বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > Bihar Assembly Election Results 2020: বাতিল পোস্টাল ব্যালটের থেকে জয়ের মার্জিন কম হলে পুনর্গণনা,RJD-র অভিযোগ ওড়াল কমিশন
নির্বাচন কমিশনের বাইরে আরজেডি এবং কংগ্রেস নেতারা (ছবি সৌজন্য পিটিআই)
নির্বাচন কমিশনের বাইরে আরজেডি এবং কংগ্রেস নেতারা (ছবি সৌজন্য পিটিআই)

Bihar Assembly Election Results 2020: বাতিল পোস্টাল ব্যালটের থেকে জয়ের মার্জিন কম হলে পুনর্গণনা,RJD-র অভিযোগ ওড়াল কমিশন

  • রিটার্নিং অফিসাররা নাকি জয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দনও জানিয়েছিলেন।

এমনিতে পুনর্গণনা হবে না। শুধু যেখানে বাতিল পোস্টাল ব্যালটের তুলনায় জয়ের ব্যবধান কম হবে, সেখানে পুনরায় গণনা হবে। এমনটাই জানাল নির্বাচন কমিশন। 

বিহারের তিনটি বিধানসভায় পরাজয়ের ব্যবধান কম হওয়ায় পুনরায় গণনার দাবি তুলেছিল সিপিআই-এমএল। তার পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের তরফে বলা হয়, ‘যেখানে গণনার সময় অবৈধ হিসেবে পোস্টাল ব্যালটকে বাতিল করে দেওয়ার সংখ্যার তুলনায় জয়ের ব্যবধান কম, সেখানে রিটার্নিং অফিসারকে বাধ্যতামূলকভাবে প্রতিটি পোস্টাল ব্যালটকে আবারও যাচাই করতে হবে। যেখানে সেই যাচাই প্রক্রিয়া চলছে, সেখানে কমিশনের নির্দেশিকার ভিত্তিতে পুরো প্রক্রিয়াটির ভিডিয়ো করতে হবে।’

অন্যদিকে, বিহারের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের ফোনের পর 'মহাগঠবন্ধন'-এর আসন সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে যে অভিযোগ করা হয়েছিল, তাও খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সেক্রেটারি-জেনারেল উমেশ সিনহা সাফ বলেন, ‘কারও চাপে কোনওদিন কাজ করেনি নির্বাচন কমিশন। বিহারের বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার জন্য সব আধিকারিকরা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।’ 

বিহার বিধানসভা ভোট ফলাফল লাইভ আপডেট দেখুন এখানে

মঙ্গলবার সারাদিন হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর শেষ ল্যাপে সামান্য লিড ধরে রেখেছে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ। আপাতত যে পরিসংখ্যান মিলছে, তাতে ১১০ টি আসনে জিতেছেন 'মহাগঠবন্ধন'-এর প্রার্থীরা। এনডিএ জোটের ঝুলিতে ইতিমধ্যে ১২৩ টি আসন এসেছে। একটি আসনে এগিয়ে আছেন এনডিএ প্রার্থী।

তারইমধ্যে আরজেডির তরফে অভিযোগ করা হয়, ১০৯ টি নয়, ১১৯ টি আসনে জিতেছে 'মহাগঠবন্ধন'। কিন্তু নীতিশের ফোনের পর সেই ফল পালটে দেওয়া হয়েছে। ‘জয়ী’ প্রার্থীদের একটি তালিকাও প্রকাশ করেছে তেজস্বী যাদবের দল। টুইটারে বলা হয়, 'গণনা শেষের পর মহাগঠবন্ধনের ১১৯ জন জয়ী প্রার্থীর তালিকা এটা। জয়ের জন্য তাঁদের অভিনন্দনও জানিয়েছিলেন রিটার্নিং অফিসার। কিন্তু তাঁরা হেরে গিয়েছেন বলে এখন শংসাপত্র দেওয়া হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে তাঁদের নামের পাশে জয়ী দেখানো হচ্ছে। গণতন্ত্রে এরকম লুঠতরাজ চলে না।'

আরজেডির অভিযোগ, বিহারের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর অঙ্গুলিহেলনে পুরো বিষয়টি হয়েছে। ফোন করে তিনি আধিকারিকদের প্রভাবিত করেছেন বলে আরেজডির তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে। টুইটারে আরজেডির তরফে বলা হয়েছে, '১১৯ টি আসন জয়ের পর টিভিতে ১০৯ দেখানো হচ্ছে। নীতিশ কুমার সব আধিকারিকদের ফোন করে রিগিং করছেন। চূড়ান্ত ফল আসার পর যে আধিকারিকরা অভিনন্দন জানিয়েছিলেন, তাঁরাই হঠাৎ বলছেন যে আপনারা হেরে গিয়েছেন।'

আরজেডির পর বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে কংগ্রেসও। দলের জাতীয় মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেন, 'এখন রাজাপাকর এবং বৈশালীর কংগ্রেস প্রার্থী প্রতিমা কুমার দাস জানান যে গণনার পর তিনি ১,৭২০ ভোটে জিতেছিলেন। কিন্তু জেলাশাসক জয়ের শংসাপত্র দিতে অস্বীকার করছেন। এটা গণতন্ত্রের রীতি তো নয়, আইনিভাবেও বৈধ নয়। নির্বাচন কমিশন কোথায়?'

আরজেডি এবং কংগ্রেসের রাজ্য নেতৃত্ব ইতিমধ্যে সে বিষয়ে তৎপর হয়েছে। নীতিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর জন্য নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে যায় আরজেডি এবং কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল। সেখান থেকে বেরিয়ে আরজেডি নেতা মনোজ ঝা বলেন, ‘আমাদের অভিযোগগুলি সমাধানের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আমরা নির্বাচন কমিশনকে ভরসা করলেও জেলা প্রশাসনকেও ভরসা করি না।’

পরে সাংবাদিক বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়, যে সময় সেই অভিযোগ করা হয়েছে, তখন অত সংখ্যক আসনের ফল ঘোষণা করা হয়নি। একইসঙ্গে  গণনা সংক্রান্ত তথ্য জনসমক্ষেই আছে বলে জানানো হয়।

বন্ধ করুন