বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > বিপ্লব দেবের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন সুদীপ, ফেসবুক পোস্টে তুলোধনা চরমে
সুদীপ রায় বর্মন
সুদীপ রায় বর্মন

বিপ্লব দেবের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন সুদীপ, ফেসবুক পোস্টে তুলোধনা চরমে

  • সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন সেই ক্ষোভের কথা। উত্তর–পূর্বের এই রাজ্যের রাজনীতিতে বিপ্লব–সুদীপ দুই মেরুর বলেই পরিচিত।

ক্রমশ জটিল আবর্তে প্রবেশ করছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। এবার তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দাগলেন বিজেপির সিনিয়র বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ। তাঁকে আগে থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস দলে নিতে চায় বলে খবর। এবার এই তোপের পর ত্রিপুরায় বিজেপি ভাঙনের পথে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। সরকারি চাকরির পরীক্ষা নিয়ে বিপ্লব দেবের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন সেই ক্ষোভের কথা। উত্তর–পূর্বের এই রাজ্যের রাজনীতিতে বিপ্লব–সুদীপ দুই মেরুর বলেই পরিচিত।

এই ডামাডোল নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‌সরকারি চাকরির পরীক্ষা নিয়ে বিজেপি বিধায়ক সুদীপ বর্মণের পোস্ট। কী অবস্থা! মুখ্যমন্ত্রীকে জরুরি বিষয় বলার সুযোগ দলের সিনিয়র বিধায়কেরই নেই। পোস্ট করতে হয়।’‌ এই পরিস্থিতি নিয়ে গোটা ত্রিপুরায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যদিও বিপ্লব দেব এই নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি।

কী লিখেছেন সুদীপ রায় বর্মণ?‌ ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘‌সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণের জন্য ত্রিপুরা জয়েন্ট রিক্রুটমেন্ট বোর্ড সম্প্রতি গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি পদে যে উদ্যোগ নিয়েছে তার বিধিমালা নিয়ে পরীক্ষার্থী মহলে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠায় পরীক্ষার স্বচ্ছতা প্রশ্নচিহ্নের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি চাকরির ক্ষেত্রে স্থানীয় ভাষা হিসেবে বাংলা ও ককবরক বাধ্যতামূলক হওয়া যুক্তিসঙ্গত, তবে কোনভাবেই ইংরেজি স্থানীয় ভাষার মর্যাদা পেতে পারে না।’‌

তিনি আরও লেখেন, ‘‌দ্বিতীয়ত, অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে সিলেবাস নির্দিষ্ট করা থাকলেও সাধারণ জ্ঞানের ক্ষেত্রে সিলেবাসের কোন পরিসীমা নির্দিষ্ট করা নেই, কিংবা ত্রিপুরা বিষয়ক কোন কিছুই নির্ধারিত নেই, যা নিঃসন্দেহে অযৌক্তিক। তৃতীয়ত, এই সমস্ত চাকরির ক্ষেত্রে স্থানীয়দের অধিকার নিশ্চিত করতে পি আর সি বাধ্যতামূলক হয়, কিন্তু এক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে যা অবশ্যই অনাকাঙ্ক্ষিত। সবশেষে, বিশেষ করে গ্রুপ ডি চাকুরির ক্ষেত্রে আমাদের রাজ্যে কখনওই বহিঃরাজ্যের প্রার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল না এবং লিখিত পরীক্ষাও কোনদিন হয়নি। কারণ, এই অংশের চাকুরী প্রার্থীরা অধিকাংশই সার্বিকভাবে দূর্বল হয়। কিন্তু এবারই এর ব্যতিক্রম হল, তবে কার স্বার্থে কেন হল, জানার অধিকার রাজ্যবাসীর রয়েছে। এই সার্বিক প্রেক্ষাপটে আমি উল্লেখিত পরীক্ষা কর্মসূচি বাতিল করার জন্য ফের আরেকবার সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি এবং গোটা বিষটির তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।’‌

বন্ধ করুন