বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > লকডাউনের অজুহাতে শ্রমিক সুরক্ষায় কাঁটছাঁট দুই বিজেপি রাজ্যে, ক্ষুব্ধ সংঘ পরিবার
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

লকডাউনের অজুহাতে শ্রমিক সুরক্ষায় কাঁটছাঁট দুই বিজেপি রাজ্যে, ক্ষুব্ধ সংঘ পরিবার

কড়া প্রতিক্রিয়া আরএসএস-এর মজদুর সংগঠন বিএমএস-এর। 

শিল্পসংস্থাদের আকর্ষণ করার জন্য শ্রমিক আইন বদলেছে দুই বিজেপি রাজ্য। এতেই অখুশি রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের শ্রমিক শাখা ভারতীয় মজদুর সংঘ। তাদের অভিযোগ, এতে কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা কমে যাবে। মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশ সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে আগেই শুরু হয়েছিল বিতর্ক। এবার বিএমএস-এর এই মন্তব্যের পর আরও চাপে পড়বে দুই রাজ্য।

চলতি সপ্তাহে দুই সরকারই লেবার আইনে পরিবর্তন করেছে। এখন মধ্যপ্রদেশে বেশি সময় কাজ করানো যাবে শ্রমিকদের। একই সঙ্গে নতুন লগ্নিকারীদের জন্য ১০০০ দিনের ছাড় শ্রম আইন মানার ক্ষেত্রে। অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশের নয়া অধ্যাদেশ এনেছে। এর ফলে কার্যত সব শ্রমআইনই শিথিল করে দেওয়া হয়েছে আগামী তিন বছরের জন্য। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের ওপর সিদ্ধান্ত বদল করার জন্য চাপ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আরএসএস--এর শ্রমিক সংগঠন।

 সংগঠনের প্রধান সাজি নারায়ণ বলেছেন এটা সবচেয়ে খারাপ সময় শ্রম আইনে বদল আনার। যেখানে সবাই মিলে হাত লাগিয়ে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করা উচিত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করে, সেখানে এই সিদ্ধান্তের ফলে শ্রমিকরা আরও সহজেি চাকরি হারাবেন।

সারা দেশ জুড়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিস্থিতি সম্বন্ধে যা রিপোর্ট আসছে, তাতে এটা স্পষ্ট যে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছে সরকার ও মালিকপক্ষ, বলে জানান তিনি। শ্রমিক সুরক্ষায় একটি অভিন্ন আইন করার কথা বলেছেন তিনি। বিশাখাপত্তনমে গ্যাস লিকের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মধ্যপ্রদেশে তো অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র রাখাও আর বাধ্যতামূলক থাকল না। 

৫০টি শ্রমিকের কম কাজ করলে এখন থেকে সেখানে আর ইনস্পকেশন করা হবে না বলে জানিয়েছে মধ্যপ্রদেশ সরকার। প্রসঙ্গত বিভিন্ন রাজ্যের সরকার শ্রমআইন লঘু করছে যাতে বিদেশি সংস্থারা এসে লগ্নি করতে পারে। উত্তরপ্রদেশ সরকার তো অসংখ্য সংস্থার কাছে পৌঁছে গিয়েছে যারা চিন থেকে ব্যবসা সরিয়ে নিতে চায়। 

কিন্তু ভারতীয় মজদুর সংগঠনের মতে, আচমকা লগ্নির জন্য সমস্ত আইনকে বুড়ো আঙুল দেখালে চলবে না। সভ্য দেশে আইন মানতে হয়। কোনও ভাবেই সেগুলিকে লঘু করার পক্ষে নয় বিএমএস, বলে সংগঠনের প্রধান জানিয়েছেন। চিনের সঙ্গে লড়তে গিয়ে শ্রমিক সুরক্ষা জলাঞ্জলি দেওয়া যাবে না, বলেই দাবি তাঁর। 

মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশ সরকার যদিও নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেন এই সংস্কার বহুপ্রতীক্ষিত। রাজ্যের মানুষদের কর্মসংস্থান যাতে বাড়ে তার জন্যেই এই কাজ করা হয়েছে। 

অন্যদিকে উত্তর প্রদেশের মন্ত্রী সিদ্ধার্থ নাথ সিং বলেছেন শুধু অপ্রয়োজনীয় আইনগুলিই বাদ দেওয়া হয়েছে। গুজরাত ও গোয়ার বিজেপি সরকারও একই পথে হাঁটছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। কিন্তু এতে সায় নেই সংঘের। 

 

 

বন্ধ করুন