বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > চুপ করে থাকল না তাইওয়ান, চিনকে দেওয়া হল পালটা জবাব
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং৷ (ফাইল ছবি, সৌজন্য রয়টার্স)
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং৷ (ফাইল ছবি, সৌজন্য রয়টার্স)

চুপ করে থাকল না তাইওয়ান, চিনকে দেওয়া হল পালটা জবাব

  • তাইওয়ানের তরফে প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, এটি পরিষ্কার যে এখানকার জনগণ এই মডেল গ্রহণ করছেন না৷

তাইওয়ানকে চিনের সঙ্গে একত্রিত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং৷ বেজিং ও তাইপের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার মাঝেই শনিবার এমন ঘোষণা দিলেন চিনা প্রেসিডেন্ট৷

‘মাতৃভূমির সম্পূর্ণ পুনরেত্রীকরণের ঐতিহাসিক কাজটি অবশ্যই সম্পন্ন করতে হবে,’ রাজনীতিবিদ, সামরিক কর্মকর্তার লোকজনের সামনে চিনের বিখ্যাত গ্রেট হল অফ দ্য পিপলে দেওয়া ভাষণে বলেন জিনপিং৷

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে দক্ষিণ চিন সাগরে অবস্থিত দ্বীপ-অঞ্চল তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ করতে দীর্ঘদিন ধরেই তৎপরতা চালাচ্ছে চিন৷ চিন মনে করে, তাইওয়ান তাদের দেশেরই অংশ৷ এটি চিন থেকে বেরিয়ে যাওয়া একটি প্রদেশ, যেটি ভবিষ্যতে চিনের সঙ্গে মিশে যাবে৷ তবে গত দুই দশক ধরে তাইওয়ানের বেশ কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলন করে যাচ্ছে৷

চলমান উত্তেজনার মাঝে জিনপিঙের দেওয়া এমন মন্তব্য আলাদা গুরুত্ব বহন করছে বলে মনে করা হচ্ছে৷ গত শুক্রবার থেকে প্রতিদিন তাইওয়ানের আকাশে ঢুকে পড়ছে চিনের বিমানবাহিনী৷ পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সমমনা গণতান্ত্রিক দেশের সহায়তা চাইছে তাইওয়ান৷

কী বললেন শি জিনপিং?

সর্বশেষ রাজবংশের পতনের বার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠানটিতে দেওয়া ভাষণে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, ‘বিচ্ছিন্নতা দমনে চিনের গৌরবময় ঐতিহ্য আছে৷' তাইওয়ানে স্বাধীনতা আন্দোলনকে বিচ্ছিন্নতাবাদ বলে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘এটি পুনরেত্রীকরণের পথে সবচেয়ে বড় বাধা এবং পুনঃশক্তিসঞ্চারের পথে লুকিয়ে থাকা একটি মহাবিপদ৷'

তার মতে, শান্তিপূর্ণ পুনরেকত্রীকরণ হলেই তাইওয়ানের জনগণের সব ধরনের চাওয়া-পাওয়া পূরণ হবে৷ তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় চিনের জনগণের যে দৃঢ় সংকল্প, তীব্র ইচ্ছা ও সামর্থ্য রয়েছে তাকে খাটো করে দেখা উচিত নয়৷’ ‘মাতৃভূমির পুনরেত্রীকরণের যে ঐতিহাসিক প্রচেষ্টা তা অবশ্যই পূরণ হবে এবং এটি হতেই হবে,’ বলেন তিনি৷

তাইওয়ানের প্রতিক্রিয়া

এদিকে, শি জিনপিংয়ের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের দফতর থেকে বলা হয়, এই ভূখণ্ডের ভবিষ্যত এখানকার জনগণ নির্ধারণ করবে৷ চিনের ‘এক দেশ দুই নীতি’ মডেল প্রত্যাখান করে প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, এটি পরিষ্কার যে এখানকার জনগণ এই মডেল গ্রহণ করছেন না৷

এদিকে তাইওয়ানের মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল আলাদা এক বিবৃতিতে চিনর প্রেসিডেন্টের এমন বক্তব্যকে ‘অনুপ্রবেশকারী উত্তেজনামূলক পদক্ষেপ’ উল্লেখ করে চিনকে ‘হয়রানি ও ধ্বংসাত্মক’ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়৷

বন্ধ করুন