বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরবে গিয়ে ক্যাম্পবন্দি জীবন
স্বপ্নের সৌদি আরবে ক্যাম্পবন্দি জীবন। ছবি ডয়চে ভেল

পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরবে গিয়ে ক্যাম্পবন্দি জীবন

  • একই কোম্পানির মাধ্যমে গত ৭ জুলাই সৌদি আরব গেছেন মুজিবর রহমান৷ তাকেও কোনও কাজ দেওয়া হয়নি৷ ক্যাম্পেই খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তার৷ বিষয়টি পরিবারকে জানালে তার কাকাতো বোন তাফসিনা ইয়াসমিন যোগাযোগ শুরু করেন৷

বিদেশে গেলেই ভাগ্যের পরিবর্তন হবে৷ ধরা দেবে স্বপ্নের সোনার হরিণ৷ এমন আশায় বিদেশে গিয়ে কারও কারও জীবন বন্দি ক্যাম্পের চার দেওয়ালের মধ্যে৷ সম্প্রতি সৌদি আরবে গিয়ে এমন অভিজ্ঞতায় পড়েছেন অনেক বাংলাদেশি৷ ক্যাম্পের মধ্যেই কাটছে তাদের দিন-রাত্রি৷ ব্র্যাকের হিসাব অনুযায়ী, গত ছয় মাসে ৩২ হাজারের বেশি মানুষ সৌদি আরব থেকে ফেরত এসেছেন৷

চুয়াডাঙ্গার ওসমান আলী ভাগ্য বদলের আশায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে গিয়েছেন সৌদি আরব৷ সোমবার তার ছয় মাসের ভিসার মেয়াদ শেষ হচ্ছে৷ এখনও যোগ দিতে পারেননি কাজে৷ ক্যাম্পের মধ্যেই কাটছে তার সময়৷ মাঝে কয়েকদিন সুইপারের কাজ করলেও পেয়েছেন পাঁচ-ছয়শ রিয়াল৷ ডয়চে ভেলের কাছে ক্যাম্পবন্দি জীবনের কথা বলতে গিয়ে ওসমান বলছিলেন, 'কখনও খেয়ে, কখনও না খেয়ে দিন কাটছে৷ খুবই কষ্টে আছি ভাই৷ কেউ না দেখলে বুঝবে না কতটা কষ্টে কাটছে দিন৷ আমাদের ক্যাম্পে দুইশ' জনের মতো বাংলাদেশি আছেন৷ যখন এখানে আর ধরে না তখন কাউকে কাউকে অন্য ক্যাম্পে নিয়ে যায়৷ এদের অনেকগুলো ক্যাম্প আছে৷ কেউ ছয় মাস, কেউ আট মাস, কেউবা চার-পাঁচ মাস ধরে আছেন৷ কাজ জুটছে না৷ এত টাকা খরচ করে বিদেশে গিয়ে কিভাবে খালি হাতে ফিরব? ভাই আমরা অনেক কষ্টে আছি৷'

ক্যাম্প থেকে মুক্ত হতেও লাগে টাকা

সৌদি আরবে এই শ্রমিকদের পাঠিয়েছে ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি রিক্রুটিং এজেন্সি৷ চার লাখ টাকা দিয়ে চার মাস আগে সৌদি আরব গেছেন গাজীপুরের কোনাবাড়ির নজরুল ইসলাম৷ তার স্ত্রী পারভীন আক্তার একটি গার্মেন্টে চাকরি করেন৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, "আড়াই লাখ টাকা এনজিও থেকে ঋণ করে, নিজের গহনা বিক্রি করে আর জমানো টাকা দিয়ে স্বামীকে বিদেশে পাঠিয়েছি৷ ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশনালের এমডি মোশায়েদ হাসানের কাছেই এই টাকা দিয়েছি৷ চার মাস ক্যাম্পে রেখেও তারা যখন চাকরি দিচ্ছিল না, তখন সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন আমার স্বামী৷ এর জন্যও ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা নাসির হোসেনকে ৩৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে৷ এখন চাকরির খোঁজে আমার স্বামী সেখান থেকে বেরিয়ে গেছেন৷ স্বামী চাকরি না পেলেও প্রতি মাসে এনজিওর ঋনের কিস্তি দিতে হচ্ছে৷ কীভাবে দিচ্ছি তা একমাত্র আল্লাহ জানেন৷ ৫ বছরের ছেলেকে নিয়ে এখন আমাদের খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে৷"

