লকডাউনে মুম্বইয়ে দুর্গতদের খাবার বিতরণ করছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। সোমবার এএনআই-এর ছবি।
লকডাউনে মুম্বইয়ে দুর্গতদের খাবার বিতরণ করছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। সোমবার এএনআই-এর ছবি।

Covid-19 death: ৪ হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার পরে মৃত মুম্বইয়ের পুলিশকর্মী

শুক্রবার পরীক্ষায় তিনি করোনা পজিটিভ প্রমাণিত হলে পর পর চারটি হাসপাতাল তাঁকে ভরতি নিতে অস্বীকার করে।

শেষ পর্যন্ত মারাই গেলেন চারটি সরকারি হাসপাতালের দরজা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া মুম্বই পুলিশের ৫৭ বছর বয়েসি করোনা আক্রান্ত হেড কনস্টেবল। সোমবার তাঁর মৃত্যুতে মুম্বই পুলিশবাহিনীর মোট তিন জন কর্মী ৪৮ ঘণ্টায় করোনায় প্রাণ হারালেন।

পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত কনস্টেবল পরেলের কিং এডওয়ার়্স মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত শুক্রবার পরীক্ষায় তিনি করোনা পজিটিভ প্রমাণিত হলে পর পর চারটি হাসপাতাল তাঁকে ভরতি নিতে অস্বীকার করে, অভিযোগ ওই পুলিশকর্মীর পরিবারের। শেষ পর্যন্ত তাঁকে কিং এডওয়ার্ডস হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে ভরতি করা হয়।

নিহত পুলিশ কনস্টেবলের ছেলের দাবি, প্রবল জ্বর দেখা দিলে প্রথমে বাবাকে দুপুর ২টো নাগাদ রাজাওয়াড়ি হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁকে পরীক্ষা করার পরে বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

সেই পরামর্শ না মানলে হাসপাতালে শয্যা খালি নেই জানিয়ে এর পর তাঁকে কস্তুরবা হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে নিয়ে গেলে পুলিশকর্মীকে অক্সিজেন দেওয়া হয়। তার পর তাঁকে নায়ার হাসপাতালে রেফার করা হয়। অভিযোগ, রোগীর সোয়্যাব নমুনা পর্যন্ত নিতে অস্বীকার করেন নায়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা। উলটে তাঁকে রেফার করা হয় পরেলের কিং এডওয়ার্ডস হাসপাতালে।

এই হাসপাতালের চিকিৎসকরাও প্রথমে ভরতি নিতে নারাজ হলে বাধ্য হয়ে পুলিশ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওই কনস্টেবলের ছেলে। শেষ পর্যন্ত পুলিশের কথায় রাত ১১টায় তাঁকে ভরতি করা হয় আইসিইউ বিভাগে। সেখানেই এ দিন সকালে মারা যান পুলিশকর্মী।

জানা গিয়েছে নিহত পুলিশকর্মীর ভাইও মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চে চাকুরিরত। নিহতের স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছেন। তাঁরা কুরলার কামানি বস্তির বাসিন্দা।

শুক্রবার বৃহন্মুম্বই পুর নিগমের ডেপুটি স্বাস্থ্য আধিকারিক দক্ষ শাহ জানিয়েছিলেন, ওই পুলিশকর্মীর শারীরিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে হাসপাতালের ডডিন কথা বলবেন। শেষ পর্যন্ত সেই প্রয়োজন ফুরিয়েছে।

এ দিকে নিহত কনস্টেবলের সংস্পর্শে এসে করোনা সংক্রামিত হয়েছেন কুরলা ট্র্যাফিক বিভাগে কর্মরত আর এক ৩৫ বছর বয়েসি পুলিশকর্মী। ঠানের কৌশল্যা হাসপাতালে পরীক্ষার পরে তাঁকে করোনা পজিটিভ চিহ্নিত করা হয়েছে।

বন্ধ করুন