বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > ধূমপানের ছলে বাইরে গিয়ে পগারপার, টেবিল 'বিল মেটানোর' আর্জি ১২০ বছরের রেস্তোরাঁর
ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই (PTI)

ধূমপানের ছলে বাইরে গিয়ে পগারপার, টেবিল 'বিল মেটানোর' আর্জি ১২০ বছরের রেস্তোরাঁর

অনেক সময়ে ৫-৬ জন এমনকী ১০-১২ জনের একটি দলও খাওয়াদাওয়া করে বিল না মিটিয়ে পালান। দোকানের সামনে থেকে ট্যাক্সিতে উঠে পড়েন কেউ কেউ। আবার অনেকে সামনেই মেট্রোর ভিড়ে মিশে যান।

ঝাল ঝাল চিলি পর্ক। সঙ্গে বরফ ঢালা মদের গ্লাসে চুমুক। এহেন খানাপিনার পর একটু সিগারেটে টান দিতে মন চায় গ্রাহকদের। কিন্তু ধূমপান করতে বেরিয়ে, আর ফিরে আসেন না অনেকেই। টেবিলেই পড়ে থাকে খাবার-সুরার বিল!

মধ্য কলকাতার চাঁদনি চকের ১২০ বছরের পুরনো এক রেস্তোরাঁর প্রায় নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে এটি। আর তার সুরাহাতেই নয়া উপায় বের করলেন তাঁরা। রেস্তোরাঁর টেবিলেই সেঁটে দিলেন 'বিবেক বার্তা।' তাতে সকলকে দয়া করে টাকা মিটিয়ে তবেই রেস্তোরাঁ ছাড়ার কাতর অনুরোধ করা হয়েছে। 

সাধুভাষায় বেশ কায়দা করে এই বার্তা লেখা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, 'মাননীয় মহাশয়, আপনাদের এতদ্বারা জানাইতেছি যে, আমাদের রেস্তরাঁয় মদ্য এবং খাদ্য যাঁরা গ্রহণ করিবেন, তাঁহাদের যদি ধূমপান করিবার ইচ্ছা হয়, তা হলে সবাই মিলে বাহিরে না গিয়ে কেউ একজন ভিতরে থাকিবেন। কেননা, অতীব দুঃখের সঙ্গে জানাইতেছি যে, পরপর কয়েকদিন কেউ কেউ খরিদ্দার ধূমপান করিতে গিয়ে গেটের বাহিরে গিয়া আর ভিতরে আসেন নাই। ফলস্বরূপ ওই খরিদ্দারের পেমেন্ট ওয়েটারকে দিতে হয়েছে। আমরা কাস্টমারদের গরিব ভাই। আমাদের অবস্থার কথা বিবেচনা করিয়া আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করিলে চিরকৃতজ্ঞ থাকিব।'

রেস্তোরাঁ কর্মীরা জানিয়েছেন, প্রায়শই এমনটা ঘটে। ওয়েটারদের প্রত্যেকের দায়িত্বে দু'টি করে টেবিল থাকে। কেউ যদি বিল না মিটিয়েই পালান, সেক্ষেত্রে সেই বিল ওয়েটারের বেতন থেকে কাটা হয়। অনেক সময়ে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ এড়াতে ওয়েটাররা লুকিয়ে লুকিয়ে নিজের পকেট থেকেই বিল মিটিয়ে দেন।

শুধু ১-২ জন নয়। অনেক সময়ে ৫-৬ জন এমনকী ১০-১২ জনের একটি দলও খাওয়াদাওয়া করে বিল না মিটিয়ে পালান। দোকানের সামনে থেকে ট্যাক্সিতে উঠে পড়েন কেউ কেউ। আবার অনেকে সামনেই মেট্রোর ভিড়ে মিশে যান।

হোটেলের ম্যানেজার জানিয়েছেন, মালিকের অনুমতি নিয়েই এই ব্যবস্থা। মনে হয় মানুষের বিবেকে খানিকটা হলেও লেগেছে।

বন্ধ করুন