বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > 'গণপরিবহণের অর্ধেক ভাড়া দিয়েছি, এটা ঐতিহ্য', আন্দোলনের সমাধান কোথায়?
সপ্তাহ ধরে ঢাকায় শিক্ষার্থীরা গণপরিবহণে অর্ধেক ভাড়ার (হাফ পাস) জন্য আন্দোলন করলেও সরকার বা মালিক পক্ষের দিক থেকে এখনও দাবি মেনে নেওয়ার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না৷ (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/ডয়চে ভেলে)
সপ্তাহ ধরে ঢাকায় শিক্ষার্থীরা গণপরিবহণে অর্ধেক ভাড়ার (হাফ পাস) জন্য আন্দোলন করলেও সরকার বা মালিক পক্ষের দিক থেকে এখনও দাবি মেনে নেওয়ার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না৷ (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/ডয়চে ভেলে)

'গণপরিবহণের অর্ধেক ভাড়া দিয়েছি, এটা ঐতিহ্য', আন্দোলনের সমাধান কোথায়?

  • বুধবার হাইকোর্টে অর্ধেক ভাড়ার পক্ষে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে৷

সপ্তাহ ধরে ঢাকায় শিক্ষার্থীরা গণপরিবহণে অর্ধেক ভাড়ার (হাফ পাস) জন্য আন্দোলন করলেও সরকার বা মালিক পক্ষের দিক থেকে এখনও দাবি মেনে নেওয়ার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না৷ এই আন্দোলন ধীরে ধীরে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে৷ এই আন্দোলন ধীরে ধীরে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে৷ এদিকে বুধবার হাইকোর্টে অর্ধেক ভাড়ার পক্ষে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে৷

মঙ্গলবার আন্দোলনকারীদের উপর ছাত্র লিগের কর্মীদের হামলার পর বুধবার নতুন করে বড় কোনও হামলা ও হাঙ্গামার খবর পাওয়া যায়নি৷ ছাত্র লিগ এরইমধ্যে ছাত্রদের এই অর্ধেক ভাড়া দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে৷ তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক আছে৷ তারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে জড়ো হলেও বড় কোনও শো-ডাউন করেনি৷ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনেই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে৷

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুস আলি আকন্দ বাস, ট্রেন ও লঞ্চে শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়ার দাবি জানিয়ে যে রিট আবেদন করেছেন তার শুনানি রবিবার হতে পারে৷ ইউনুস আলি আকন্দ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘আমরা নিজেরাও গণপরিবহণে ছাত্র জীবনে অর্ধেক ভাড়া দিয়েছি৷ এটা একটা ঐতিহ্য৷ দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে৷ এটা বন্ধ করা যাবে না৷ এটা বন্ধ করা সংবিধানেরও লঙ্ঘন৷ সরকারকে এখন অর্ধেক ভাড়ার জন্য সুনির্দিষ্ট আইন করে দিতে হবে৷’

তিনি বলেন ‘সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদে নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ সুবিধার কথা বলা আছে৷ শিক্ষার্থীদের শতকরা ৫০ ভাগ নারী৷ আর ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু৷ তাই শিক্ষার্থীদের সংবিধান অনুযায়ী গণপরিবহণে অর্ধেক ভাড়ার সুযোগ আছে৷ কিন্তু সরকার তা করছে না ৷ উল্টো শিক্ষার্থীদের ওপর ডাবল ভাড়া চাপিয়ে দেয়া হয়েছে৷ ফলে এই আন্দোলন এখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে৷ এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে৷’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের দুই-একজন মন্ত্রীও শিক্ষার্থীদের এই দাবির সঙ্গে একমত৷ তারপরও মঙ্গলবার ছাত্র লিগের কর্মীরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়েছে৷ এটা ন্যক্কারজনক৷ তাদের আইনের আওতায় আনা হোক৷’ রিটে স্বরাষ্ট্র, নৌ ও সড়ক পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পুলিশের আইজিকে প্রতিপক্ষ করা হয়েছে৷

ছাত্র লিগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার দাবির প্রতি আমাদের পুরো সমর্থন আছে৷ তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রতিও আমাদের সমর্থন আছে৷ তবে সতর্ক থাকতে হবে যে একটি গোষ্ঠী সব সময় এই ধরনের আন্দোলনে মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়৷’ তিনি মঙ্গলবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্র লিগের কর্মীদের হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এটা ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজের ছাত্রদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে হয়েছে৷ একটি মোটর সাইকেলের ঘটনা নিয়ে এই দ্বন্দ্ব এর সঙ্গে ছাত্র লিগের কেউ জড়িত নয়৷’

অর্ধেক ভাড়া নিয়ে বিআরটিএ এখনও কোনও বক্তব্য দেয়নি৷ বিআরটিএর চেয়ারম্যানকেও ফোনে পাওয়া যায়নি৷ তবে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানাগেছে শনিবার সড়ক পরিবহণ মন্ত্রণালয় পরিবহণ মালিকদের সঙ্গে একটি বৈঠক ডেকেছে এই বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য৷ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েতুল্যাহ জানান, ‘আমরা আমাদের আগের অবস্থানেই আছি৷ শিক্ষার্থীদের জন্য অর্ধেক ভাড়ার কোনো আইন নেই৷ আমরা আগে এই সুবিধা দিয়েছি৷ কিন্তু এখন আর সম্ভব নয়৷ সরকার চাইলে দিতে পারে৷ বিআরটিসি বাস আরও বাড়াতে হবে৷’

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অর্ধেক ভাড়ার আইন না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে৷ এটা আমাদের প্রতি করুণা নয়, এটা আমাদের অধিকার৷ আর আমাদের শিক্ষার্থীদের উপর যে হামলা, নির্যাতন হয়েছে আমরা তারও বিচার চাই৷’ শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিভিন্ন গ্রুপ খুলে তাদের আন্দোলন আরও জোরদার করার কাজ করছে৷ সেখানে তারা অর্ধেক ভাড়া নিয়ে কোথায় কী ঘটছে, তাও তুলে ধরছে৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক মনে করেন, ‘শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়ার এই দাবি যৌক্তিক৷ আগে বাস, ট্রেন, লঞ্চ - এমনকী অভ্যন্তরীণ বিমানেও অর্ধেক ভাড়া ছিল৷ এখন বিআরটিসির বাস ছাড়া আর কোথাও নেই৷ এটা কীভাবে হলো’ তিনি বলেন, ‘তবে এটা করতে হলে শিক্ষার্থীদের পরিচয় নিশ্চিতের ব্যবস্থা থাকতে হবে৷ আর বেসরকারি গণপরিহণের মালিকদের সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে বৈঠক করে একটা সমন্বয় করতে হবে যাতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত না হন৷ মালিক পক্ষের একটা সামাজিক দায়িত্ব আছে, সেটা তাঁদের বুঝাতে হবে৷’

(বিশেষ দ্রষ্টব্য : প্রতিবেদনটি ডয়চে ভেলে থেকে নেওয়া হয়েছে। সেই প্রতিবেদনই তুলে ধরা হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার কোনও প্রতিনিধি এই প্রতিবেদন লেখেননি।)

বন্ধ করুন