বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > গালওয়ানে উস্কানিমূলক ভিডিয়ো, প্যাংগংয়ে ব্রিজ, নতুন বছরে ফের রক্তচক্ষু লাল ফৌজের
ভাইরাল ভিডিয়োর স্ক্রিনশট
ভাইরাল ভিডিয়োর স্ক্রিনশট

গালওয়ানে উস্কানিমূলক ভিডিয়ো, প্যাংগংয়ে ব্রিজ, নতুন বছরে ফের রক্তচক্ষু লাল ফৌজের

  • ভারতের তরফ থেকে এখনও সেই সংক্রান্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। 

নতুন বছরের শুরুতেই এসেছিল ভারত-চিন সেনাদের উপহার আদানপ্রদানের ছবি। তাতে যদি কারও মনে হয়ে থাকে যে হয়তো দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা একটু প্রশমিত হবে, তাহলে গুড়ে বালি। এর কারণ এর মধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে একটি ভিডিয়ো যেখানে গালওয়ান উপত্যকায় উত্তোলিত হচ্ছে চিনের পতাকা। অন্যদিকে প্যাংগং লেকের দুই প্রান্তকে জুড়তে সেতু নির্মাণ করছে লাল ফৌজ, সেই ছবি ধরা পড়েছে উপগ্রহে। 

চিনের সরকারি মিডিয়ার তরফ থেকে দুটি ভিডিয়ো সামনে আনা হয়েছে। একটিতে দেখা যাচ্ছে চিনের সেনা জাতীয় পতাকাকে স্যালুট করছে তিব্বতে কসরত করার সময়। অন্য ভিটিয়োতে গালওয়ান থেকে লাল ফৌজ চিনের লোকদের নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। সেখানে পাথরে ম্যান্ডারিন ভাষায় লেখা যে ‘এক ইঞ্চি জমিও ছাড়া হবে না’। 

চিনের জাতীয়তাবাদী গ্লোবাল টাইমস লিখেছে যে বহু জায়গায় জাতীয় পতাকা তোলা হয়েছে নতুন বছরে। তবে এর মধ্যে বিশেষ করে হংকং ও গালওয়ানের উল্লেখ আছে। যেই পতাকা একসময় তিয়েনানমেন স্কোয়ারে তোলা হয়েছিল সেটা গালওয়ানে উত্তোলিত হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।  

অন্যদিকে পূর্ব লাদাখে প্যাংগং লেকের দুই প্রান্তকে জোড়ার জন্য চিন সেতু বানাচ্ছে। এই সংক্রান্ত উপগ্রহ চিত্র টুইট করেছেন ড্যামিয়েন সাইমন তাঁর @detresfa_ হ্যান্ডেল থেকে। বলাই বাহুল্য এই সেতু হয়ে গেলে ওই স্থানে সহজেই যাতায়াত করতে পারবে লাল ফৌজ, ফলে ভারতের পক্ষে স্থানটি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা আরও শক্ত হয়ে উঠবে। 

এই দুই উস্কানিমূলক ঘটনা নিয়ে এখনও সরকারি স্তরে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি ভারত। প্রসঙ্গত ২০২০ সালের মে থেকেই পূর্ব লাদাখে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে ভারত-চিন। এরমধ্যেই ঘটেছে গালওয়ানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। বারবার কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরে আলোচনার পর গতবছর প্যাংগং ও গোগরা থেকে সেনা সরিয়েছে দুই দেশ কিন্তু এখনও অনেক জায়গায় বিশেষ অগ্রগতি হয়নি আলোচনায়। 

 

তবে সূত্রের খবর, চিনে যে ভিডিয়ো নিয়ে আস্ফালন করছে সেটা তাদের নিজেদের জমিতে তোলা। গালওয়ানে যে দুই কিলোমিটারের বাফার জোন তৈরি হয়েছে সেখানে পতাকা তোলেনি চিন। 

যেই অঞ্চলে এই পতাকা তোলা হয়েছে সেটা আগে থেকেই চিনের হাতে ছিল। যেখানে গালওয়ান নদী বেঁকেছে সেই স্থানটি ভিডিয়োতে দেখানো হয়নি কারণ সেটা ভারতের নিয়ন্ত্রণে বলে সূত্রের দাবি। এছাড়াও ভিডিয়োটি সম্ভবত পুরনো কারণ এতে কোনও বরফের লেশমাত্র নেই, যদিও বর্তমানে পাহাড়চূড়োগুলি বরফে ভর্তি। 

এখনও পর্যন্ত নতুন সেতুটি সম্বন্ধে যা জানা গিয়েছে, সেটা ভারতীয়দের নিশ্চিত ভাবেই উদ্বিগ্ন করবে। এটি ফিঙ্গার ৪ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে স্থিত। চিনের হাতে থাকা বিভিন্ন ঘাঁটিগুলি এই ব্রিজের মাধ্যমে সহজে যাওয়া যাবে। তবে সূত্রের দাবি ভারতও চুপচাপ বসে নেই। দক্ষিণ লাদাখে যে নতুন চিসুমলে-ডেমচক রাস্তাটি তৈরি হচ্ছে উমলিং পাসের ওপর,তাতে অনেকটাই সুবিধা হবে ভারতীয় ফৌজের। সবমিলিয়ে বছর ঘুরলেও বদলায়নি চিনের মতিগতি। কীভাবে ভারত এর জবাব দেয়, সেদিকেই থাকবে নজর। 

 

 

বন্ধ করুন