীতির জন্য ভাল নয়, তা বলাই বাহুল্য। সহজ কথায়, একটি দুর্বল মুদ্রা দেশের মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি করে। মার্চ মাসে হেডলাইন মুদ্রাস্ফীতি ৬.৯৫%-এ দাঁড়িয়েছে।

এই নিয়ে টানা চতূর্থ মাসে মুদ্রাস্ফীতি RBI-এর ৬% এর 'কমফোর্ট লেভেলে'র উপরে রয়েছে। ভারতের মূল আমদানি - তেল, ভোজ্য তেল, এবং অন্যান্য অ-কৃষি পণ্যের প্রতিটিরই দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

শেষ পর্যন্ত, এর প্রভাব গিয়ে পড়বে দেশের আমজনতার পকেটে। পরিবহন, মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে খাদ্য সামগ্রী, সবকিছুর পেছনেই বাড়বে খরচ।

টাকার দাম এক কমে-বাড়ে কেন?

এক টাকা দিয়ে যদি আগের চেয়ে বেশি ডলার কেনা যায়, তার মানে দাঁড়ায় ভারতীয় মুদ্রা শক্তিশালী হয়েছে। আবার কম কেনা হলে বলা হয় ভারতীয় মুদ্রার চাহিদা কমেছে।

যেকোনো বাজারের মতো, অর্থের বাজারও চাহিদা ও যোগানের নীতিতে কাজ করে। রূপির বিপরীতে ডলারের চাহিদা বেশি থাকলে, রূপির অবমূল্যায়ন হয়। এভাবেই ফ্লোটিং এক্সচেঞ্জ রেট কাজ করে।

টাকার পতন রোধ করার জন্য, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক হিসাবে আরবিআই যে প্রাথমিক হস্তক্ষেপ শুরু করতে পারে, তা হল চাহিদা কমাতে তার ভান্ডারের ডলার বিক্রি করা। এর ফলে ভারতীয় মুদ্রা শক্তিশালী হবে।

বেশিরভাগ বিশ্লেষকদের মতে, ইতিমধ্যেই RBI তার ৬০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ফরেক্স রিজার্ভ থেকে বৃহস্পতিবার আরও ডলার বিক্রি করেছে।

বন্ধ করুন