বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > গৌতম বুদ্ধের ভিক্ষা পাত্র ফিরিয়ে আনার দাবি, মোদীকে চিঠি লিখলেন গবেষক
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবি সৌজন্য–এএনআই।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবি সৌজন্য–এএনআই।

গৌতম বুদ্ধের ভিক্ষা পাত্র ফিরিয়ে আনার দাবি, মোদীকে চিঠি লিখলেন গবেষক

  • এই ঘটনা জানতে পেরে ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ববিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

আফগানভূমে এখন তালিব সরকার। আর তারা এই দেশ দখলের পর একের পর এক ভাস্কর্য, স্থাপত্য নষ্ট করে ফেলছে। কাবুল ন্যাশনাল মিউজিয়ামে রাখা গৌতম বুদ্ধের অমূল্য ভিক্ষা পাত্রের ভবিষ্যৎও তাই চূড়ান্ত অনিশ্চয়তাযর মধ্যে রয়েছে। এই ঘটনা জানতে পেরে ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ববিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। আদৌ কি তালিবানদের ধ্বংসলীলা থেকে বাঁচবে ওই বুদ্ধের ভিক্ষাপাত্র! এই পরিস্থিতিতে এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উদ্যোগ নিতে বলে চিঠি লিখলেন বৈশালীর গবেষক রঞ্জিত কুমার।

এই গবেষক প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে বুদ্ধের ভিক্ষাপাত্র আফগানিস্তান থেকে এদেশে নিয়ে আসতে অনুরোধ করেছেন। গবেষক রঞ্জিত কুমার সহযোগী ছিলেন প্রয়াত বৈশালী এলাকার সাংসদ রঘুবংশ প্রসাদ সিংয়ের। সে কথাও তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন। এমনকী তিনি লিখেছেন, প্রয়াত সাংসদ মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি এই ভিক্ষা পাত্র নিয়ে আসার জন্য দরবার করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকেও তিনি চিঠি লিখেছিলেন বলে উল্লেখ করেছেন।

জানা গিয়েছে, প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের ঘটনা। কালচে সবুজ বেলে পাথরের তৈরি এই পাত্র গৌতম বুদ্ধ ও তাঁর শিষ্যরা কাঁধে করে নিয়ে ঘুরতেন নগরের পথে পথে। এমনকী সেই পাত্রে যেটুকু ভিক্ষা হিসেবে পেতেন, তা দিয়েই বিহারের বৈশালী মঠের বৌদ্ধ ভিক্ষুক–সহ গৌতম বুদ্ধ নিজেও আহার সারতেন। গৌতম বুদ্ধের সেই ভিক্ষাপাত্র এখন কাবুল ন্যাশনাল মিউজিয়ামে সংরক্ষিত। দেশের এই সম্পদ এখন আফগানিস্তান থেকে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ করা হয়েছে।

এই বিষয়ে গবেষক রঞ্জিত কুমার বলেন, ‘‌এটা রঘুবংশবাবুর শেষ ইচ্ছা ছিল। তিনি কেন্দ্রকে যে চিঠি লিখে ছিলেন তাও প্রায় একবছর হতে চলল। ওই চিঠিতে আমার নাম লিখেছিলেন তিনি। এই বিষয়ে আলোচনা করার জন্য। তাঁর মৃত্যুর প্রথম বছর উদযাপন হতে চলেছে ১৩ সেপ্টেম্বর। অথচ বুদ্ধের সেই ভিক্ষা পাত্র আজও কাবুলে’‌।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে যখন এসএম কৃষ্ণ বিদেশমন্ত্রী তখন তিনি প্রথম বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। গৌতম বুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত সেই ভিক্ষা পাত্র ভারতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও খবর। বৈশালীর প্রাক্তন সাংসদ রঘুবংশ প্রসাদ সিংয়ের আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার উদ্যোগী হয়। এরপর বিশিষ্ট প্রত্নতত্ত্ববিদ এবং আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার রিজিওনাল ডিরেক্টর ফনীকান্ত মিশ্রকে কাবুল পাঠানো হয়। কিন্তু দীর্ঘ আট বছর ধরে দেশের সম্পদ দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি। মূল্যবান বৌদ্ধ ভিক্ষাপাত্র ভারতের হাতে আসার আগেই আফগানিস্তান দখল করল তালিবানরা।

এই বিষয়ে বিশিষ্ট প্রত্নতত্ত্ববিদ ফনীকান্ত মিশ্র জানান, বুদ্ধের স্পর্শধন্য এই সামগ্রীর কথাই আমরা জোর দিয়ে বলতে পারি। ওই পাত্র যে পাথরে তৈরি হয়েছে আজকের আফগানিস্তান বা তার কাছাকাছি অঞ্চলের কোথাও সেই জাতীয় পাথর পাওয়া যায় না। উত্তরপ্রদেশ, বিহার সর্বত্র এই পাথর পাওয়া যায়। ওই জাদুঘরের প্রতিটি সংগ্রহ মানব ইতিহাসের অংশ। তার যাতে ক্ষতি না হয় তাই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

বন্ধ করুন