বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > দুর্গাপুজোয় উদ্ধার হয়েছিল বোমা, এবার খুলনার মন্দিরের 'জমি দখলের চেষ্টা'
দুর্গাপুজোয় উদ্ধার হয়েছিল বোমা, এবার খুলনার মন্দিরের 'জমি দখলের চেষ্টা' (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য মেহমুদ হোসেন অপু/এপি/পিকচার অ্যালায়েন্স/ডয়চে ভেলে)
দুর্গাপুজোয় উদ্ধার হয়েছিল বোমা, এবার খুলনার মন্দিরের 'জমি দখলের চেষ্টা' (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য মেহমুদ হোসেন অপু/এপি/পিকচার অ্যালায়েন্স/ডয়চে ভেলে)

দুর্গাপুজোয় উদ্ধার হয়েছিল বোমা, এবার খুলনার মন্দিরের 'জমি দখলের চেষ্টা'

  • দুর্গাপুজোর সময় খুলনার রূপসার মহাশ্মশান ঘাট মন্দির থেকে ১৮টি বোমা উদ্ধার করা হয়েছিল৷

দুর্গাপুজোর সময় খুলনার রূপসার মহাশ্মশান ঘাট মন্দির থেকে ১৮টি বোমা উদ্ধার করা হয়েছিল৷ এখন ওই মন্দিরের জমি দখলের তৎপরতা শুরুর অভিযোগ উঠেছে৷

তারা চিতার পাশেই বাঁশ পুঁতে জমি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন মন্দির সংশ্লিষ্টরা৷ কিছুদিন আগে চিতার পাশে মন্দিরের জমিতে একটি বাথরুম তৈরি করা হয়েছিল৷ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা ভাঙা সম্ভব হয়েছে৷ তবে মন্দিরের পূজারীদের উদ্বেগ তাতে কমেনি৷

১৮টি বোমার প্রসঙ্গে মহাশ্মশান ঘাট মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক রতন কুমার নাথ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘র‌্যাব নিজেরাই খবর পেয়ে মন্দিরের প্রধান গেট থেকে ১৮টি বোমা উদ্ধার করে৷ ওই ঘটনায় কারা জড়িত সে ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরে আর আমাদের কিছু জানানো হয়নি৷ আমরা শুনেছি, বোমাগুলো নাকি অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল৷'

বোমা উদ্ধার করা হলে তাদের মন থেকে আতঙ্ক এখনো দূর হয়নি বলে জানালেন তিনি, ‘এখন নতুন করে কয়েকদিন আগে মহাশ্মশানের চিতার পাশে রাতের আঁধারে কে বা কারা কিছু বাঁশ পুঁতে রেখে গেছে৷ এটা মন্দিরের জমি দখলের তৎপরতা বলেই আমাদের মনে হচ্ছে৷ আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি৷ তারা বলেছে, কালীপুজোর পরে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে৷ এর কিছুদিন আগে চিতার পাশেই একটি বাথরুম তৈরি করেছিল পাশের বাসিন্দারা৷ বিষয়টি প্রশাসনকে জানানোর পর তারা ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে এসে উচ্ছেদ করে দিয়েছে৷ সবকিছু মিলিয়ে খুলনা শহরের অন্যতম বড় এই মন্দিরটিকে ঘিরে এক ধরনের তৎপরতা চলছে বলেই আমাদের মনে হচ্ছে৷'

দুর্গাপুজোর নবমীর দিন, অর্থাৎ গত ১৪ অক্টোবর বিকেলে খবর পেয়ে র‌্যাব বোমাগুলো উদ্ধার করে৷ একটি কাগজের প্যাকেটে ১৬টি এবং খোলা অবস্থায় দুটি বোমা উদ্ধার করা হয়৷ সেগুলো ছিল হাতে তৈরি দেশীয় বোমা৷ ওই রাতেই রূপসা নদীর তীরে ইকোপার্কের পাশে সেগুলি নিষ্ক্রিয় করা হয়৷

র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোসতাক আহমেদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘বোমা উদ্ধারের ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি৷ আমরা তদন্ত অব্যাহত রেখেছি৷' কারা, কী উদ্দেশ্যে এই বোমা রেখেছিল তা এখনও জানা গিয়েছে যে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এখনেও তো তদন্ত পর্যায়ে আছে, ফলে ধারণা করে কিছু বলা ঠিক হবে না৷ তবে ওই সময় দেশকে অস্থিতিশীল করতে কিছু তৎপরতা শুরু হয়েছিল, এটা তারই অংশ হতে পারে বলে আমাদের ধারণা৷’

বোমা উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ কোনেও তদন্ত করছে কিনা জানতে চাইলে খুলনা মেট্টোপলিটন পুলিশের সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান আল মামুন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘ওই বোমা উদ্ধারের ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল৷ র‌্যাবের পাশাপাশি পুলিশও এই ঘটনার তদন্ত করছে৷ তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি৷ এমনকি কী উদ্দেশ্যে সেখানে বোমা রাখা হয়েছিল, সেটাও বের করা যায়নি৷' জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, 'কেউ যদি মন্দিরের জমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা করতে চায়, সেটা পারবে না৷ আমরা দ্রুতই সেটা অপসারণ করে দেবে৷’

