বাড়ি > ঘরে বাইরে > ‘বয়কট আমূল’ বনাম ‘লাভ ইউ আমূল’, কী কারণে বাগযুদ্ধে জড়ালেন নেটিজেনরা?
‘বয়কট আমূল’ বনাম ‘লাভ ইউ আমূল’, চলছে বিতর্ক (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য ফেসবুক)
‘বয়কট আমূল’ বনাম ‘লাভ ইউ আমূল’, চলছে বিতর্ক (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য ফেসবুক)

‘বয়কট আমূল’ বনাম ‘লাভ ইউ আমূল’, কী কারণে বাগযুদ্ধে জড়ালেন নেটিজেনরা?

  • আমূলের ‘ইসলাম বিরোধী’ মনোভাব নিয়ে সরব হয়েছেন নেটিজেনদের একাংশ।

একটি অনুষ্ঠানে স্পনসর হওয়া ঘিরে বিতর্কের মুখে জড়াল আমূল। আর তা নিয়ে রীতিমতো উত্তাল হল টুইটার। একদিকে ট্রেন্ড হল '#বয়কট আমূল', অন্যদিকে একদল নেটিজেন আবার আমূলের সমর্থনে এগিয়ে এসে '#লাভ ইউ আমূল' ট্রেন্ড করলেন।

কিন্তু কীভাবে সেই বিতর্কের সূত্রপাত? সম্প্রতি সুদর্শন টিভি নামে বেসরকারি চ্যানেলে বিতর্কিত অনুষ্ঠান 'বিন্দাস বল'-এর প্রোমোতে দাবি করা হয়, 'সরকারি চাকরিতে (সিভিল সার্ভিস) মুসলিমদের অনুপ্রবেশ করানোর চক্রান্তে ফাঁস' হয়েছে। গত ২৫ অগস্ট প্রোমো সামনে আসার থেকে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। অনুষ্ঠানের কড়া নিন্দা করেন উচচপদস্থ আমলারা।

শনিবার রাত আটটার সময় অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারের কথা ছিল। তার আগেই অবশ্য চ্যানেলের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করেন জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন পড়ুয়ারা। তাঁরা দাবি করেন, জামিয়া ও মুসলিম সম্প্রদায়কে কালিমালিপ্ত করা এবং ঘৃণা ছড়ানোর জন্য সেই অনুষ্ঠান করা হয়েছে। সেই মামলার অন্তর্বর্তীকালীন রায়ে অনুষ্ঠান সম্প্রচারের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপায় দিল্লি হাইকোর্ট। 

এক আইনজীবীকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা সাতটার পর সম্প্রচারের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টে যান সুদর্শন টিভি এডিটর-ইন-চিফ। যদিও অনুষ্ঠানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলেননি বিচারপতি নবীন চাওলা। সুদর্শন চ্যানেলের তরফে হাইকোর্টে জানানো হয়, অপর একটি পিটিশনে অনুষ্ঠান সম্প্রচারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা চাপায়নি সুপ্রিম কোর্ট। মামলার সঙ্গে জড়িত এক আইনজীবী পিটিআইকে জানিয়েছেন, চ্যানেল কর্তৃপক্ষকে আগে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের নোটিশের উত্তর দিতে বলেন বিচারপতি। একাধিক অভিযোগ পাওয়ার সেই নোটিশ পাঠিয়েছিল মন্ত্রক।

সেই আইনি জটিলতার মধ্যে শনিবার দুপুরে একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হয়, বিতর্কিত অনুষ্ঠানের স্পনসরের তালিকায় আছে উত্তরপ্রদেশ সরকার, আমূল-সহ আরও কয়েকটি সংস্থা। তারপর থেকেই আমূলের ‘ইসলাম বিরোধী’ মনোভাব নিয়ে সরব হয়েছেন নেটিজেনদের একাংশ। টুইটারে '#বয়কট আমূল' ট্রেন্ডিং হয়। অনেকেই মন্তব্য করেন, আমূলের থেকে এই ধরনের কাজ আশা করা যায় না। পালটা হিসেবে অনেকে আবার আমূলের সমর্থনে মুখ খোলেন। '#লাভ ইউ আমূল' ট্রেন্ড শুরু করেন তাঁরা। 

তবে বিষয়টি নিয়ে আমূলের তরফে সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। টুইটারে অবশ্য সেই ট্রেন্ড ও পাল্টা ট্রেন্ড রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কদর্ষ ভাষায় চলছে ব্যক্তিগত আক্রমণ।

বন্ধ করুন