বাড়ি > ঘরে বাইরে > ভ্যাক্সিন দিয়ে মানবদেহে মাইক্রোচিপস ঢোকাবেন বিল গেটস, গুজবে তোলপাড় নেট দুনিয়া
রাশিয়ার দাবি, করোনা ভ্যাক্সিনের সাহায্যে মানবদেহে মাইক্রোচিপস ঢুকিয়ে ডিএনএ ঘেঁটে দেওয়ার ফন্দি এঁটেছেন মার্কিন ধনকুবের বিল গেটস।
রাশিয়ার দাবি, করোনা ভ্যাক্সিনের সাহায্যে মানবদেহে মাইক্রোচিপস ঢুকিয়ে ডিএনএ ঘেঁটে দেওয়ার ফন্দি এঁটেছেন মার্কিন ধনকুবের বিল গেটস।

ভ্যাক্সিন দিয়ে মানবদেহে মাইক্রোচিপস ঢোকাবেন বিল গেটস, গুজবে তোলপাড় নেট দুনিয়া

  • গত এপ্রিল মাসের সাক্ষাৎকারে বিল গেটস-এর উক্তি বলে যা প্রচার করা হচ্ছে, তা মিথ্যা।

ভ্যাক্সিনের সাহায্যে মানবদেহে মাইক্রোচিপ ঢুকিয়ে ডিএনএ ঘেঁটে দেওয়ার ফন্দি এঁটেছেন মার্কিন ধনকুবের বিল গেটস। রাশিয়া থেকে ছড়ানো এই গুজবে সম্প্রতি তোলপাড় হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া।

বিশ্বজুড়ে করোনা আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা সেমন লাফিয়ে বাড়ছে, তেমনই সোশ্যাল মিডিয়ায় লাগামছাড়া ছুটছে গুজবের ঘোড়া। সম্প্রতি এমনই এক গুজবের নিশানায় পড়েছেন মার্কিন ধনপতি তথা মাইক্রোসফ্ট-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। অভিযোগ ওঠে, এক সাক্ষাৎকারে না কি তিনি বলেছেন, করোনাভাইরাস ভ্যাক্সিনের নেতিবাচক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার শিকার হবেন ৭ লাখ মানুষ। কিছু কিছু পোস্টে আবার দাবি করা হয় যে, ভ্যাক্সিন প্রয়োগের ফলে ৭ লাখ মানুষ মারা যাবেন বলেছেন গেটস। পরে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন-এর তরফে জানানো হয়, এই উক্তি একেবারেই মনগড়া। 

ফাউন্ডেশন-এর তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, গত এপ্রিল মাসের ওই সাক্ষাৎকারে বিল টস-এর উক্তি বলে যা প্রচার করা হচ্ছে, তা মিথ্যা। বলা হয়, ‘মজবুত বিজ্ঞানভিত্তিক সাক্ষ্যের দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, ভ্যাক্সিন মাত্রেই নিরাপদ এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিহত করায় তার সাফল্য ইতিপূর্বে প্রমাণিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করছেন যে, বেশ কিছু মানুষের উপরে সফল পরীক্ষার পরে তার নিরাপত্তা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরে অতিমারীর অবসান ঘটাতে Covid-19 ভ্যাক্সিন অত্যন্ত হওয়া জরুরি।’

এ ছাড়াও গেটস-এর বিরুদ্ধে গত মে মাসে মারাত্মক অভিযোগ আনেন রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য গেন্নাদি জ্যিউগানভ। একটি রুশ পত্রিকায় লেখা তাঁর নিবন্ধে জ্যিউগানভ দাবি করেন, Covid-19 ভ্যাক্সিনের সাহায্যে মানবদেহে মাইক্রোচিপস ঢুকিয়ে ডিএনএ-র গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন ঘটানোর পরিকল্পনা করেছেন কোটিপতি প্রযুক্তিবিদ। আগুপিছু যাচাই না করে রাশিয়ার প্রচার করা এই গুজব নিয়ে নেট দুনিয়ায় হইচই পড়ে গিয়েছে। 

ঘটনা হল, গেটস ও তাঁর স্ত্রী মেলিন্ডার নেতৃত্বে থাকা একটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যে করোনা সংক্রমণের প্রতিষেধক তৈরির জন্য গত কয়েক মাস যাবৎ চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই প্রকল্পেল তাঁরা ইতিমধ্যে ১০ কোটি ডলার ব্যয় করেছেন। তার সঙ্গে মাইক্রোচিপস-এর দূরতম সম্পর্ক নেই। 

শুধু তাঁরাই নন, বিশ্বজুড়ে কোভিড প্রতিষেধক তৈরির উদ্দেশে চলেছে নিরন্তর গবেষণা। কিন্তু আসল তথ্য না জেনেই তাই নিয়ে ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামে ঝুড়ি ঝুড়ি ভুয়ো বার্তা ও গুজব রটানো চলেছে। তার হাত থেকে রেহাই পায়নি ভারতও। অতিমারীর জেরে দেশব্যাপী আরোপিত লকডাউন-এর প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারি ত্রাণ তহবিলে দানের আবেদন প্রচার হতে শুরু করে। ওই সমস্ত প্রচারে ব্যবহার করা হয় ভুয়ো অ্যাকাউন্ট। অনেকে সেই ফাঁদের পা দিয়ে আর্থিক প্রতারণার শিকারও হয়েছেন। 

এ ছাড়া, কী ভাবে করোনা সংক্রমণ থেকে নিষ্কৃতি মেলে এবং কোভিড সারানোর বিবিধ টোটকায় ছেয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়া। পরিস্থিতি সামলাতে টুইটারে বিশেষ সত্যানুসন্ধানী হ্যান্ডেল চালু করে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রেস ইনফর্মেশন ব্যুরো। প্রতিদিন ওই হ্যান্ডেলে একাধিক ভুয়ো পোস্ট বাতিল করার পাশাপাশি সে সম্পর্কে সতর্কতামূলক প্রচার করা হচ্ছে। তবু কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না গুজবের ঢেউ।

 

বন্ধ করুন