মৃত্যু হয়েছে ফয়জনের (ছবি সৌজন্য টুইটার ভিডিয়োগ্র্যাব)
মৃত্যু হয়েছে ফয়জনের (ছবি সৌজন্য টুইটার ভিডিয়োগ্র্যাব)

রাস্তায় কাতরাচ্ছেন যুবক, জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ানোর ভাইরাল ভিডিয়োর ফয়জনের মৃত্যু

ফয়জনের দাদা বলেন, 'আমাদের সঙ্গে অবিচার হয়েছে। পুলিশকে মারার অধিকার কে দিয়েছে? ওঁরা কি আমাদের নিরাপত্তার জন্য নেই? '

রাস্তায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে পাঁচ যুবক। তাঁদের একজনকে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে বাধ্য করছে কয়েকজন উর্দিধারী। উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সংঘর্ষ চলাকালীন সোশ্যাল মিডিয়ার ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল এমন একটি ভিডিয়ো। তাঁদের মধ্যে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম ফয়জন (২৩)।

আরও পড়ুন : বন্দে মাতরম স্লোগানে শেষ বিদায় IB অফিসার অঙ্কিতকে, উঠল CAA পন্থী স্লোগানও

গত রবিবার থেকে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে ব্যাপক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। এরইমধ্যে গত মঙ্গলবার সকালে 'শাহিন বাগ অফিসিয়াল' নামের একটি টুইটার হ্যান্ডেল থেকে ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়। তাতে দেখা যায়, রাস্তায় শুয়ে কাতরাচ্ছেন পাঁচ যুবক। ফয়জন নামে এক যুবক জাতীয় সঙ্গীত গাইছেন। সেই দৃশ্য নিজের মোবাইল তুলে রাখছেন এক উর্দিধারী। এক উর্দিধারীর আওয়াজ শোনা যায়, 'বন্দে মাতরম গা।' অন্যদিকে, আরও তিন উর্দিধারী লাঠি দিয়ে খুঁচিয়ে দুই যুবককে 'আজাদি' স্লোগান দিতে বলছে। যদিও কোথায় ভিডিয়ো তোলা হয়েছে, তা কিছু বলা হয়নি।

আরও পড়ুন : দিল্লি হিংসায় মৃত বেড়ে ৪২, রবিবার থেকে নয়া পুলিশ কমিশনার

শুক্রবার মৃত্যু হয় ফয়জনের। পরে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ফয়জনের পরিবার অভিযোগ করে, তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছিল। ফয়জনের দাদা নইম জানান, বছর ২৩-এর ওই যুবক একটি মাংসের দোকানে কাজ করতেন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) দুপুরে যেখানে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলছিল সেখানে গিয়েছিলেন ফয়জন। নইম বলেন, 'আচমকা চারিদিকে টিয়ার গ্যাসের শেল ছোড়া হয়। যাঁরা সেখানে দাঁড়াতে পারছিলেন, তাঁরা কিছুটা এগিয়ে যেতে পুলিশ ধরে। তাঁদের বেধড়ক মারধর করা হয়। তাঁদের মৃত্যুর জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়।'

আরও পড়ুন : দিল্লির হিংসার মধ্যে সম্প্রীতির নজির, মুসলিম বিয়ের কার্ডে গণেশ,রাধা-কৃষ্ণের ছবি

পরিবারের অভিযোগ,ফয়জনকে হাসপাতালে তেগ বাহাদুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও কার্যত কোনও চিকিৎসা করা হয়নি। পরে তাঁকে জ্যোতি নগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে দু'দিন রাখা হয়। গত মঙ্গলবার ফয়জনকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, সেই সময় মাথা থেকে রক্ত পড়ছিল ফয়জনের। ভেঙে গিয়েছিল চোয়াল।

আরও পড়ুন : IB অফিসারকে ৪০০ বার কোপানো হয়েছিল, দাবি দিল্লির BJP সভাপতির

ভাইয়ের মৃত্যুর পর নইম বলেন, 'আমাদের সঙ্গে অবিচার হয়েছে। পুলিশকে মারার অধিকার কে দিয়েছে? ওঁরা কি আমাদের নিরাপত্তার জন্য নেই? '

বন্ধ করুন