একই কোম্পানির মাধ্যমে গত ৭ জুলাই সৌদি আরব গেছেন মুজিবর রহমান৷ তাকেও কোনও কাজ দেওয়া হয়নি৷ ক্যাম্পেই খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তার৷ বিষয়টি পরিবারকে জানালে তার কাকাতো বোন তাফসিনা ইয়াসমিন যোগাযোগ শুরু করেন৷ তিনি বিষয়টি জানিয়ে একই সঙ্গে ই-মেইল করেন সৌদি আরবে বাংলাদেশের দূতাবাস, জনশক্তি কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব জায়গায়৷ পুলিশ নিয়ে হাজির হন রিক্রুটিং এজেন্সির অফিসে৷ এতসব তৎপরতার পর মুজিবরের আকামা করে দেয় এজেন্সি৷ তারপরও কাজ দেয়নি৷ তার অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৩ আগস্ট শুনানির আয়োজন করে বিএমইটি৷ সেখানে এজেন্সির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন৷ শুনানি গ্রহণ করেন বিএমইটির উর্ধ্বতন পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মাসুদ রানা৷

তাফসিনা ইয়াসমিন ডয়চে ভেলের কাছে অভিযোগ করেন, 'শুনানির শুরুতেই আমার সার্বিক অভিযোগ আমলে না নিয়ে আমার ভাইয়ের বিষয়টি সমাধানের কথা বলেন তারা৷ তাদের বক্তব্য শুনে মনে হয়েছে, আমি অভিযোগ করে ভুল করেছি৷ আমি অভিযোগ করেছি, এই এজেন্সি গত এক বছরে যাদের সৌদি আরব পাঠিয়েছে তাদের একজনকেও চাকরি দিতে পারেনি৷ সেখানে এজেন্সির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো আমাকেই বলা হল, সার্বিক বিষয়ে আমার কোনও বক্তব্য তারা শুনবেন না৷ শুধু আমার ভাইয়ের বিষয়ে কিছু বলার থাকলে যেন বলি৷ তখন আর কী করা? আমি বললাম তারা যেন আমার ভাইকে ছেড়ে দেয়, আমি অন্য কোথাও চাকরির ব্যবস্থা করব৷ সেভাবেই তারা অভিযোগের নিষ্পত্তি করে দিল৷ এই প্রতিষ্ঠানটির পাঠানো মানুষগুলো গত এক বছরে এক টাকাও রেমিটেন্স পাঠায়নি৷ তাহলে তারা কীভাবে লোক পাঠাচ্ছে, সেই প্রশ্নটি আমি তাদের করেছিলাম৷ কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর জানার আগ্রহ নেই বিএমইটির কর্মকর্তাদের৷'

জানতে চাইলে বিএমইটির উর্ধ্বতন পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মাসুদ রানা ডয়চে ভেলেকে বলেন, 'তারা নিজেরাই আলোচনা করে একটা সমঝোতায় এসেছেন৷ আমরা সেটা বাস্তবায়ন করে দিয়েছি৷ উনি সমঝোতা না করলে আমরা আমাদের মতো সিদ্ধান্ত নিতাম৷ সেই সুযোগ তো তিনি দেননি৷ বরং তিনি অভিযোগের নিষ্পত্তি করে গিয়েছেন৷'

প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হন ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধাররা

