করোনাভাইরাসের প্রভাবে সংকট ঘনাল চিনের অর্থনীতিতে। ছবি সৌজন্যে রয়টার্স। (REUTERS)
করোনাভাইরাসের প্রভাবে সংকট ঘনাল চিনের অর্থনীতিতে। ছবি সৌজন্যে রয়টার্স। (REUTERS)

করোনার শিকার ছাড়াল ১০০০, মহাসংকটের মুখে চিনের অর্থনীতি

শয়ে শয়ে চিনা সংস্থা জানিয়েছে, ব্যবসা চালু রাখতে হলে অবিলম্বে কর্মী ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি প্রয়োজন কয়েকশো কোটি ডলার বিনিয়োগের। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আশ্বাস সত্ত্বেও স্বাভাবিক কারণেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে দেশের কর্মসংস্থান।

হাজার ছাড়িয়ে গেল চিনে নোভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা। মহামারীর ছায়ায় বড়সড় ক্ষতি শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে, যার মাশুল গুনতে হচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে।

শয়ে শয়ে চিনা সংস্থা জানিয়েছে, ব্যবসা চালু রাখতে হলে অবিলম্বে কর্মী ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি প্রয়োজন কয়েকশো কোটি ডলার বিনিয়োগের। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আশ্বাস সত্ত্বেও স্বাভাবিক কারণেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে দেশের কর্মসংস্থান।

মঙ্গলবারের হিসেব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত চিনে করোনাভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ১,০১৬ রোগীর। সেই সঙ্গে ২,৪৭৮টি নতুন সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গিয়েছে, যার জেরে মোট সংক্রামিতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৪২,৬৩৮ জনে।

চিনের বাইরেও ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে এই মারণ ভাইরাস, জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’। এ পর্যন্ত ২৪টি দেশে এই জীবাণু সংক্রামিত হওয়ার খবর মিলেছে ৩১৯টি।।


আরও পড়ুন: করোনাভাইরাসে মৃত ২৫ হাজার, দাবি চিনা বহুজাতিক সংস্থার


চিনে তিনশোটির বেশি সংস্থা মোট ৫৭৪ কোটি ইউয়ান (প্রায় ৮২ কোটি ডলার) ব্যাঙ্ক লোনের জন্য এ পর্যন্ত আবেদন জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে খাদ্য সরবরাহকারী সংস্থা মেইতুয়ান ডিয়ানপিং, স্মার্টফোন নির্মাতা শিয়াওমি কর্পোরেশন এবং পরিবহণ সংস্থা ডিডি চুকশিং টেকনোলজি কর্পোরেশন। জনপ্রিয় চিনা রেস্তোরাঁ চেন শিবেই জানিয়েছে, তাদের ২০ হাজার কর্মীর বেতন কী ভাবে মেটানো হবে, তার দুশা পাওয়া যাচ্ছে না। ইতিমধ্যেই সোমবার ৫০০ কর্মী ছাঁটাই করেছে চিনের শিনচাও মিডিয়া সংস্থা।

এ দিন বেজিংয়ের তরফে জানানো হয়েছে, কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত করতে পদক্ষেপ করা হবে। পাশাপাশি, বাজারের পতন যথাসম্ভব নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশে কমানো হয়েছে সুদের হার। ওয়াল স্ট্রিটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যদিও এ দিন এশিয়ার শেয়ারবাজারে সামগ্রিক উত্থান দেখা গিয়েছে, তবু চান্দ্র বছরের শেষে বাজার বিশেষজ্ঞরা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে আসন্ন অর্থনৈতিক সংকট সম্পর্কে পূর্বাভাস করেছেন।

চিন সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের জেরে দেশের বার্ষিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধি হ্রাস পেতে চলেছে। বিশ্লেষকদের দাবি, চিনা সংকটের কারণে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক ফল দেখা দেবে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ক্ষেত্রেও।

সোমবার করোনাভাইরাসের আতুরঘর চিনের হুবেই প্রদেশে নতুন ২,০৯৭ ব্যক্তির শরীরে মারণজীবাণুর সন্ধান পাওয়া গিয়েছে, যা রবিবারের তুলনায় ২০% কম। এ দিনই ১০৩ জন হুবেইবাসী ভাইরাস সংক্রমণের জেরে মারা গিয়েছেন, যা এযাবৎ হিসেবে সর্বোচ্চ। এর জেরে বহিষ্কার করা হয়েছে হুবেই প্রদেশ স্বাস্থ্য কনমিশেনের কমিউনিস্ট পার্টি প্রধান ঝ্যাং জিন এবং অধিকর্তা লিউ ইংঝিকে। রেল সত্টেশন, বিমানবন্দর ও সড়ক আটকে হুবেইকে কার্যত গোটা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে চিন সরকার। কিন্তু চিন্তা দেখা দিয়েছে ১৬ কোটি বাসিন্দাকে নিয়ে, যাঁরা হুবেই.ের কর্মস্থল থেকে ছুটি পেয়ে দেশের অন্যান্য প্রান্তে বাড়ি ফিরবেন।

অন্য দিকে, জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরে নোঙর করা ডায়মন্ড প্রিন্সেস জাহাজে নোভেল করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫ জন। ৩.৭০০ যাত্রী বোঝাই ওই জাহাজে ভাইরাস সংক্রমণের খবর জানিয়ে এর আগে ফেসবুকে ভারতীয় হাইকমিশনের সাহায্যের জন্য আর্জি জানান উত্তর দিনাজপুরের বাসিন্দা ওই জাহাজের কর্মী বিনয় কুমার সরকার।

বন্ধ করুন