বাড়ি > ঘরে বাইরে > ভ্যাক্সিন নয়, জলেই মৃত্যু করোনাভাইরাসের, দাবি রুশ বিজ্ঞানীদের
জলের সাহায্যে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করোনাভাইরাস সম্পূর্ণ নিকেশ করা সম্ভব। 
জলের সাহায্যে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করোনাভাইরাস সম্পূর্ণ নিকেশ করা সম্ভব। 

ভ্যাক্সিন নয়, জলেই মৃত্যু করোনাভাইরাসের, দাবি রুশ বিজ্ঞানীদের

  • জলে থাকলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মারা যাচ্ছে ৯০% করোনাভাইরাস। ৭২ ঘণ্টা জলে থাকলে ৯৯.৯৯% করোনাভাইরাসের মৃত্যু হচ্ছে।

জলের মধ্যে বেশিক্ষণ বাঁচতে পারে না নোভেল করোনাভাইরাস। প্রচলিত ধারণা উলটে দিয়ে এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা। 

সম্প্রতি রাশিয়ার স্টেট রিসার্চ সেন্টার অফ ভাইরোলজি অ্যান্ড বায়োটেকনলজির গবেষণায় দেখা গিয়েছে, জলে থাকলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মারা যাচ্ছে ৯০% করোনাভাইরাস। আর ৭২ ঘণ্টা জলে থাকলে ৯৯.৯৯% করোনাভাইরাসের মৃত্যু হচ্ছে। শুধু তাই নয়, গবেষকদের দাবি, ফুটন্ত জলে সম্পূর্ণ ধ্বংস হচ্ছে এই ভাইরাস।

গত ৩০ জুলাই রাশিয়ান ফেডেরাল সার্ভিস ফর হিউম্যান ওয়েলবিইং উদ্ধৃত গবেষণা অনুযায়ী, জলের সাহায্যে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করোনাভাইরাস সম্পূর্ণ নিকেশ করা সম্ভব। পাশাপাশি, ক্লোরিন মিশ্রিত জলে এই জীবাণু একেবারে শক্তিহীন হয়ে পড়ে বলেও জানা গিয়েছে গবেষণায়। আর সমুদ্রের জলেও সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে যায় করোনাভাইরাস, দাবি রুশ বিজ্ঞানীদের।

বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গবেষকরা উপকূল অঞ্চলের সামুদ্রিক জল ছাড়াও সুইমিং পুল, স্বাস্থ্য নিবাস, ওয়াটার পার্ক এবং পানীয় জলের নমুনা পরীক্ষা করে দেখেন। কিন্তু সেখানে কোনও অ্যাক্টিভ কোভিড সৃষ্টিকারী ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। 

তবে গবেষণাপত্রে নিকাশী জলে ভাইরাসের অস্তিত্বের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। যদিও জলে উপস্থিত উপাদান ও তাপমানের উপরে ভাইরাসের অস্তিত্ব নির্ভর করে বলে জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘ভাইরাস জলীয় পরিমণ্ডলে প্রবেশ করার পরে তার বেঁচে থাকা নির্ভর করে জলে উপস্থিত উপাদান ও তাপমাত্রার উপরে। তাপমাত্রা বাড়লে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ভাইরাস অকেজো হয়ে পড়ে।’

এ ছাড়া করোনাভাইরাসের উপরে ইথাইল ও আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহলের প্রভাব নিয়েও গবেষণা করা হয়েছে এবং দেখা গিয়েছে যে, ৩০% ঘনত্বে তিরিশ সেকেন্ডের মধ্যে লাখ লাখ ভাইরাস ধ্বংস করা সম্ভব হয়। একই প্রভাব দেখা গিয়েছে ক্লোরিন মিশ্রিত জলে ভাইরাসের উপস্থিতিতেও। এক কথায়, ন্যূনতম ৬০% ঘনত্বে করোনাভাইরাস ধ্বংস হয়। 

রাশিয়ার এই গবেষণা নিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলেছে। তবে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে যে ফল দেখা গিয়েছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে সুইমিং পুল চালু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বেশিরভাগ দেশেই করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় সুইমিংপুলগুলি বন্ধ রাখা হয়েছে। 

এর আগে WHO জানিয়েছিল যে, ২০০৮ সালের পরীক্ষায় জলের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে করোনাভাইরাসের সক্রিয় ভাবে বেঁচে থাকার প্রমাণ মিলেছিল। তবে বর্তমান গবেষণায় যে দাবি করা হয়েছে, তাতে আশার আলো দেখছেন বিজ্ঞানীরা। 

বন্ধ করুন