ব্রাজিলিয়ান অভিনেত্রী রঞ্চি এলিসা স্যাঞ্চেস এবার নির্বাচনে লড়তে চলেছেন। কোথায়? ব্রাজিলেই। তিনি আসন্ন নির্বাচনে বামপন্থীদের হয়ে, অর্থাৎ ডেমোক্রেটিক লেবর পার্টির হয়ে নির্বাচনে লড়াই করবেন। ২০২২ এরই মার্চ মাসে তিনি যে নির্বাচনে লড়াই করতে চলেছেন সেই বিষয়ে আভাস দিয়েছিলেন। তখনই অনেকের চোখে লেগেছিল বিষয়টা।
এবার সত্যি ব্রাজিলের বামপন্থী দল ডেমোক্রেটিক লেবর পার্টি তাঁকে রিও ডি জেনিরোর চেম্বার অফ ডেপুটিজ পদের জন্য প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে। প্রার্থী হিসেবে রঞ্চি এলিসা স্যাঞ্চেসের নাম ঘোষণা হতেই তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি ভোটে জিতলে সবার আগে মহিলাদের উন্নতি এবং অধিকারের উপর সব থেকে বেশি জোর দেবেন।
কয়েক বছর আগেই এলিসা ‘প্রাপ্তবয়স্ক’দের ছবির ইন্ডাস্ট্রি থেকে বিদায় নিয়েছেন, বর্তমানে তাঁর বয়স হল ৪১। এলিসা বর্তমানে আ কাসা দাস ব্রেজিলেইরিনহাস নামক একটি যৌন উত্তেজক রিয়েলিটি শোয়ের সঞ্চালনা করছেন। তবে একটি বিষয় বলে রাখা ভালো, তাঁর সঙ্গে ডেমোক্রেটিক লেবর পার্টির যোগাযোগ বহুদিনের। এলিসাকে বামপন্থী আন্দোলনে অনুপ্রাণিত করেন গ্যাব্রিয়েলা লেইট নামক এক বামপন্থী নেত্রী। এলিসা গত বছরেই আনুষ্ঠানিক ভাবে এই দলে যোগ দেন।
এলিসা জানিয়েছেন তিনি আগামীদিনে যৌনকর্মীদের জন্য কাজ করতে চান। আর প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা হওয়ার পরেই তিনি প্রচার শুরু করে দিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে তিনি একটি পোস্টে লিখেছেন তিনি রিও ডি জেনিরোর ফেডারেল ডেপুটি পদের জন্য লড়াই করছেন। তিনি যদি এই নির্বাচনে জয়লাভ করেন তাহলে তিনি আগামীদিনে স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, স্বাধীনতা, উন্নয়ন, ইত্যাদি বিষয়গুলোর দিকে বিশেষ নজর দেবেন। তাঁর এই পদে জয়লাভ করার মূল উদ্দেশ্য হল মহিলাদের জন্য লড়াই করা এবং যে কোনও পরিস্থিতিতে তাঁদের পাশে থাকা। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন যে তিনি এমন আইন আনতে চান যা যৌনকর্মীদের অবস্থার উন্নতি ঘটাবে।
যদিও এই প্রথমবার তিনি কোনও নির্বাচনে লড়াই করতে চলেছেন, তবুও তিনি তাঁর জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত। রঞ্চি এলিসা স্যাঞ্চেস দাবি করেন যে তিনিই নাকি ব্রাজিলের সব থেকে বেশি সার্চ হওয়া ‘প্রাপ্তবয়স্ক’দের ছবির অভিনেত্রী। ৭ লাখ ৭৭ হাজারেরও বেশি ফলোয়ার তাঁর ইনস্টাগ্রামে। এবং টুইটারে এই সংখ্যাটা হল ৪ লাখ ৪৩ হাজার। তিনি প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পরেই ব্রাজিলের সুপিরিয়র ইলেক্টোরাল কোর্টে নিজের সম্পত্তির হিসেব পেশ করেছেন। বর্তমানে তাঁর ব্যাংকে জমা আছে প্রায় দেড় লাখ মতো টাকা।