বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > তিব্বতে ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র, রেল টার্মিনাল বানাচ্ছে চিন, ধরা পড়ল উপগ্রহ চিত্রে
সেই উপগ্রহচিত্র, সম্ভবত তৈরি হচ্ছে সামরিক লজিস্টিক্স হাব। (ছবি সৌজন্য, টুইটার @detresfa_)
সেই উপগ্রহচিত্র, সম্ভবত তৈরি হচ্ছে সামরিক লজিস্টিক্স হাব। (ছবি সৌজন্য, টুইটার @detresfa_)

তিব্বতে ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র, রেল টার্মিনাল বানাচ্ছে চিন, ধরা পড়ল উপগ্রহ চিত্রে

  • বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে যে প্রতিবার নয়া উপগ্রহচিত্র পর্যবেক্ষণ করলেও কোনও কোনও নয়া কাঠামো ধরা পড়ছে।

রেজাউল এইচ লস্কর

সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কেন্দ্র, নয়া রেল টার্মিনাল, নয়া রেললাইন - কী নেই সেখানে! ভারত সীমান্তে উত্তেজনার মধ্যেই তিব্বতে শিকাৎজে এমনই সব পরিকাঠামো তৈরি করছে চিন। নয়া উপগ্রহ চিত্র অনুযায়ী, সম্ভবত সামরিক লজিস্টিক্স হাব বা পণ্য পরিবহণ কেন্দ্র তৈরি করছে বেজিং। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর যোগাযোগ এবং পরিকাঠামো উন্নতির জন্য সেই পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

ওপেন-সোর্স গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞের (টুইটারের নাম @detresfa_) তরফে যে ছবি শেয়ার করা হয়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে যে শিকাৎজে বিমানবন্দরের দক্ষিণে পরিকাঠামোর উন্নতি করা হচ্ছে। যা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের সঙ্গে রেল টার্মিনালকে যুক্ত করেছে। সেই লজিস্টিক হাব পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) পরিকাঠামোর অন্তর্গত বলে মত বিশেষজ্ঞদের। উপগ্রহ চিত্র থেকে অনুমান, মাটির নীচেও একটি কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। আগেও উপগ্রহ চিত্রে সেই কেন্দ্রের অস্তিত্ব মিলেছিল। সঙ্গে দুটি জায়গা থেকে বিশেষজ্ঞ অনুমান করেছিলেন, সেই দুটি সম্ভবত সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ।

বিষয়টি নিয়ে বেলজিয়ামের ‘ফোর্স অ্যানালিসিস’-এর সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ সিম ট্র্যাক জানান, তিব্বত স্বশাসিত অঞ্চলে চিন বৃহদাকারে যে পরিকাঠামো এবং যোগাযোগ গড়ে তোলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তা উপগ্রহ চিত্রে স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে। নয়া উপগ্রহ চিত্র দেখে মনে করা হচ্ছে যে আকসাই চিন থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সামরিক কাজকর্মের সেই পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘চিনের অন্যান্য অংশ থেকে তিব্বতের অভ্যন্তরে বিশাল সংখ্যক সৈন্য সমাবেশের জন্য রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি-সহ এই ধরনের পণ্য পরিবহন সংক্রান্ত পরিকাঠামোর উন্নয়ন করা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।’

শিকাৎজের বিমানবন্দরের যে মাটির নীচে যে পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে, তা মিসাইল সিস্টেম রাখার বিশেষ কেন্দ্রও হতে পারে বলে জানিয়েছেন ট্র্যাক। ওই এলাকার অন্যতম বৃহত্তম স্টেশন হল শিকাৎজে। যা সৈন্য চলাচল ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই এলাকাটি নেপালের সীমান্ত পর্যন্ত নিয়ে বর্ধিত করারও পরিকল্পনা আছে বেজিংয়ের। ট্র্যাক জানান, অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে চিন। বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে যে প্রতিবার নয়া উপগ্রহচিত্র পর্যবেক্ষণ করলেও কোনও কোনও নয়া কাঠামো ধরা পড়ছে। বড় পরিকাঠামো নির্মাণের অংশ হিসেবে প্রায় প্রতিদিন নয়া কাঠামো গজিয়ে উঠেছে।

গত ডিসেম্বরে একইভাবে অরুণাচল প্রদেশ লাগোয়া ভারত ও ভুটানের বিতর্কিত সীমান্তে একাধিক গ্রাম তৈরির নির্দশন মিলেছিল উপগ্রহ চিত্রে। তারইমধ্যে আরও নয়া পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে চিন। তবে বিষয়টি নিয়ে ভারতের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

বন্ধ করুন