সাতক্ষীরার মন্দিরের পাশে বোমা বিস্ফোরণ, ৭০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর দুর্গাপুজো মণ্ডপের পাশে ২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর রাত ১১ টার দিকে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে৷ পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি তাজা বোমা উদ্ধার করে৷ স্থানীয় লোকজন তখন জানিয়েছিলেন, রাতে সবাই কাজ শেষ করে বাড়ি গেলে বাজার জনশূন্য হয়ে যায়৷ তখন হঠাৎ বিকট শব্দে মণ্ডপের পাশে ২/৩ টা বোমা বিস্ফোরিত হয়৷ তাৎক্ষণিকভাবে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে চিৎকার করে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা কয়েকটি তাজা বোমা ফেলে পালিয়ে যায়৷ পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বোমাগুলো উদ্ধার করে৷ সেই সময় খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দারও ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন৷

ওই ঘটনায় পুলিশ পরে তিনজনকে গ্রেফতার করে৷ শ্যামনগর থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজি ওয়াহিদ মোর্শেদ পুরনো ফাইল ঘেঁটে তথ্য যাচাই করে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘ওই বোমা হামলার ঘটনায় পরের বছরই পুলিশ ৭০ জনের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছিল৷ তবে বিচার শুরু হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে আমরা কিছু জানি না৷' কী উদ্দেশ্যে ওই হামলা হয়েছিল, জানতে চাইলে ওসি বলেন, 'চার্জশিটের কপি তো আর থানায় থাকে না, আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে৷ ফলে উদ্দেশ্যের বিষয়টা চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছিল৷’

দিনাজপুরে ইস্কন মন্দিরে বোমা হামলা, গুলি, ৯ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট

২০১৫ সালের ১১ ডিসেম্বর দিনাজপুরের ইস্কন মন্দিরে ধর্মীয় সভা চলার সময় বোমা হামলা ও গুলি চালায় একদল সন্ত্রাসী৷ তখন মন্দিরে থাকা দুই ব্যক্তি আহত হন৷ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ৷

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, রাত সাড়ে ৮ টায় দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ১ নম্বর ডাবোর ইউনিয়ন পরিষদের জয়নন্দ দহচি গ্রামের ইস্কন মন্দিরে ধর্মীয় সভা চলার সময় অজ্ঞাতপরিচয় তিন যুবক এসে প্রথমে দু'টি গুলি ছোঁড়ে৷ এর পরপরই দু'টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তারা দ্রুত চলে যায়৷ এতে দুই ব্যক্তি আহত হন৷ তারা হলেন, কাহারোল উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের দ্বিজেন চন্দ্র রায়ের ছেলে মিঠুন (২৩) ও বোচাগঞ্জ উপজেলার ইসানিয়া গ্রামের রেবতি চন্দ্র রায়ের ছেলে রনজিৎ রায় (৪৫)৷ এই সময় উপস্থিত লোকজন শরিফুল ইসলাম নামের একজনকে একটি ব্যাগ-সহ আটক করে৷ স্থানীয়দের ধারণা, ওই ব্যাগে করে বোমাগুলো আনা হয়েছিল৷ পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ওই যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়৷ পরে এই ঘটনায় কাহারোল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়৷

কাহারোল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রইচউদ্দিন দুই মাস আগে থানায় যোগ দিয়েছেন৷ এই ঘটনাটির সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে তিনি পুরনো নথি দেখে ডয়চে ভেলেকে বলেন,  ‘এই ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি ৯ জনকে অভিযুক্ত করে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে৷ এর মধ্যে গ্রেফতার হওয়া যুবক শরিফুল ইসলামও ছিলেন৷’ তবে বিচার শুরু হয়েছে কিনা, তিনি বলতে পারেননি৷

এই ঘটনার ঠিক কয়েকদিন আগে ৫ ডিসেম্বর রাতে দিনাজপুরের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব কান্তজিউ মন্দিরের রাস মেলার যাত্রা মঞ্চে সন্ত্রাসীরা বোমা হামলা চালায়৷ বোমার স্প্লিন্টারে ১০ জন আহত হন৷ পরে প্রশাসন মেলায় যাত্রার আসর নিষিদ্ধ ঘোষণা করে৷ এই ঘটনায় কাহারোল থানায় একটা মামলা হয়েছিল৷ এই মামলাটিতেও ২০১৬ সালের ৩০ জুন নয়জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি রইচউদ্দিন৷

(বিশেষ দ্রষ্টব্য : প্রতিবেদনটি ডয়চে ভেলে থেকে নেওয়া হয়েছে। সেই প্রতিবেদনই তুলে ধরা হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার কোনও প্রতিনিধি এই প্রতিবেদন লেখেননি।)

বন্ধ করুন