বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > রোহিঙ্গাদের ‘জোর করে’ নির্জন ভাসান চরে পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ, উদ্বিগ্ন রাষ্ট্রপুঞ্জ
বঙ্গোপসাগরের ভাসান চরে ইতিমধ্যে এক লাখ শরণার্থীর বসবাসের উপযোগী আবাসন তৈরি করেছে বাংলাদেশ সরকার।
বঙ্গোপসাগরের ভাসান চরে ইতিমধ্যে এক লাখ শরণার্থীর বসবাসের উপযোগী আবাসন তৈরি করেছে বাংলাদেশ সরকার।

রোহিঙ্গাদের ‘জোর করে’ নির্জন ভাসান চরে পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ, উদ্বিগ্ন রাষ্ট্রপুঞ্জ

  • বছর কুড়ি আগে সাগরের বুকে জেগে ওঠা এই দ্বীপ বছরের অধিকাংশ সময় ঘূর্ণিঝড় ও প্রবল বন্যার শিকার হয়। দ্বীপের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে রাষ্ট্রপুঞ্জের অভিযানের অনুমোদন দেয়নি ঢাকা।

কক্স বাজারের আশ্রয় শিবিরে চাপ কমাতে মায়ানবার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের এবার বঙ্গোপসাগরের ভাসান চর দ্বীপে পাঠানোর উদ্যোগ নিল বাংলাদেশ সরকার। এই খবর জানিয়েছে সংবাদসংস্থা রয়টার্স।

বাংলাদেশ সরকারের কাছে অবিলম্বে এই পদক্ষেপ বন্ধ করার আর্জি জানিয়েছে একাধিক মানবাধিকার সংগঠন। তাদের দাবি, বছর কুড়ি আগে সাগরের বুকে জেগে ওঠা এই দ্বীপ বছরের অধিকাংশ সময় ঘূর্ণিঝড় ও প্রবল বন্যার শিকার হয়। কিন্তু দ্বীপের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখার উদ্দেশে রাষ্ট্রপুঞ্জের অভিযানের অনুমোদন দেয়নি ঢাকা। 

আন্তর্জাতিক স্তরে আপত্তির পরোয়া না করে ইতিমধ্যে ভাসান চরে রোহিঙ্গা শরণার্থী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার রাতে কক্স বাজারের শিবির থেকে বেশ কিছু রোহিঙ্গা পরিবারকে সেই উদ্দেশে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে ফোন মেসেজে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় আধিকারিক।

২০১৭ সালে সামরিক হামলার জেরে মায়ানমার থেকে ৭,৩০,০০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী দেশ ছেড়ে পালান। তাঁদের এক বড় অংশ প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। এক লাখ শরণার্থীকে কক্স বাজারের শিবিরে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু শরণার্থীর সংখ্যা বড়াতে থাকায় এবার স্থান সংকুলান-সহ একাধিক সমস্যা দেখা দিয়েছে বাংলাদেশে।

রয়টার্সের মতে মানবাধিকার সংস্থাগুলির দাবি, ভাসান চরে যেতে সম্মত কয়েকশো শরণার্থীকে বুধবার রাতে কক্স বাজারের শিবির থেকে সরিয়ে অস্থায়ী আস্তানায় রাখা হয়েছে। তাদের অনেককে নগদ টাকা-সহ নানান টোপ দিয়ে রাজি করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ ওই সব সংস্থার। 

অন্য দিকে, বাংলাদেশ সরকারের শরণার্থী বিষয়ক সহ-অধিকর্তা মহম্মদ শামসুদ দৌজা জানিয়েছেন, ভাসান চরে ইতিমধ্যে এক লাখ মানুষের বসবাসের উপযোগী আবাসন তৈরি করেছে সরকার। নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সমুদ্র অপেক্ষাকৃত শান্ত থাকার কারণে ওই সময়ে তাঁদের স্থানান্তরিত করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে এই ব্যাপারে কাউকে জোর করা হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন সহ-অধিকর্তা।

রাষ্ট্রপুঞ্জের অভিযোগ, শরণার্থী স্থানান্তকরণের বিষয়ে সবিস্তারে কিছু জানায়নি বাংলাদেশ সরকার।  

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের গোড়ায় বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া পালানোর পথে নৌকাডুবিতে পথভ্রষ্ট প্রায় ৩০০ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে প্রথমে ভাসান চরে নিয়ে আসে বাংলাদেশ সরকার। মানবাধিকার সংগঠনের অভিযোগ, তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ওই দ্বীপে আটকে রাখা হয়। মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে তাঁদের অনেকে অনশন অবস্থানে নামেন বলেও অভিযোগ। 

বন্ধ করুন