মানবপাচার ও জিম্মির মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগে গত ১৯ মে গ্রেফতার হন ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশায়েদ হাসানসহ (২৬) পাঁজ কর্মকর্তা৷ অন্যরা হলেন, গোলাম আজম সৈকত (৪২), মেহেদী হাসান শান্ত (২৩), মোহসিন হোসেন (২৬) ও নাইফ উদ্দিন রুদ্র (২০)৷ পল্টন থেকে তাদের গ্রেফতার করে র‌্যাব৷ পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য প্রমাণ পাওয়ায় পল্টন থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়৷ এই পাঁচজন এবং সৌদি আরবে অবস্থানরত এই চক্রের আরেক সদস্য (ক্যাম্পের দায়িত্বপালনকারী) মো. নাসির উদ্দিনসহ (৫০) মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়৷ পরে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ৷

মামলার বাদি পলি আক্তার লিজা অভিযোগ করেন, তার স্বামী কামরুল আহসান এবং সঙ্গে আরও পাঁচজনকে কাজের চুক্তিতে সৌদি আরবে পাঠায় ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশনাল৷ যাওয়ার সময় জোর করে তাদের ব্যাগে চার-পাঁচ কেজি জর্দা দিয়ে দেয় প্রতিষ্ঠানটির লোকজন৷ কিন্তু সৌদি আরবে যে কোম্পানির জন্য পাঠানো হয়, তারা তাদের গ্রহণ করেনি৷ তবে চক্রের সদস্য মো. নাসির উদ্দিন গ্রহণ করে একটি ক্যাম্পে নিয়ে যান৷ এরপর দীর্ঘদিন সেই ক্যাম্পে তাদের আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়৷ সেই সঙ্গে দাবি করা হয় মোটা অংকের টাকা৷ স্বামীকে নির্যাতন থেকে বাঁচাতে কিছু টাকাও দেন তিনি৷ পাশাপাশি ওই ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশনালের মালিক এবং কর্মকর্তাদের বিষয়টি সমাধানের জন্য জানান৷ কিন্তু তারা সমাধান না করে উল্টো টাকা না দিলে নির্যাতন চলবে বলে হুমকি দেন৷ বাধ্য হয়ে তিনি মামলা দায়ের করেন৷

কয়েকদিনের মধ্যেই জামিনে মুক্তি পেয়ে বাদির সঙ্গে সমঝোতা করে ফেলেছে প্রতিষ্ঠানটি৷ ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশায়েদ হাসান ডয়চে ভেলেকে বলেন, 'ভুল বোঝাবুঝির কারণে মামলাটি হয়েছিল, বাদির সঙ্গে আমাদের সমঝোতা হয়ে গিয়েছে৷' অন্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'কাজ করতে গেলে ভুল হতে পারে৷ আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ নেই, সেটা বলব না৷ তবে কারও সমস্যা হলে আমরা সমাধান করে দেই৷ মুজিবরের বোনের সঙ্গেও আমাদের সমঝোতা হয়ে গিয়েছে৷'

গত এক বছরে ৭০০ থেকে এক হাজার মানুষকে তারা সৌদি আরব পাঠিয়েছে দাবি করে মোশায়েদ হাসান বলেন, 'আমরা যাদের পাঠিয়েছি, তারা অধিকাংশই ভালো আছে৷ দু'একজনের সমস্যা হলে সমাধান করে দিচ্ছি৷'

ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামেও আসছে ওয়ার্ক পারমিট

সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর রেজা ই রাব্বি ডয়চে ভেলের কাছে সাম্প্রতিক সংকটের কথা স্বীকার করেছেন৷ তিনি বলেন, 'আগে আমাদের জানতে হবে সমস্যার মূলটা কী? সমস্যার মূলে হচ্ছে করোনার সময় সৌদি আরবে ছোট, বড়, মাঝারি অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন৷ পরবর্তীতে সৌদি সরকার উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে কোম্পানী খোলা এবং ঋণ প্রাপ্তি সহজ করেছে৷ মাত্র এক হাজার ১৫০ রিয়েল দিয়েই ঘরে বসে অনলাইনে একটা কোম্পানী খোলা যায়৷ এর ফলে গত বছরের এপ্রিল থেকে গত মার্চ পর্যন্ত এক বছরে এক লাখ ২ হাজার কোম্পানি নিবন্ধিত হয়েছে৷ এই কোম্পানিগুলোর কোনও কাজ নেই৷ তারা অপেক্ষায় আছে কোনও প্রজেক্টে সাপ্লাইয়ের কাজ পাওয়ার জন্য৷ এরাই বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন দেশে ভিসা দিচ্ছে৷ এর মধ্যে আবার এখানে সৌদিকরণ চলছে৷ এটা এমন যে, কোন কোম্পানিতে ৩০ শতাংশ সৌদি নাগরিককে নিয়োগ দিতে হবে৷ তা না হলে ওই কোম্পানিকে রেড ঘোষণা করা হচ্ছে৷ এর ফলে তারা কোন কাজ পাবে না৷ এদের কোন কর্মীকে আকামা দেওয়া হবে না৷ আবার এখানে কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট রিনিউ করতে ১২ থেকে ১৩ হাজার রিয়াল খরচ হয়৷ এই বিপুল টাকা তারা এখন দিতে পারছে না৷ ফলে কর্মীরা বেকার হয়ে যাচ্ছে এবং দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছে৷'

