বাড়ি > ঘরে বাইরে > ফাঁকা ফ্ল্যাটের টয়লেটে করোনা, পাওয়া গেল নিকাশি পাইপ বেয়ে জীবাণু ছড়ানোর প্রমাণ
চিনের এক অব্যবহৃত ফ্ল্যাটের শৌচাগারে পাওয়া গিয়েছে করোনাভাইরাসের নমুনা।
চিনের এক অব্যবহৃত ফ্ল্যাটের শৌচাগারে পাওয়া গিয়েছে করোনাভাইরাসের নমুনা।

ফাঁকা ফ্ল্যাটের টয়লেটে করোনা, পাওয়া গেল নিকাশি পাইপ বেয়ে জীবাণু ছড়ানোর প্রমাণ

  • টয়লেট ফ্লাশের ফলে জলকণাবাহিত ভাইরাস নিকাশি পাইপ বেয়ে কোভিড আক্রান্ত ফ্ল্যাট থেকে তার ১৫ তলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

জনহীন ফ্ল্যাটের শৌচাগারে পাওয়া গেল করোনাভাইরাসের উপস্থিতি। গবেষকদের দাবি, বাড়ির নিকাশি পাইপ বেয়ে ছড়িয়ে পড়ছে কোভিড জীবাণু। চিনের গুয়াংঝৌ শহরের ঘটনায় ফিরে এল ১৭ বছর আগে হংকংয়ে সর্বগ্রাসী সার্স অতিমারীর স্মৃতি। 

গত ফেব্রুয়ারি মাসে বহুকাল অব্যবহৃত একটি ফ্ল্যাটের শৌচাগারের বেসিন, জলের কল এবং শাওয়ারের চাবিতে পাওয়া গিয়েছে করোনাভাইরাসের নমুনা। চলতি মাসে চিনের পরিবেশ ও রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত ‘এনভায়রনমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল’ জার্নালে এই ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ওই শৌচাগারের নীচের ফ্ল্যাটে ৫ জন কোভিড আক্রান্ত হয়েছিলেন।

বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, টয়লেট ফ্লাশের ফলে জলকণাবাহিত ভাইরাস নিকাশি পাইপ বেয়ে কোভিড আক্রান্ত ফ্ল্যাট থেকে তার ১২ ও ১৫ তলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। যার ফলে ফেব্রুয়ারি মাসের গোড়ায় এই দুই তলার প্রতিটিতে দুই জন করোনা রোগীর সন্ধান মিলেছে।

২০০৩ সালে হংকং শহরের অ্যাময় গার্ডেন আবাসনে ঠিক এ ভাবেই নিকাশি পাইপ বেয়ে করোনাভাইরাসের আর এক প্রজাতি ছড়িয়ে পড়লে ৩২৯ জন বাসিন্দা সার্স সংক্রমিত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৪২ জন মারা যান। 

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল ল্যাবরেটরি ফর এয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড হেল্থ-এর ডিরেক্টর লিডিয়া মোরস্কা জানিয়েছেন, অধিকাংশ আবাসনে একই নিকাশি বা পানীয় জলের পাইপলাইনের সঙ্গে যুক্ত থাকে একাধিক ফ্ল্যাট। এই কারণে, অনেক সময় জলের সঠিক জোগানের অভাবে কোনও একটি রান্নাঘর বা শৌচাগার থেকে অন্যত্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। 

গবেষকরা এর আগেই প্রমাণ করেছেন, শ্বাসবাহিত জলকণার সাহায্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঘটে। তবে এর পাশাপাশি চিনের গবেষকরা দাবি করেছেন, বর্জ্য থেকেও সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। কোভিড আক্রান্ত রোগীদের বর্জ্য পরীক্ষা করেও পাওয়া গিয়েছে তার প্রমাণ। 

এর আগে গবেষণায় দেখা গিয়েছে, টয়লেট ফ্লাশ ব্যবহারের জেরে নিকাশি পাইপ বেয়ে বর্জ্য নামার সময় জলকণাবাহিত হাওয়ায় ভর করে করোনাভাইরাস পাইপের উর্ধ্বভাগে প্রায় ৩ ফিট পর্যন্ত উঠে যেতে পারে। হংকংয়ের অ্যাময় গার্ডেন্সে সেই জলকণাকে ঠেলে আরও উপরে তুলে নিয়ে গিয়েছেল নিকাশি পাইপের ভিতরে থাকা তপ্ত বাতাস। আর সেই সূত্রেই ১৫ তলা উপরে থাকা বাসিন্দাও ভাইরাসের শিকার হয়েছিলেন। 

সম্প্রতি ইতালির মিলান থেকে বিচ্ছিন্ন নাগরিকদের নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়াগামী বিমানের শৌচাগার থেকেও কোভিড ছড়াতে দেখা গিয়েছে। আমেরিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত ছোঁয়াচে রোগ সংক্রান্ত জার্নালে ছাপা গবেষণাপত্রে এি তথ্য জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। 

ওই নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়াগামী বিমানের শৌচালয় ব্যবহার করার পরে কোভিড আক্রান্ত হন ২৮ বছরের এক যুবতী। বিমানবন্দর ও বিমানেখেন। তিনি সর্বদাই মাস্ক ব্যবহার করলেও শৌচালয়ে গিয়ে তা কিছুক্ষণ খুলে রেখেছিলেন। সেই সময়ই করোনা সংক্রমণের শিকার হন যুবতী। জানা গিয়েছে, ওই বিমানে থাকা উপসর্গহীন এক কোভিড রোগীও সকলের সঙ্গে শৌচাগারটি ব্যবহার করেছিলেন। তাঁর বর্জ্য থেকেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। 

 

বন্ধ করুন