কোটা সংরক্ষণ বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে হাসিনা সরকারের পদত্যাগ করার পর অন্তর্বর্তী সরকার গড়ে উঠেছে পদ্মাপারে। কিন্তু তারপরও যে শান্তি আছে সেটা বলা যাচ্ছে না। মহম্মদ ইউনুস সরকার বাংলাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করলেও একেবারে শান্ত হয়নি। হিন্দুদের উপর অত্যাচার বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই আবহে এবার অন্তবর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুস সংস্কারের পথে হাঁটার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিলেন।
বাংলাদেশে সংস্কার করার কাজই শুধু নয়, সেটাকে দ্রুত করে বাংলাদেশে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে এখান থেকে চলে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। এখানে যে তিনি খুব বেশি দিন থাকতে আসেননি সেটাও জানিয়ে দিয়েছেন স্পষ্ট ভাষাতেই। আর তারপর থেকে এই বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব সংস্কারের কাজ করতে চান তিনি। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন নয়াদিল্লিতে আছেন। তা নিয়েও নানা কথা শুরু হয়েছে। ইউনুস সরকার চায়, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে এবং তাঁর বিরুদ্ধে যেসব মামলা আছে তার বিচার করতে।
আরও পড়ুন: ‘থ্রেট কালচার’ নিয়ে তদন্ত কমিটি গড়ল স্বাস্থ্যভবন, সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে
বাংলাদেশের আর্থ–সামাজিক প্রেক্ষাপটের উন্নয়ন থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামোর উন্নয়ন চান মহম্মদ ইউনুস। আর সেটা করতে গেলে প্রয়োজন আমূল সংস্কার। এই বিষয়ে সোমবার টোকিও অবস্থিত সংবাদমাধমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এখানে বেশিদিন থাকার জন্য আমরা আসিনি। আমাদের একটা স্পষ্ট অ্যাজেন্ডা আছে। আর আমরা চাই বাংলাদেশে আর্থিক কার্যকলাপকে নিশ্চিত করতে। এখানে যে সিস্টেম এবং সংস্থা কাজ করছে সেগুলির সংস্কারের প্রয়োজন।’ অর্থাৎ তিনি আর্থিক, সামাজিক এবং সরকারি স্তরে সংস্কার করতে চাইছেন।
এছাড়া বাংলাদেশে এখন ইউনুস সরকার কাজকর্ম চালাচ্ছে। এরপর তাহলে কী হবে? তিনি চলে গেলে বাংলাদেশ কারা সামলাবে? এসব প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ একবার অস্থির পরিস্থিতি সহ্য করতে হয়েছে বাংলাদেশের নাগরিকদের। এমনকী তাঁরা ওপার থেকে কাঁটাতার, সীমান্ত পেরিয়ে এপারে চলে আসার চেষ্টা পর্যন্ত করেন। আর যাতে ওরকম পরিস্থিতি তৈরি না হয় সেটা চাইছেন বাংলাদেশের আপামর জনগণ। এই বিষয়ে সাক্ষাৎকারে মহম্মদ ইউনুস বলেছেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব আমরা সংস্কার করব। আর সংস্কার করার পর নির্বাচন ডাকা হবে। এটাই সরকারের সাফল্য।’