রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার চিন্ময়কৃষ্ণ প্রভুর জামিনের শুনানি এগিয়ে আনার জন্যে চট্টগ্রাম আদালতে আবেদন জানানো হয়েছিল। তবে অভিযোগ ওঠে, চিন্ময় প্রভুর জামিনের মামলা এগিয়ে নিয়ে আসার আবেদনের শুনানি হওয়ার আগেই হেনস্থা করা হয় আইনজীবী রবীন্দ্র ঘোষকে। আদালতকক্ষ থেকে বিচারক নাকি চলে যেতে বাধ্য হন এর জেরে। এই নিয়ে মানবাধিকার কর্মী তথা অ্যাডভোকেট রবীন্দ্র ঘোষ অভিযোগ করেন, তাঁকে কোর্ট রুমে ধাক্কা দেওয়া হয়। এমনকী আদালত কক্ষে স্লোগান ওঠে - 'ইসকনের দালালদের খতম করা হোক'। পরে আদালতের তরফে জানানো হয়, চিন্ময়কৃষ্ণের পক্ষের আইনজীবীর উপযুক্ত ওকালতনামা না থাকায় এই আর্জি খারিজ হয়ে যায়। তবে রবীন্দ্র ঘোষ দাবি করেন, পুলিশ প্রশাসন তাঁকে সাহায্য করে। এরই মধ্যে দাবি করা হয়েছে, রবীন্দ্র ঘোষ বৃহস্পতিবারও ফের চিন্ময় প্রভুর জামিন মামলা এগিয়ে নিয়ে আসার জন্যে চট্টগ্রাম আদালতে আবেদন করবেন। (আরও পড়ুন: আরজি করের মামলায় বৃন্দার ভূমিকায় অসন্তুষ্ট ছিলেন নির্যাতিতার বাবা-মা: রিপোর্ট)
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের এর উপদেষ্টাই 'র এজেন্ট'! মুখ খুললেন ইউনুসের সরকারে থাকা ছাত্র নেতা
এদিকে রিপোর্ট অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম কারাগারে চিন্ময় ব্রহ্মচারীর সঙ্গে দেখা করেন রবীন্দ্র ঘোষ। সেখানে ওকালতনামায় সাক্ষর গ্রহণ করা হয়। চিন্ময় দাসের আগের আইনজীবীদের কাছ থেকেও ওকালতনামা সংগ্রহ করেন তিনি। এই আবহে বৃহস্পতিবার ফের আদালতে আবেদন জানাবেন তিনি। উল্লেখ্য, বর্তমানে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার হয়ে চিন্ময় প্রভু জেলে আছেন। তাঁর জামিনের মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা নয়া বছরে। সেই শুনানি এগিয়ে নিয়ে আসতেই রবীন্দ্র ঘোষ আবেদন জানিয়েছেন আদালতে। এদিকে চিন্ময় প্রভু যাতে কোনও রকম আইনি সহায়তা না পান, তার জন্যে ক্রমাগত হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে চট্টগ্রামের আইনজীবীদের একটা অংশ। এমনকী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের হয়ে কোনও আইনজীবী যদি আদালতে পেশ থাকেন, তাহলে সেই আইনজীবীকে গণপিটুনি দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই আবহে চিন্ময় প্রভুর আগের জামিন শুনানিতে কোনও আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। (আরও পড়ুন: অপহরণের হুমকি বাংলাদেশে, হিন্দু নাবালিকা পালিয়ে এলেন ভারতে, ধরল BSF)
প্রসঙ্গত, গত ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে সমাবেশ করেছিল বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চ। সেই সমাবেশে ভাষণ দিয়েছিলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুও। সেই সমাবেশেই নাকি তিনি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অবমাননা করেছিলেন। এই অভিযোগেই চট্টগ্রামে একটি রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেন বিএনপি নেতা ফিরোজ খান। গত ৩১ অক্টোবর চিন্ময় দাস-সহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন সেই নেতা। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই গত ২৫ নভেম্বর ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুকে গ্রেফতার করে ঢাকা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। এরপর তাঁকে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের আদালতে বাইরে হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকে জড়ো হয়েছিলেন চিন্ময় প্রভুর গ্রেফতারির প্রতিবাদ জানাতে। সেই জনতার ওপর নির্বিচারে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে এই সংঘর্ষে এক আইনজীবী খুন হন। সেই খুনের ঘটনায় ১০ জন হিন্দুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে অভিযোগ উঠছে, ইচ্ছে করে সংখ্যালঘুদের হেনস্থা করা হচ্ছে। এদিকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের হয়ে কোনও আইনজীবী যাতে মামলা না লড়েন, তার জন্যে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত চন্দন দাসকে সম্প্রতি গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে অভিযোগ, চন্দন দাসই নাকি কিরিচ হাতে আইনজীবীকে কুপিয়েছিলেন। সেই সময় তার পরনে ছিল কমলা রঙের গেঞ্জি আর কালো প্যান্ট। জানা গিয়েছে, গতরাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেল স্টেশনের কাছ থেকে চন্দনকে গ্রেফতার করা হয়। শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পথে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ দাবি করেছে, ঘটনার দিন ধারালো অস্ত্র দিয়ে আইনজীবী সাইফুলকে কোপান ওম দাশ, চন্দন ও রনব। বাকি আরও অনেকে সাইফুলকে মারতে থাকেন। পুলিশ দাবি করছে, তারা নাকি খুনের ভিডিয়ো হাতে পেয়েছে। সেই ভিডিয়ো ফুটেজ দেশে শনাক্ত করা হয়েছে ধৃতদের। সেই ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন সেই আইনজীবীকে মারছে। এর মধ্যে দু'জন হেলমেট পরে থাকা ব্যক্তি কুপিয়েছে সাইফুলকে।