করোনাভাইরাস আক্রান্ত ইরানে সংক্রমণ রুখতে অফিসে প্রবেশের আগে পরীক্ষা করা হচ্ছে কর্মীদের শারীরিক তাপমাত্রা। ছবি সৌজন্যে এএফপি। (AFP)
করোনাভাইরাস আক্রান্ত ইরানে সংক্রমণ রুখতে অফিসে প্রবেশের আগে পরীক্ষা করা হচ্ছে কর্মীদের শারীরিক তাপমাত্রা। ছবি সৌজন্যে এএফপি। (AFP)

আমাদের বাঁচান! করোনা আক্রান্ত ইরান থেকে আর্তি কলকাতার সায়ন্তনের

পারান্দ শহরে খুব কম মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছেন। গৃহবন্দি ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে মাত্র ৫ দিনের খাবার মজুত রয়েছে।

নোভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্কে ইরানের পারান্দ শহরের একটি অ্যাপার্টমেন্টে স্বেচ্ছাবন্দি রয়েছেন ১১ জন ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার। তাঁদের মধ্যে আছেন দুই বঙ্গসন্তান।

মারণভাইরাসের আতঙ্কে কার্যত গোটা শহরই আপাতত গৃহবন্দি, পারান্দের ওই অ্যাপার্টমেন্ট থেকে জানিয়েছেন আদতে কলকাতার বাসিন্দা ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার সায়ন্তন বন্দ্যোপাধ্যায়।

ফেসবুকে পোস্ট করা ভিডিয়ো বার্তায় সায়ন্তন জানিয়েছেন, ‘এখানে আমরা মোট ২২ জন আছি। একই সংস্থার কর্মী আমরা সকলে। আমাদের মধ্যে ১১ জন ভারতীয়। প্রচণ্ড আতঙ্কের কারণে নিজেদের গৃহবন্দি করে রেখেছি। করোনাভাইরাস সংক্রমণের বাড়াবাড়ির ফলে বাইরে যেতে পারছি না। এখান থেকে প্রায় ১৩০ কিমি দূরে কুম শহরে বহু লোক মারা গিয়েছেন এই সংক্রমণের জেরে।’

ওই ভিডিয়ো বার্তায় তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘এই মুহূর্তে ইরান থেকে বাইরে যাওয়ার সমস্ত উড়ান বাতিল হয়ে গিয়েছে। আগামী দিনে আমাদের কী হবে, সে সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই। ভারত সরকারের কাছে আমাদের সনির্বন্ধ অনুরোধ, দয়া করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি থেকে আমাদের মুক্ত করুন।’

সায়ন্তন জানিয়েছেন, অ্যাপার্টমেন্টে তাঁদের সঙ্গে আটকে পড়েছেন পাকিস্তান, শ্রী লঙ্কা ও নেপালের কয়েক জন ইঞ্জিনিয়ারও।

পরে এক বাংলা টিভি চ্যানেলকে তিনি ভিডিয়ো কল মারফৎ জানিয়েছেন, পারান্দ শহরে খুব কম মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘অল্প কয়েক দিনের মতো খাবার মজুদ রয়েছে আমাদের সঙ্গে। বাইরে বেরোনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’

সায়ন্তনের সঙ্গে পারান্দ শহরের ওই অ্যাপার্টমেন্টে আটকে পড়েছেন আর এক বঙ্গসন্তান বিকাশ দাস। পেশায় মেক্যানিকাল ইঞ্জিনিয়ার বিকাশ দুর্গাপুরের বাসিন্দা। তাঁর বাবা বিষ্ণুপদ দাস জানিয়েছেন, ভিডিয়ো কল মারফৎ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময়ও ঘরের ভিতর মুখোশ পরে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন বিকাশ।

বিষ্ণুপদ জানিয়েছেন, বিকাশদের দফতর গত কয়েক দিন যাবৎ করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে বন্ধ রয়েছে। শহরের বেশিরভাগ দোকান ও বাজারও বন্ধ। গতকাল বিকাশ জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে আগামী ৫ দিনের মতো খাবার মজুত রয়েছে। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই খাবার বাঁচানোর উদ্যোগ নিয়েছেন গৃহবন্দি ইঞ্জিনিয়াররা।

দুর্গাপুরের মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেটর তথা তৃণমূল নেতা রমাপ্রসাদ হালদার জানিয়েছেন, ‘জেলা প্রশাসনকে এই বিষয়ে জানানো হয়েছে এবং এই সম্পর্কে রাজ্য সরকারের কাছে দরবার করার আর্জি জানানো হয়েছে।’

বন্ধ করুন