শক্তিকান্ত দাস  (PTI)
শক্তিকান্ত দাস (PTI)

করোনার জেরে তিন মাস EMI না দেওয়ার পথ সুগম করল RBI, কারা পাবেন এই সুবিধা?

ব্যাঙ্কগুলিকে এই বিষয়ে ছাড়পত্র দিল আরবিআই।

করোনার জেরে বেহাল ভারতীয় অর্থনীতি। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য বৃহস্পতিবার একগুচ্ছ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন নির্মলা সীতারামন। শুক্রবার রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস তাঁর দিক থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন, যেগুলি ইতিমধ্যেই বাহবা কুড়িয়েছে মোদী ও সীতারামনের।

প্রত্যাশিত ভাবেই রেপো রেট কমিয়েছে আরবিআই। রেপো রেট অর্থাত্ যেই হারে ব্যাঙ্কগুলিকে ধার দেয় শীর্ষ ব্যাঙ্ক। এটি কমানোয় ব্যাঙ্কও লোনের ওপর কম সুদ নেবে, এমনটাই আশা করা যায়। এতে লাভবান হবেন সাধারণ গ্রাহকরা। এছাড়াও অর্থনীতিতে টাকা ঢোকানোর জন্য বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আরবিআই-এর তরফ থেকে।

তবে সবচেয়ে বেশি যেটা সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষদের সুবিধা হবে, সেটি হলো তিন মাসের জন্য ঋণের ওপর মোরাটোরিয়াম ঘোষণা করেছে আরবিআই। ব্যাঙ্করা চাইলে এই তিন মাস সমস্ত গ্রাহকদের কাছ থেকে লোন নেওয়া স্থগিত করতে পারে, অর্থাত্ তাদের তিন মাস ইএমআই দিতে হবে না। প্রাথমিক ভাবে সংশয় থাকলেও, পরে আরবিআই জানায় সমস্ত রিটেল লোনের ক্ষেত্রেই এটা প্রযোজ্য।এটি কোনও ভাবেই লোন নেওয়া ব্যক্তির ক্রেডিট ইতিহাসের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বলেও আরবিআই আস্বস্ত করেছে।

সমস্ত বাণিজ্যক ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কের মধ্যে রিজিওনাল রুরাল ব্যাঙ্ক, স্মল ফিনান্স ব্যাঙ্ক ও লোকাল এরিয়া ব্যাঙ্কও অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক, এনবিএফসি (হাউজিং ফিনান্স কোম্পানি ও মাইক্রো ফিনান্স ইন্সটিটিউশন)-কেও তিন মাস ইএমআই না নেওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। সর্বভারতীয় ফাইনান্স কোম্পানিগুলিকেও এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও ব্যবসায়ীদের জন্যও স্বস্তির খবর দিয়েছে আরবিআই। ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ফেসিলিটি যেখানে ক্যাশ ক্রেডিট বা ওভারড্রাফ্ট হিসাবে নেওয়া হয়েছে, সেখানে তিন মাসের জন্য সুদ নেওয়া স্থগিত করতে পারে লেনডিং সংস্থাগুলি। এই মেয়াদকালের পর পুঞ্জীভূত সুদ তারা নিতে পারেন। তবে এই তিন মাসের সুদ না দেওয়ার জন্য অ্যাসেট ক্লাসিফিকেশন ডাউনগ্রেড করা যাবে না।

এছাড়াও অতিরিক্ত ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ব্যবসা চালানোর জন্য লাগলে, সম্পর্কিত শর্তাদি শিথিল করা যেতে পারে বলে আরবিআই জানিয়েছে। তবে কেউ অতিরিক্তি অর্থ নিলেও তার জন্য অ্যাসেট ক্লাসিফিকেশন ডাউনগ্রেড করা যাবে না কারণ এটি করোনার পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া।

কোনও ভাবেই এই সময় ঋণ ফেরত না দেওয়াকে নেতিবাচক রূপে গণ্য করা যাবে না ভবিষ্যতে লোন দেওয়ার ক্ষেত্রে। সেটি ক্রেডিট ইনফর্মেশন কোম্পানিগুলিকে খেয়াল রাখতে হবে বলে জানিয়েছে আরবিআই।


বন্ধ করুন