বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > কোভিড টিকা নেওয়ার ৪ দিন পরে মৃত্যু আশাকর্মীর, ক্ষতিপূরণের দাবিতে ধরনা
কোভিড টিকা নেওয়ার ৪ দিন পরে মস্তিষ্কে স্ট্রোকের জেরে মারা গেলেন অন্ধ্র প্রদেশের এক আশাকর্মী।
কোভিড টিকা নেওয়ার ৪ দিন পরে মস্তিষ্কে স্ট্রোকের জেরে মারা গেলেন অন্ধ্র প্রদেশের এক আশাকর্মী।

কোভিড টিকা নেওয়ার ৪ দিন পরে মৃত্যু আশাকর্মীর, ক্ষতিপূরণের দাবিতে ধরনা

  • কোভিশিল্ড ভ্যাক্সিন ডোজ নেওয়ার পরে তীব্র মাথাব্যথা, গা গুলোনো, খিঁচুনি ও বমি ভাব নিয়ে হাসপাতালে ভরতি হন তিনি। 

কোভিড টিকা নেওয়ার চার দিন পরে মস্তিষ্কে স্ট্রোকের জেরে মারা গেলেন অন্ধ্র প্রদেশের গুন্টুর জেলার এক আশাকর্মী। তবে এক শীর্ষ আধিকারিকের দাবি, টিকা নেওয়া ও স্ট্রোকের মধ্যে কোনও সম্পর্ক নেই। 

গত ২০ জানুয়ারি আরও দশ জনের সঙ্গে কোভিশিল্ড ভ্যাক্সিন ডোজ নেওয়ার পরে তীব্র মাথাব্যথা, গা গুলোনো, খিঁচুনি ও বমি ভাব নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় গুন্টুর জেনারেল হাসপাতালে ভরতি হয়েছিলেন পেনুমাকা গ্রামের বাসিন্দা বোক্কা বিজয়লক্ষ্মী নামে বছর বিয়াল্লিশের ওই আশাকর্মী। রবিবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। 

গুন্টুর জেলা টিকাকরণ বিভাগের আধিকারিক ডক্টর চুক্কা রত্ন মনমোহন জানিয়েছেন, ‘টিকা নেওয়ার দিন ও তার পরের দিন তিনি পুরোপুরি সুস্থ ছিলেন। তাঁর পরিবারের দাবি, ২১ জানুয়ারি মাঝরাত থেকে তাঁর মধ্যে মৃদু উপসর্গ দেখা দেয়। পরে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে বিজয়লক্ষ্মীকে গুন্টুর হাসপাতালে ভরতি করা হয়।

হাসপাতাল সুপার ডক্টর জি প্রভাবতী জানিয়েছেন, ভরতি হওয়ার পরে ওই আশাকর্মীর যাবতীয় পরীক্ষা করানো হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা ঠিক জানি না, টিকাকরণের আগেই তাঁর মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছিল, না কি টিকা নেওয়ার পরে তা ঘটেছিল। ময়নাতদন্ত করে এই বিষয়ে আমরা নিশ্চিত হতে পারব।’

জেলা টিকাকরণ বিভাগের আধিকারিক বলেন, ‘প্রথমত, ভারতে Covid-19 এর প্রকোপ শুরু হয়েছে প্রায় এক বছর আগে। দ্বিতীয়ত, কোভিড টিকাকরণ প্রকল্প সবে শুরু হয়েছে। দেশের অন্য কোনও স্থানে এখনও পর্যন্ত টিকাকরণের জেরে ব্রেন স্ট্রোকের খবর পাওয়া যায়নি।’

অন্য দিকে, জেলা চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য আধিকারিক (DMHO) ডক্টর জোন্নালাগাড্ডা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, গত ২০ জানুয়ারি তাড়েপল্লি প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রে যে ১১ জন কোভিড টিকা নিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে একমাত্র বিজয়লক্ষ্মী এবং এক নার্স গোট্টিমুক্কালা লক্ষ্মী টিকা নেওয়ার পরে বমি ভাব ও খিঁচুনিতে আক্রান্ত হন। বিজয়লক্ষ্মীর মৃত্যু হলেও তাঁর সঙ্গী ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। 

বিজয়লক্ষ্মীর স্বামী সম্বাশিব রাও জানিয়েছেন, নিহত আশাকর্মীর অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা আগে ছিল না। টিকা নেওয়ার পর থেকেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। 

বিজয়লক্ষ্মীর মৃত্যুর প্রতিবাদে গুন্টুর জেনারেল হাসপাতালে বিক্ষোভ অবস্থান শুরু করেন সম্বাশিব রাও, তাঁর পরিবারের সদস্যরা এবং কয়েকশো সিপিএম কর্মী। তাঁরা এই মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। তা ছাড়া সরকারের কাছে মৃত আশাকর্মীর এক ছেলের চাকরির দাবিও জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। 

এরই মাঝে গত রবিবার কোভিড টিকা নেওয়ার পাঁচ দিন পরে মারা গিয়েছেন ওয়ারাঙ্গলের ৪৫ বছর বয়েসি এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী।

বন্ধ করুন