বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > পুরোপুরি বন্ধ থেকে সংযুক্তিকরণ - ১২০ স্বশাসিত সংস্থার পুনর্গঠনের ভাবনা কেন্দ্রের
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। (ফাইল ছবি, সৌজন্য পিটিআই)
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। (ফাইল ছবি, সৌজন্য পিটিআই)

পুরোপুরি বন্ধ থেকে সংযুক্তিকরণ - ১২০ স্বশাসিত সংস্থার পুনর্গঠনের ভাবনা কেন্দ্রের

  • সেই সুপারিশ মতো পুনর্গঠন সম্পূর্ণ হলে ২৩১ থেকে একধাক্কায় স্বশাসিত সংস্থার সংখ্যা কমে দাঁড়াবে ১১১।

অনিশা দত্ত

বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। তারইমধ্যে কেন্দ্রের ২৩ টির বেশি মন্ত্রক এবং দফতরের অধীনস্থ স্বশাসিত সংস্থার পুনর্গঠনের ভাবনাচিন্তা করছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। তাতে অনুমোদন মিললে কয়েকটি সংস্থার আবার সংযুক্তিকরণ হতে পারে। পুরোপুরি ঝাঁপ পড়ে যেতে পারে কয়েকটি সংস্থার। আবার কয়েকটি সংস্থা আগের মতোই চলবে। এমনটাই জানিয়েছেন বিষয়টির সঙ্গে অবহিত আধিকারিকরা।

সূত্রের খবর, ২৩১ টি স্বশাসিত সংস্থার পর্যালোচনা করেছে কেন্দ্রের ব্যয় সংক্রান্ত দফতর। তার ভিত্তিতে ক্যাবিনেট সচিবালয়ে পাঠানো একাধিক সুপারিশে জানানো হয়েছে, ২৩১ টির মধ্যে ৮৩ টি সংস্থাকে আগের মতোই রাখা হোক। ১১৭ টি সংস্থাকে মিশিয়ে মাত্র ২৯ সংস্থা গঠন করা শ্রেয়। ২০ টি সংস্থার সঙ্গে কেন্দ্রকে সম্পর্ক ছিন্ন করে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সাতটি স্বশাসিত সংস্থা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ারও সুপারিশ গিয়েছে ক্যাবিনেট সচিবালয়ে। সেই সুপারিশ মতো পুনর্গঠন সম্পূর্ণ হলে ২৩১ থেকে একধাক্কায় স্বশাসিত সংস্থার সংখ্যা কমে দাঁড়াবে ১১১।

তবে স্বশাসিত সংস্থার পুনর্গঠনের পরিকল্পনা একেবারেই নতুন নয়। বরং সেই সুপারিশের বীজ নিহিত আছে মোদী সরকারের প্রথম দফায়। ২০১৬ সালের সাধারণ বাজেটে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি জানিয়েছিলেন, বিভিন্ন মন্ত্রকে মানব সম্পদ তথা কর্মীদের পুনর্বিন্যাসের জন্য একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। স্বশাসিত সংস্থার পুনর্গঠন এবং বিস্তারিত পর্যালোচনার কথাও জানিয়েছিলেন। ২০১৭ সালে ব্যয় নিয়ন্ত্রক কমিশনের সুপারিশের পর কেন্দ্রের স্বশাসিত সংস্থাগুলির বিস্তারিত পর্যালোচনা করার জন্য নীতি আয়োগকে অনুরোধ জানিয়েছিল অর্থ মন্ত্রক। তার ভিত্তিতে মুখ্য উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি কমিটি তৈরি করেছিল নীতি আয়োগ। 

তারপর ২০১৮ সালে দুটি স্বশাসিত সংস্থা ‘রাষ্ট্রীয় আরোগ্য বিধি’ এবং 'জনসংখ্যা স্থিরতা কোষ' বন্ধ করার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছিল মোদীর নেতৃত্বধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। তখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার তরফে জানানো হয়েছিল, কার্যকারিতা, অর্থ ও কর্মীদের সঠিক ব্যবহার, প্রাসঙ্গিক নীতি ও কর্মসূচি, শাসন এবং ফলাফলের মতো বিষয়গুলির উন্নতির লক্ষ্যে স্বশাসিত সংস্থার পুনর্গঠন করা হয়েছে।

এবারও কেন্দ্রের ব্যয় সংক্রান্ত দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সরকারের প্রভাব ন্যূনতম গণ্ডিতে বেঁধে রাখতে এবং জনগণের অর্থ দক্ষভাবে ও উপযুক্তভাবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রের মন্ত্রক এবং দফতরের অধীনস্থ স্বশাসিত সংস্থার পুনর্গঠন নিয়ে নির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়েছে।

বন্ধ করুন