বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > দু'মিনিটে ১,২০০ রাউন্ড গুলি, অন্ধকারে লড়াই - লাদাখ সংঘাতের জন্য কীভাবে ঘাতক অ্যাপাচে পেল ভারত?
দু'মিনিটে ১,২০০ রাউন্ড গুলি ছুড়তে পারে, অন্ধকারে লড়াই করতে সক্ষম, বিশ্বের অন্যতম ঘাতক কপ্টার অ্য়াপাচে (ছবি সৌজন্য টুইটার)

দু'মিনিটে ১,২০০ রাউন্ড গুলি, অন্ধকারে লড়াই - লাদাখ সংঘাতের জন্য কীভাবে ঘাতক অ্যাপাচে পেল ভারত?

  • বিশ্বের অন্যতম ঘাতক কপ্টার হিসেবে পরিচিত অ্যাপাচে কপ্টার। মুহূর্তের মধ্যে শূন্যে বাঁক খাওয়ার দুর্ধর্ষ ক্ষমতা রয়েছে। 

শিশির গুপ্ত

আগেই ১৭ টি হাতে চলে এসেছিল। সেগুলি কাজে লাগানো হচ্ছিল। বাকি পাঁচটি গত মার্চের মধ্যে ভারতে পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রকোপে সেই প্রক্রিয়া থমকে যায়। কিন্তু মে'র গোড়ার দিকে চিনের সঙ্গে সীমান্ত বিবাদ শুরুর পর একটুও সময় নষ্ট করা হয়নি। দ্রুত বোয়িংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। হেলিকপ্টারের বিভিন্ন অংশ জুড়ে লাদাখে মোতায়েন করা হয় অত্যাধুনিক মার্কিন এএইচ-৬৪ অ্যাপাচে হেলিকপ্টার।

পূর্ব লাদাখে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর থেকেই নয়াদিল্লি স্পষ্টতই জানত, বিবাদ মিটতে যথেষ্ট সময় লাগবে। আধুনিক বিশ্বে যুদ্ধের সম্ভাবনা তেমন না থাকলেও যাবতীয় বিপদের জন্য প্রস্তুতি শুরু করে কেন্দ্র। সেজন্য আগামী কয়েক দিন-সপ্তাহ ধরে জম্মু ও কাশ্মীরের নিকটবর্তী বায়ুঘাঁটিতে অ্য়াপাচে কপ্টার, ১৫ টি চিনুক কপ্টারের মতো বায়ুসেনার বিভিন্ন মূল্যবান সম্পত্তি পাঠানো হতে থাকে। তারইমধ্যে অ্যাপাচের প্রস্তুতকারক সংস্থা বোয়িংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। যাঁরা চপারের বিভিন্ন সরঞ্জাম একত্রিত করবেন, তাঁদের জন্য জাতীয় সুরক্ষার আওতায় প্রত্যাহার করা হয় বাধ্যতামূলকভাবে কোয়ারেন্টাইনে থাকার নিয়ম। পয়লা জুনের মধ্যে ওই বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ভিসা মঞ্জুর করে দেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। 

এরইমধ্যে ভারতে পৌঁছে যায় অ্যাপাচের যন্ত্রাংশ। যে হেলিকপ্টারকে 'আক্রমণকারী চপারের ফেরারি' হিসেবেও অভিহিত করেন অনেকে। অ্যাপাচের ঠিক নাকের নীচে ৩০ এমএমের ক্যানন রয়েছে। যা দু'মিনিটেরও কম সময় ১,২০০ রাউন্ড গুলি ছুড়তে পারে। ৮০ টি রকেটের পাশাপাশি হেলফায়ার মিসাইলও বইতে পারে অ্য়াপাচে। যা ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যেও শুত্রুঘাঁটিকে খুঁজে বের করতে পারে, চিহ্নিত করতে পারে এবং ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। দ্রুত সেই কপ্টারের যন্ত্রাংশ একত্রিত করে বিশেষজ্ঞ দল। লাদাখে মোতায়নের জন্য পরীক্ষার পর বিশ্বের অন্যতম ঘাতক কপ্টারকে তড়িঘড়ি পাঠানকোট বায়ুঘাঁটিতে পাঠানো হয়। যে কপ্টারের মুহূর্তের মধ্যে শূন্যে বাঁক খাওয়ার দুর্ধর্ষ ক্ষমতা রয়েছে। একইসঙ্গে অত্যন্ত নীচু দিয়ে উড়তে পারে। পাশাপাশি, উচ্চতা এবং ঝোপঝাড় ব্যবহার করে শুত্রুপক্ষের থেকে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩০০ কোটি বিলিয়ন ডলারে কেনা ২২ টি অ্যাপাচে কপ্টার ভারতের সামরিক শক্তির ক্ষেত্রে গেম চেঞ্জার হয়ে উঠতে চলেছে। নয়তো ভারতকে মাঝারি ক্ষমতা সম্পন্ন রাশিয়া এম-১৭ এবং কার্যত অবলুপ্ত হতে চলা এমআই-২৬ কপ্টারের উপর নির্ভর করতে হত। আর এখন অ্যাপাচে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় কোনও আগ্রাসী পদক্ষেপের আগে দু'বার ভাবতে বাধ্য হবে চিনা সেনা।

বন্ধ করুন