বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > Covid-19 Vaccine Updates: কোভ্যাক্সিন আদৌও কতটা কার্যকরী? সেরাম কর্তার মন্তব্যে উঠছে প্রশ্ন
সেরাম কর্তা জানান, সারা বিশ্বে মাত্র তিনটি করোনাভাইরাস টিকার (অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়-অ্যাস্ট্রোজেনেকা, ফাইজার এবং মর্ডানার টিকা) কার্যকারিতার প্রমাণ মিলেছে। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)
সেরাম কর্তা জানান, সারা বিশ্বে মাত্র তিনটি করোনাভাইরাস টিকার (অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়-অ্যাস্ট্রোজেনেকা, ফাইজার এবং মর্ডানার টিকা) কার্যকারিতার প্রমাণ মিলেছে। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)

Covid-19 Vaccine Updates: কোভ্যাক্সিন আদৌও কতটা কার্যকরী? সেরাম কর্তার মন্তব্যে উঠছে প্রশ্ন

  • তথ্য-বিতর্কে জর্জরিত ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন।

অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু কোভ্যাক্সিন আদৌও কতটা কার্যকরী হবে? তা নিয়ে কার্যত ঘুরিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন খোদ সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার (এসআইআই) সিইও আদর পুনাওয়ালা। 

একটি সাক্ষাৎকারে সেরাম কর্তা জানান, সারা বিশ্বে মাত্র তিনটি করোনাভাইরাস টিকার (অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়-অ্যাস্ট্রোজেনেকা, ফাইজার এবং মর্ডানার টিকা) কার্যকারিতার প্রমাণ মিলেছে। বাকি কোনও টিকার কার্যকারিতা সংক্রান্ত কোনও প্রমাণ নেই। যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, ‘বিশ্বের মাত্র তিনটি টিকা নিজেদের কার্যকারিতার প্রমাণ দিয়েছে। সেগুলি হল - ফাইজার, মর্ডানা এবং অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রোজেনেকার টিকা। শুধুমাত্র এই তিনটি টিকার কাজের বিষয়ে প্রমাণ মিলেছে। ভারত, রাশিয়া, ইউরোপ বা কোথাও কার্যকারিতা পরীক্ষা সম্পূর্ণ হয়নি। তারা (অন্যান্য সম্ভাব্য টিকা) সবাই সুরক্ষা এবং অনাক্রম্যতার পরীক্ষা করেছে। অন্যান্য (ভ্যাকসিন) ক্যান্ডিডেটের ক্ষেত্রেও ভারতে আমরা তাই করেছি। ভারতের কয়েকটি সংস্থাও সেগুলি করেছে। আমি সেগুলির নাম নেব না। কিন্তু কার্যকারিতার পরীক্ষা ছাড়া আমরা জানতে পারি না যে কোনও টিকা কাজ করে কিনা।’

রবিবার ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন এবং সেরামের কোভিশিল্ডকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছেন ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই) ভি জে সোমানি। কিন্তু তা নিয়েই প্রথম থেকে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শুরুর এক মাসের মধ্যেই কোভ্যাক্সিনকে অনুমোদন দেওয়া হল কীভাবে, তা নিয়ে একাধিক মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর বলেন, ‘কোভ্যাক্সিনের এখনও তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল হয়নি। আগেভাগে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং তা বিপজ্জনক হতে পারে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন দয়া করে বিষয়টি স্পষ্ট করুন। পুরো ট্রায়াল শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটা এড়িয়ে যাওয়া উচিত।

সেই তথ্য-বিতর্কের মধ্যেই এইমসের অধিকর্তা অধিকর্তা রণদীপ গুলেরিয়া জানান, ভারতে টিকাকরণের প্রথম পর্যায়ে  কোভিশিল্ড ব্যবহার করা হবে। শুধুমাত্র জরুরি পরিস্থিতিতে কোভ্যাক্সিন ব্যবহার করা হতে পারে। এমনকী সেক্ষেত্রে কারও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে মিলবে ক্ষতিপূরণও। নিউজ ১৮-এ তিনি বলেন, 'ব্রিটেনের করোনার নয়া প্রজাতির দাপট যদি হু হু করে বৃদ্ধি পায় বা ট্রায়াল শেষ হওয়ার পর - যেটা আগে হবে, তারপরই কোভ্যাক্সিনের ব্যবহার করা হবে।' কোভ্যাক্সিনের তথ্য নিয়ে আরও বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে ওই সংবাদমাধ্যমে গুলেরিয়া বলেন, ‘কোভ্যাক্সিন পাওয়ার পর কারও যদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়, তাহলে তাঁকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। যেমন ক্নিনিকাল ট্রায়ালে হয়েছে।’

তার জেরে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তাহলে কি কোভ্যাক্সিনের সুরক্ষার বিষয়ে এতটাই অনিশ্চয়তা রয়েছে? আর যদি তাই থাকে, তাহলে কেন তড়িঘড়ি অনুমোদন দিল কেন্দ্র? আর সেই বিতর্কে আরও ইন্ধন জুগিয়েছে সেরাম কর্তার মন্তব্য।

বন্ধ করুন