বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > এভারেস্টের শৃঙ্গ ছুঁল করোনা, সংক্রমিত হলেন অসুস্থ পর্বতারোহী
এভারেস্ট পর্বত
এভারেস্ট পর্বত

এভারেস্টের শৃঙ্গ ছুঁল করোনা, সংক্রমিত হলেন অসুস্থ পর্বতারোহী

  • পর্বতারোহণের সময় এক পর্বতারোহী অসুস্থ হয়ে পড়ায়, দ্রুত তাঁকে হেলিকপ্টারে চড়িয়ে কাঠমাণ্ডুর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। নিয়মমাফিক করোনা পরীক্ষা করাতেই, ওই পর্বতারোহীর রিপোর্ট পজেটিভ আসে।

শৃঙ্গ জয় করল করোনা। পৌঁছে গেল বিশ্বের সর্বোচ্চ শিখরে। ছুঁয়ে ফেলল এভারেস্ট। পাহাড়ের উচ্চতায় অসুস্থ হয়ে পড়া এক পর্বতারোহীকে সমতলে এনে পরীক্ষা করতেই ধরা পড়ল তিনিও করোনায় সংক্রমিত।

মূলত পর্যটনের উপরেই নির্ভরশীল নেপাল। সেকারণে করোনা সংক্রমণের মধ্যেও বিদেশী পর্বতারোহীদের এভারেস্টে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল নেপাল সরকার। কিন্তু পর্বতারোহণের সময় এক পর্বতারোহী অসুস্থ হয়ে পড়ায়, দ্রুত তাঁকে হেলিকপ্টারে চড়িয়ে কাঠমাণ্ডুর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। নিয়মমাফিক করোনা পরীক্ষা করাতেই, ওই পর্বতারোহীর রিপোর্ট পজেটিভ আসে।

বুধবারই এই ঘটনা প্রথম প্রকাশ্যে আসে একটি ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে। সেখানে তুলে ধরা হয়েছে, পাহাড়ে চড়াইয়ের সময় ওই পর্বতারোহী অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে সন্দেহ করা হয়েছিল, অতিরিক্ত উচ্চতায় তাঁর শ্বাসযন্ত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা চিকিৎসার পরিভাষায় ‘‌হাই-অল্টিটিউড পালমোনারি ইডিমা’‌ নামে পরিচিত। তবে কাঠমাণ্ডুর হাসপাতালে নিয়ে এসে নিয়ম অনুয়ায়ী তাঁর করোনা পরীক্ষা করা হয়। এতেই তাঁর রিপোর্ট পজেটিভ আসে। এছাড়াও ‘‌নিউ ইয়র্ক টাইমস’‌ পত্রিকার তরফেও জানানো হয় যে, ওই দলটিকে বেস ক্যাম্পে নিয়ে আসার পর একাধিক পর্বতারোহীর রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।

নরওয়ের বাসিন্দা ওই পর্বতারোহী আরলেন্ড নেস সংবাদ সংস্থা এপিএফকে বলেছেন, ‘‌ আমি এখন ভালো আছি। এই হাসপাতাল আমার যত্ন নিচ্ছে।’‌ তিনি নরওয়ের আরেকটি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আশা করছি আর কেউ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হননি। কারণ, ৮০০০ মিটার উচ্চতায় ওইভাবে কাওকে নীচে নামানো সম্ভব নয়।’‌

সূত্রের খবর, বুধবার পর্যন্ত বিদেশী পর্বতারোহীদের মোট ৩৭৭টি ‘‌ক্লাইমিং পারমিট’‌ দিয়েছে নেপালের পর্যটন দফতর। তবে মোট কতজন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, সে বিষয়ে নেপালের পর্যটন মন্ত্রকের তরফে কিছু জানানো হয়নি।

এভারেস্টের করোনা নিয়ে চিকিৎসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। কারণ, ‘‌হাই-অল্টিটিউড পুলমোনারি ইডিমা’‌—র অধিকাংশ উপসর্গ করোনার মতোই। চিকিৎসকদের মতে, অল্টিটিউড সিকনেস বেশি উচ্চতায় গেলে হয়। তার উপসর্গও সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং দুর্বলতা।

এক্ষেত্রে দু’‌টি ভিন্ন রোগের চিকিৎসা করতে গিয়ে একে অপরের সঙ্গে গুলিয়ে না যায়, তা নিয়েও যথেষ্ট সতর্ক রয়েছেন চিকিৎসকরা।

তবে এক শেরপা জানান, বেস ক্যাম্পে সবকিছুই এখন স্বাভাবিক রয়েছে। করোনা সংক্রমণের কোনও আশঙ্কাও নেই। অন্য দিকে, বিদেশ থেকে আসা পর্বতারোহীরাও করোনার ভয়ে বাড়ি ফিরতে নারাজ। এক সংস্থার তরফে জানানো হয়, তাদের সঙ্গে আসা পর্বতারোহীদের নিয়মিত করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে তাছাড়া বাইরের কারোর সংস্পর্শে যেতেও বারণ করা হয়েছে। সেকারণে সংক্রমিত হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।

 

বন্ধ করুন