এর মধ্যেও তাহলে নতুন মানুষ কীভাবে যাচ্ছেন? তাদের আটকানো হচ্ছে না কেন? জানতে চাইলে জনাব রাব্বি বলেন, "আমরা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি৷ যারা আসছে তারা যেন চেক করে আসে৷ এত মানুষকে একমোটেডে করার সুযোগ এখানে নেই৷ গত পাঁচ-ছয় বছরে ২৫ লাখ কর্মী এখানে এসেছে৷ কিছু অসাধু এজেন্সি ফ্রি ভিসার নামে আনছে৷ এখন এখানে কেউ স্পন্সরের বাইরে কাজ করতে পারে না৷ এখানে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করার সুযোগ নেই৷ ফলে কিছু এজেন্সি শুধু লোক পাঠিয়ে উপার্জনের ধান্দা করছে৷"

সংকটময় এই পরিস্থিতিতে বিএমইটি কী করছে? জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক শহীদুল আলম ডয়চে ভেলেকে বলেন, "বর্তমানে দু'একটি কোম্পানি, যাদের নিজেদের কারখানা নেই, তারা অন্য কোম্পানিতে সাপ্লাই দিতে লোক নিচ্ছে৷ এই অনুমতিটা সেই দেশের ব্যাপার৷ ভিসা পাওয়াটাও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত৷ নিয়োগকারী দেশের যদি ইচ্ছে থাকে কাজ ছাড়াও কর্মী আনা যাবে, তাহলে সেটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জের৷ এখন এখান থেকে তো বোঝা মুশকিল কে মূল কোম্পানি আর কে সাপ্লায়ার? এটা নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে এসেছে৷''

যারা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন তাদের ব্যাপারে বিএমইটি কী করছে? জানতে চাইলে জনাব আলম বলেন, 'কেউ ফিরে আসলে ফৌজদারি বা দেওয়ানি মামলা করতে পারে৷ এমনকি সচিব বরাবর ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করতে পারেন৷ আমরা তখন আইনগতভাবে তাদের প্রতিকার দেব৷ তবে যারা যাচ্ছেন তাদেরও যাচাই বাছাই করে যেতে হবে৷ তারও কিছু দায়িত্ব আছে৷ এখন বিশ্বব্যাপী যে রেমিটেন্স বা বৈদেশিক মুদ্রার হিমশিম অবস্থা, সেখানে আমরা যদি প্রমোট না করে কন্ট্রোল করতে যাই হয়ত কিছু মানুষের আপাত ভালো হতে পারে৷ কিন্তু মূল স্রোতধারা বাধাগ্রস্থ হয়, এমন কিছু করার সময় এখন না৷ এখন যারা বাইরে যাচ্ছে তাদের কিছু মানুষের সমস্যা হলে সেটারও সমাধান করতে হবে৷'

(বিশেষ দ্রষ্টব্য : প্রতিবেদনটি ডয়চে ভেলে থেকে নেওয়া হয়েছে। সেই প্রতিবেদনই তুলে ধরা হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার কোনও প্রতিনিধি এই প্রতিবেদন লেখেননি।)

বন্ধ করুন