ছবিটি প্রতীকী।
ছবিটি প্রতীকী।

মা-কে খুন, ভাইকে জখম করে বন্ধুকে নিয়ে আন্দামানে পালিয়েও ধৃত যুবতী

  • ছুরি দিয়ে বছর বাহান্নর মা-কে কুপিয়ে হত্যা করে পেশায় সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার অভিযুক্ত অম্রুতা চন্দ্রশেখর (৩৩)। এরপরে নিজের ছোটভাই হরিশকেও (৩০) ছুরির আঘাতে সে রক্তাক্ত করে। এরপর বন্ধু শ্রীধর রাওয়ের সঙ্গে আন্দামানের বিমান ধরে অম্রুতা।

মা-কে কুপিয়ে খুন ও ছোটভাইকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে বন্ধুর সঙ্গে আন্দামান ও নিকোবর দীপপুঞ্জে উড়ে গিয়েও পুলিশের হাত এড়াতে ব্যর্থ বেঙ্গালুরুর যুবতী। বুধবার পোর্ট ব্লেয়ার থেকে তাকে সঙ্গী-সহ গ্রেফতার করা হয়েছে।

টি নগর থানার পুলিশ জানিয়েছে, গত সোমবার ছুরি দিয়ে বছর বাহান্নর মা-কে কুপিয়ে হত্যা করে পেশায় সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার অভিযুক্ত অম্রুতা চন্দ্রশেখর (৩৩)। এরপরে নিজের ছোটভাই হরিশকেও (৩০) ছুরির আঘাতে সে রক্তাক্ত করে।

পরিবারের দুই সদস্যকে গুরুতর জখম করার পরে আগে থেকে গুছোনো স্যুটকেস নিয়ে বন্ধু শ্রীধর রাওয়ের মোটরবাইকে চেপে ভোরবেলা বাড়ি ছাড়ে অম্রুতা। আগেই বিমানের টিকিট কেটে রাখা ছিল, সেই অনুযায়ী সকাল ৬.৩০-এর বিমানে তারা আন্দামানের উদ্দেশে রওনা দেয়।

এ দিকে রক্তাক্ত হরিশ ফোন করে আত্মীয়দের খবর দিলে তাঁরা বাড়িতে এসে পৌঁছন। তাঁরাই পুলিশকে ফোন করে ডেকে আনেন এবং হরিশকে হাসপাতালে ভরতি করেন।

পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ানে পেশায় প্রযুক্তিবিদ হরিশ জানিয়েছেন, তাঁকে কর্মসূত্রে হায়দরাবাদে বদলি করা হতে পারে বলে বাড়িতে জানিয়েছিল অম্রুতা। ঘটনার দিন ভোর চারটে নাগাদ আলমারি হাতড়ে কিছু খুঁজতে দেখে দিদিকে সাহায্যের প্রস্তাব দেন হরিশ। কিন্তু তাতে সাড়া দেয়নি অম্রুতা।

কিছু ক্ষণ পরে আচমকা সে ভাইয়ের উপরে ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে কোপ বসাতে থাকে। চেঁচিয়ে উঠলে পাশের ঘর থেকে ছুটে আসেন তাদের মা। তখন মাকেও ছুরি নিয়ে আঘাত করতে থাকে ওই যুবতী। বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার আগে লোহার রড দিয়ে তাঁকে আঘাত করে বলে দিদির নামে অভিযোগ করেছেন হরিশ।

তিনি আরও জানিয়েছেন, পরিবারের মাথার উপরে ১৫ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। এই নিয়ে প্রায়ই অপমানিত হতে হয় বলে অভিযোগ করেছিল অম্রুতা।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, দুই দিন আগেই আন্দামানে যাওয়ার বিমানটিকিট কেটেছিল অম্রুতা ও তার বন্ধু শ্রীধর। এরপর তল্লাশি চালিয়ে পোর্ট ব্লেয়ার থেকে গ্রেফতার করা হয় যুগলকে। কোন উদ্দেশে এমন বেপরোয়া সিদ্ধান্ত নিল যুবতী, তার সন্ধান পেতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

বন্ধ করুন