বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > নিয়ন্ত্রণে নয় করোনা, লকডাউন শিথিলের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে, ১৭ জুলাই থেকে গোরুর হাট
নিয়ন্ত্রণে নয় করোনা, লকডাউন শিথিলের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে, ১৭ জুলাই থেকে গোরুর হাট। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য রয়টার্স)
নিয়ন্ত্রণে নয় করোনা, লকডাউন শিথিলের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে, ১৭ জুলাই থেকে গোরুর হাট। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য রয়টার্স)

নিয়ন্ত্রণে নয় করোনা, লকডাউন শিথিলের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে, ১৭ জুলাই থেকে গোরুর হাট

  • সংক্রমণ বেড়েই চলেছে, অথচ এরই মাঝে এসেছে লকডাউন শিথিল করার ঘোষণা৷

অক্সিজেনের সংকট আছে৷ নেই পর্যাপ্ত আইসিইউ বেড৷ সংক্রমণ বেড়েই চলেছে, অথচ এরই মাঝে এসেছে লকডাউন শিথিল করার ঘোষণা৷

বাংলাদেশে করোনার পরিস্থিতি আরেও উদ্বেগজনক৷ গত বছরের শুরুতে করোনাভাইরাস মূলত ছিল শহরকেন্দ্রিক৷ কিন্তু এখন গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে৷ সংক্রমণের ৭০ ভাগই এখন গ্রামে৷ গ্রামে চিকিৎসা ব্যবস্থা অপ্রতুল থাকায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করছে৷ চিকিৎসার জন্য গ্রামের করোনা রোগীরা শহরে আসতে চাইলেও লকডাউন এবং নজরদারির কারণে আসতে পারছেন না৷ অন্যদিকে অনেক করোনা রোগী অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ আছে৷ তাঁরা টেস্ট করছেন না না, হাসপাতালেও যাচ্ছেন না৷

দেশে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা-সহ সারাদেশে ১০০ সরকারি হাসপাতালের ৪৮টি হাসপাতালে আইসিইউ আছে, ৫২টিতে নেই৷ আইসিইউ সুবিধা নেই এমন হাসপাতালের ৩৫টিই আবার ঢাকার বাইরে জেলা সদরে৷ আর ৬৪ জেলার মধ্যে মাত্র ৩৫ জেলায় কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা আছে৷ দেশে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও বাকি জেলা এবং দেশের উপজেলায় অক্সিজেন সংকট তৈরি হয়েছে৷ সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক না থাকায় মজুত অক্সিজেন সময়মতো কাজে আসছে না৷ সাতক্ষীরা, বগুড়া ও পাবনায় ১৮ জন করোনা রোগী অক্সিজেনের অভাবে মারা গিয়েছেন৷

বাংলাদেশে রবিবার ছিল করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমণের এক ভয়াবহ দিন৷ সর্বোচ্চ ২৩০ জনের মৃত্যু হয় সেদিন৷ আর ১১ হাজার ৮৭৪ জনের সংক্রমণও ছিল রেকর্ড৷ সংক্রমণের হারও এখন সর্বোচ্চ ৷ সোমবার মৃত্যু কিছুটা কমলেও সংক্রনের আবারো নতুন রেকর্ড হয়েছে৷ আগের সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে মৃত্যু বেড়েছে ৪৮.৬৬ শতাংশ৷ সংক্রমণ বেড়েছে ৩৭.৫৪ শতাংশ৷গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় ২২০ জনের মুত্যৃ হয়েছে৷ সংক্রমণেরও নতুন রেকর্ড হয়েছে৷ ২৪ ঘন্টায় শনাক্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৭৬৮ জন৷ সংক্রমণের হার ৩১.২৪ শতাংশ৷ এটা সর্বোচ্চ৷

আইইডিসিআর-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এস এম আলমগির বলেন, ‘এই লকডাউনে সংক্রমণ এবং মৃত্যু কমে আসার কথা ছিল৷ কিন্তু কমেনি৷ এর একটি কারণ হতে পারে গ্রামের মানুষ লকডাউন মানছেন না৷ মাস্ক পরছেন না৷ স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না৷ আর সেই কারণেই গ্রামে সংক্রমণ বাড়ছে৷ সেখানকার চিকিৎসা ব্যবস্থাও চাপের মুখে পড়েছে৷’ তাঁর মতে, ‘সংক্রমণ শতকরা পাঁচ ভাগের নীচে নামলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলা যায়৷ আমরা তো ১০ ভাগেও নামাতে পারছি না৷ এই সংক্রমণের ধারা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হবে৷’

এই অবস্থার মধ্যেই ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত লকডাউন শিথিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে৷ কঠোর লকডাউন শেষ হবে ১৪ জুলাই৷ শিথিল লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন, লঞ্চ চলবে৷ শপিং মল, দোকানপাটও একই নিয়মে খুলবে৷ আর ১৭ জুলাই থেকে সারাদেশে বসবে গোরুর হাট৷

বিএসএমইউর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম মনে করেন, ‘সংক্রমণ ও মৃত্যুর এই ঊর্ধ্বগতির মধ্যে লকডাউন শিথিল করার কেনো সুযোগ নেই৷ শিথিলের ঘোষণায় দুই দিন আগেই সব কিছু শিথিল হয়ে যাবে৷ আর যা-ই হোক স্বাস্থ্যবিধি শিথিল করার কোনো সুযোগ নেই৷ সেটা করা হলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে৷’ তাঁর মতে, ‘লকডাউন আসলে সত্যিকারের লকডাউন না হওয়ায় এখানে সংক্রমণ ও মুত্যু না কমে উল্টো বাড়ছে৷ কয়েকদিনের মধ্যে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়বে৷ অক্সিজেনের সংকটও দেখা দেবে৷’ এ বিষয়ে একদিন আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, এভাবে সংক্রমণ বাড়লে আগামী সাত দিনের মধ্যে আর করোনা বেড পাওয়া যাবে না৷ পাওয়া যাবে না আইসিইউ এবং হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা৷ ঢাকার ১৬টি সরকারি কোভিড হাসপাতালের মধ্যে ৯টিতেই এখন আইসিইউ বেড খালি নেই৷

বন্ধ করুন