বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > অসমে বিজেপির সঙ্গ ছাড়ছে বিপিএফ, দিল্লিতে নড্ডার দ্বারস্থ সোনোওয়াল-হিমন্ত
বিধানসভা নির্বাচনের আগে রণকৌশল স্থির করতে বৃহস্পতিবার দিল্লি পৌঁছন অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল ও মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। 
বিধানসভা নির্বাচনের আগে রণকৌশল স্থির করতে বৃহস্পতিবার দিল্লি পৌঁছন অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল ও মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। 

অসমে বিজেপির সঙ্গ ছাড়ছে বিপিএফ, দিল্লিতে নড্ডার দ্বারস্থ সোনোওয়াল-হিমন্ত

  • শাসকদল বিজেপি-র সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল ধরল জোটসঙ্গী বোড়োল্যান্ড পিপল’স ফ্রন্টের (বিপিএফ)।

বছর পেরোলেই অসম বিধানসভা নির্বাচন। কিন্তু তার আগেই শাসকদল বিজেপি-র সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল ধরল জোটসঙ্গী বোড়োল্যান্ড পিপল’স ফ্রন্টের (বিপিএফ)।

২০১৬ সাল থেকে অসমে ক্ষমতায় আসে বিজেপি-বিপিএফ-অগপ জোট। তবে আগামী ডিসেম্বরে বোড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল (বিটিসি) নির্বাচনে স্বাধীন ভাবে লড়ছে তিন জোটসঙ্গী। 

বিধানসভা নির্বাচনে রণকৌশল স্থির করতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল, রাজ্য বিজেপি প্রধান রঞ্জিত কুমার দাশ এবং মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। 

আজ, শুক্রবার তাঁরা বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নড্ডার সঙ্গে দেখা করবেন। আলোচনায় বিপিএফ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে অসম গণপরিষদ (অগপ) ও বিজেপি জোটে থেকেই নির্বাচনে লড়বে বলে জানা গিয়েছে। 

গতকাল সাংবাদিকদের হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, ‘বিপিএফ-এর সঙ্গে আমাদের গাঁটছড়া মাত্র পাঁচচ বছরের জন্য। তার পরে তার পুনরাবৃত্তি হবে না। বিটিসি নির্বাচনে আমরা একক ভাবে লড়ব এবং বিধানসভা নির্বাচনে বিপিএফ-এর সঙ্গে জোট ছাড়াই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।’

বিপিএফ-এর সঙ্গে আর জোটে থাকতে রাজি নন রাজ্য বিজেপি সভাপতি রঞ্জিত কুমার দাশও। দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছেও সেই বার্তা তুলে ধরবেন বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই নেবে বলে তিনি জানিয়েছেন। 

অন্য দিকে বিপিএফ প্রধান হাগ্রামা মোহিলারি বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানান, ‘বিজেপি-র সঙ্গে থাকব না কি কংগ্রেস-এর সঙ্গে হাত মেলাব, তা এখনও ঠিক হয়নি। বিটিসি নির্বাচন শেষ হলে বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে চিন্তা করব। আমাদের সঙ্গে জোট রাখতে আগ্রহী কি না, তা বিজেপি-কেই ঠিক করতে হবে।’

দিল্লির বৈঠক সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘শুনেছি জে পি নড্ডার সঙ্গে অসম বিজেপি-র নেতাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওরা সর্বভারতীয় দল। তাই কার সঙ্গে জোট বাঁধবে, তা ওদেরই ঠিক করতে হবে। জোট ভাঙলে বিপিএফ আরও মজবুত হবে।’

২০১৬ সালে অসমে ক্ষমতায় আসার সময় বিপিএফ-এর সাহায্য পেয়েছিল বিজেপি। রাজ্যের বোড়ো অধ্যুষিত কোকরাঝাড়, উদলগিরি, বাকসা ও চিরাংয়ে বিপিএফ-এর দাপট প্রশ্নাতীত। রাজ্য মন্ত্রিসভায় দলের ১২ জন বিধায়ক ও তিন জন মন্ত্রী রয়েছেন। ১২৬ আসনের বিধানসভায় বিজেপি-বিপিএফ-অগপ জোটের মোট আসন সংখ্যা ৭৪। 

গত মার্চ মাসে কোভিড অতিমারীর জেরে বিটিসি নির্বাচন বাতিল হওয়ার পরেই বিজেপি-র সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল দেখা দেয় বিপিএফ-এর। তার জেরে কাউন্সিলের অধীনে থাকা এলাকা রাজ্যপালের শাসনভুক্ত করা হয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি বিপিএফ। তারা নির্বাচন হওয়ার আগে পর্যন্ত কাউন্সিলের মেয়াদ সম্প্রসারণ করতে চেয়েছিল। সেম্বর মাসে মোট দুই দফায় বিটিসি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ভোট হবে ৪০টি আসনের জন্য।

 

বন্ধ করুন