বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > Covid 19 update: হু হু করে রোগ ছড়াচ্ছে ‘সুপার স্প্রেডার’রা, হিমশিম কেন্দ্র
ফল ও সবজি বিক্রেতার থেকে জীবাণু সংক্রমণ ঘটেছে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে।
ফল ও সবজি বিক্রেতার থেকে জীবাণু সংক্রমণ ঘটেছে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে।

Covid 19 update: হু হু করে রোগ ছড়াচ্ছে ‘সুপার স্প্রেডার’রা, হিমশিম কেন্দ্র

  • অত্যাবশকীয় পণ্য সরবরাহকারীদের মাধ্যমে ব্যাপক হারে সংক্রমণের ঘটনায় বিশেষ উদ্বিগ্ন চিকিৎসক মহল।

অত্যাবশকীয় পণ্য সরবরাহকারীদের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস সংক্রমণ। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে দেখা দিয়েছে নতুন এই বিপদ।

সম্প্রতি জয়পুর পৌরসভার এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, কমপক্ষে ১০ জন ফল ও সবজি বিক্রেতার দ্বারা অন্তত ১৫০ জন শহরবাসী সংক্রমিত হয়েছেন। 

গুজরাতে সবজি, দুধ ও মুদি দোকানিদের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়েছে আমদাবাদ শহরের ৩০টি নতুন এলাকায়। 

একই প্রবণতা দেখা দিয়েছে ওডিশাতেও। ভুবনেশ্বরে এক বিরিয়ানি ডেলিভারি বয়ের সুবাদে গোটা এলাকা কনটেিনমেন্ট জোন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

লখনউয়ের কাইজারবাগে সবজি বিক্রেতেরা সংস্পর্শে এসে সংক্রমিত হয়েছেন তাঁর নিজপরিবারের তিন সদস্য-সহ ৮ জন। 

কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা সাংসদ রাহুল গান্ধীর কেন্দ্র ওয়ানাডে সংক্রমণ ছড়িয়েছেন চেন্নাই থেকে আসা এক ট্রাকচালক। তাঁর সুবাদে একসঙ্গে সংক্রমিত হয়েছেন ১১ জন।

 

আরও পড়ুন:  করোনার রেড জোনে ফল কিনতে বাজারে ভিড়, বাধা দেওয়ায় হাওড়ায় পুলিশের ওপর হামলা

দিল্লির তুঘলকাবাদ অঞ্চলে এক মুদি দোকানির থেকে সংক্রমণ ছড়িয়েছে ৫১ জন খদ্দেরের। আজাদপুরের এক ফল ও সবজি বিক্রেতার থেকে জীবাণু সংক্রমণ ঘটেছে জাহাঙ্গিরপুরূ ও রোহিনি এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। 

এপ্রিলের ২৪ তারিখ পর্যন্ত কোনও কোভিড রোগীর সন্ধান পাওয়া না গেলেও হরিয়ানার ঝজ্ঝরে সম্প্রতি ৭৩টি সংক্রমণের খবর পাওয়া গিয়েছে। জানা গিয়েছে, ১১ জন সবজি বিক্রিতেরা থেকেই শহরে ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস। তাঁরা যে সমস্ত এলাকায় সবজি বিক্রি করতে গিয়েছেন, সেখান থেকেই খবর আসছে সংক্রমণের, জানিয়েছেন ঝজ্ঝরের সিভিল সার্জেন রণদীপ পুনিয়া। 

অত্যাবশকীয় পণ্য সরবরাহকারীদের মাধ্যমে এই ব্যাপক হারে সংক্রমণের ঘটনায় বিশেষ উদ্বিগ্ন চিকিৎসক মহল। তাঁরা এই সমস্ত সংক্রমণ বাহকদের ‘সুপার স্প্রেডার’ হিসেব চিহ্নিত করা হয়েছে। 

 

আরও পড়ুন:  লকডাউনে কোন কোন দোকান খোলা থাকবে, স্পষ্ট করল কেন্দ্র

জয়পুরের কোবিড ম্যানেডজমেন্ট বিভাগের নোডাল অফিসার অজিতাভ শর্মার দাবি, এই সমস্ত জীবাণু বাহকদের খুঁজে পাওয়াই বড় সমস্যা। তাঁদের মধ্যে প্রাথমিক কোনও উপসর্গ লক্ষ্য করা যায় না বলে তিনি জানিয়েছেন। তা ছাড়া রোজগার হারানোর ভয়ে অনেকেই উপসর্গ লুকিয়ে রাখেন বলেও তাঁর দাবি। 

এই সমস্যার হাত থেকে নিস্তার পেতে সম্প্রতি সমস্ত ফেরিওয়ালা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রেতার প্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে জয়পুর প্রশাসন। ছাড়া এলাকাভিত্তিক ঠেলাগাড়ির রং-ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এক এলাকায় ১০ জনের বেশি পেরিওয়ালাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। 

ঝজ্ঝরের সমস্ত দুধ বিক্রেতা, দুধের বুথের মালিক ও দোকানিদের আরোগ্য সেতু অ্যাপ ডাউনলোড বাধ্যতামূলক করেছে প্রশাসন। প্রতিদিন এই অ্যাপের মারফৎ নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রশাসনকে তাঁদের জানানোর নির্দেশ জারি হয়েছে। 

দিল্লি এইমস-এর কোভিড সেন্টার প্রধান রাজেশ মালহোত্রা জানিয়েছেন, সুপার স্প্রেডারদের আগমনে এখন আক্রান্ত ব্যক্তির সফর ইতিহাস যাচাই করা গুরুত্ব হারিয়েছে। সুপার স্প্রেডার নিয়ন্ত্রণে সরকারের নতুন নীতি তৈরি করাও দরকার বলে তাঁর অভিমত।

 

বন্ধ করুন