বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > সেপ্টেম্বরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা, কিন্তু রোডম্যাপ কী? ধন্দ বাংলাদেশে
শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন সেপ্টেম্বরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হবে, আগামী নভেম্বরে পরীক্ষা। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য গুরপ্রীত সিং/হিন্দুস্তান টাইমস)
শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন সেপ্টেম্বরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হবে, আগামী নভেম্বরে পরীক্ষা। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য গুরপ্রীত সিং/হিন্দুস্তান টাইমস)

সেপ্টেম্বরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা, কিন্তু রোডম্যাপ কী? ধন্দ বাংলাদেশে

  • শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন সেপ্টেম্বরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হবে, আগামী নভেম্বরে পরীক্ষা।

শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন সেপ্টেম্বরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হবে, আগামী নভেম্বরে পরীক্ষা। তবে সব কিছুই নির্ভর করছে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উপর। কিন্তু এই কাজের রোডম্যাপ পরিষ্কার নয়।

প্রশ্ন উঠেছে করোনা সংক্রমণ যদি না কমে তাহলে কি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এভাবে মাসের পর মাস বন্ধ থাকবে? শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমণি বলেছেন, এবার আর অটোপাস নয়, পরীক্ষা হবে। আর সেই পরীক্ষা হতে পারে নভেম্বরে। আর সেপ্টেম্বরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হতে পারে। তার আগে শিক্ষক-কর্মচারী ও ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি শিক্ষার্থীদের করোনা টিকা দেওয়া হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক অধ্যাপক শাহেদুল খবির চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা দুটি বিষয়কে মাথায় রেখে করা হয়েছে। যদি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায় তাহলে একরকম। আর যদি করোনার মধ্যেই খুলতে হয় তাহলে অন্যরকম। তবে আমরা মনে করি সংক্রমণ পাঁচ ভাগের নিচে না নামলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা ঠিক হবে না।’

তিনি জানান, নভেম্বরে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তার আগে সেপ্টেম্বরের শেষদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হবে। এটা ক্লাস নেওয়ার জন্য নয়, ওই পরীক্ষার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে। সেটা সফল হলে বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক-সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হবে। আর এর আগে শিক্ষক কর্মচারী ও পড়ুয়াদের (১৮ বছর বা তোর বেশি বয়সের) শতভাগ টিকার ব্যবস্থা করা হবে।

তবে সরকার বৃহস্পতিবার আরও একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের বয়স ১৮ বছরের নিচেও যদি হয় তারপরও সবাইকে যদি টিকা দেওয়া যায়, তাহলে তাও দেওয়া হবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষক, কর্মচারী ও পড়ুয়াদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করছে। তবে এরই মধ্যে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় সব শিক্ষক এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুই লাখ ৭৮ হাজার শিক্ষক, কর্মচারী টিকা নিয়েছেন বলে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন।

অধিদফতরের পরিচালক জানান, ‘করোনার মধ্যেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে ইউনিসেফের গাইডলাইন মেনে আমরা পরিকল্পনা করেছি। খোলার ১৫ দিন আগে থেকেই তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দূরত্ব, শিক্ষার্থীরা কত দূরে বসবেন, মাস্ক সব কিছুই নির্ধারণ করা আছে। আর শিক্ষার্থীদের এসাইনমেন্ট ভিত্তিক কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে।’

কিন্তু এই পরিকল্পনা বা রোডম্যাপ স্পষ্ট নয়। কারণ শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুধু পরীক্ষার কথাই চিন্তা করছে। কিন্তু তারা যদি না শিখে তাহলে পরীক্ষা নিয়ে কী হবে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন পরিচালক অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘গত বছরের জুলাই-অগস্টের দিকে করোনা কমে গিয়েছিলো তখন কিন্তু পরীক্ষা নেওয়া যেত স্বাস্থ্যবিধি মেনে। ক্লাস চালানো যেত পরিকল্পনা করে। এখন তো করোনা অনেক বেশি। তাই আমি এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পক্ষে নই। কিন্তু প্রশ্ন হল, করোনা থাকলে কি আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলবে না? অটোপাস দিয়ে দেব? গত বছর যাঁদের অটোপাস দেওয়া হল, তাঁরা কি যা প্রয়োজন তা শিখেছেন? মৌলিক বিষয়গুলো না শিখিয়ে অটোপাস দিয়ে তো কোনো লাভ নেই।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ। আমরা শুধু পরীক্ষা নিয়ে কথা শুনেছি কিন্তু পড়াশোনার কী হবে তা নিয়ে কোনও উদ্বেগ বা পরিকল্পনা দেখিনি। না পড়িয়ে পরীক্ষা নিয়ে কী হবে? এই নিয়ে কোনো রোডম্যাপ বা টাইম লাইন আমদের নেই। তারা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছেন। কিন্তু এটা করতে যে দক্ষতা বা জ্ঞান দরকার তার ঘাটতি আছে বলে আমি মনে করি।’

তার মতে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে একাধিক শিফট করে, দূরত্ব বজায় রেখে ক্লাস পরীক্ষা সবই নেয়া যেত। দরকার ছিলো পরিকল্পনা। কিন্তু তা হয়নি। অনলাইন বা মডিউল ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এখানে পরিকাঠামো নেই। অর্ধেক শিক্ষার্থীর ডিভাইস নেই। আর সরাসরি ক্লাস তো পুরোপুরি বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। এটার আলাদা গুরুত্ব আছে।

বন্ধ করুন