তিনদিন ধরে জ্বলছে রাজধানী।মৃতের সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে সিএএ সমর্থনকারী ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষে। এর মধ্যেই প্রথমবারের জন্য টুইটারে শান্তির বাণী দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অন্যদিকে কংগ্রেস কার্যনির্বাহী সমিতির বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ইস্তফার দাবি করেছেন সোনিয়া গান্ধী।


প্রধানমন্ত্রী বলেন শান্তি ও সৌহার্দ্য ভারতের মূল আদর্শ। দিল্লির ভাই-বোনদের কাছে তাঁর আবেদন শান্তি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখার। দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত হোক এটা অত্যন্ত জরুরি বলে টুইটারে জানান প্রধানমন্ত্রী। পুলিশ ও অন্যান্য এজেন্সি পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য চেষ্টা করছে বলে জানান মোদী। পুরো পরিস্থিতি তিনি খতিয়ে দেখছেন বলে টুইটারে আস্বস্ত করেন মোদী।

অন্যদিকে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের পর তীব্র ভাষায় দিল্লি দাঙ্গার জন্য কেন্দ্রকে দুষেছেন সোনিয়া গান্ধী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ইস্তফার দাবি তুলেছেন কংগ্রেস নেত্রী। পরিকল্পনামাফিক ভাবে হিংসা সংগঠিত হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। বিজেপি নেতারা পরিবেশ বিষাক্ত করে দিয়েছিলেন উস্কানিমূলক ভাষণের দ্বারা বলে কংগ্রেস সভানেত্রীর দাবি। কপিল মিশ্রর নাম না করে তাঁর বিতর্কিত বক্তব্যের কথা বলেন সোনিয়া।

কেন্দ্র ও আপ সরকারের উদ্দেশ্য পাঁচটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন সোনিয়া গান্ধী।

১. রবিবার যখন ঝামেলা শুরু হচ্ছিল তখন গৃহমন্ত্রী কী করছিলেন ও কোথায় ছিলেন?

২. এত দিন ধরে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কোথায় ছিলেন ও কী করছিলেন?

৩. গোয়েন্দা দফতর থেকে কোনও আগাম খবর পাওয়া গিয়েছিল কিনা ও সেটি নিয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল?

৪. যখন বোঝা যাচ্ছিল পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে, কতজন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল?

৫. যখন হিংসা ছড়িয়ে পড়ে, তখন আধা-সামরিক বাহিনীকে নামানো হয়নি কেন?

রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার, উভয়কেই দুষেছে কংগ্রেস। ৭২ ঘণ্টা ধরে পুলিশ চুপচাপ বসেছিল, অভিযোগ কংগ্রেসের। দলীয় নেতাদের সংবেদনশীল এলাকায় গিয়ে মানুষকে বোঝানোর নির্দেশ দিয়েছে দল। এদিনের কার্যনিবাহী সমিতির বৈঠকে সোনিয়া ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মহমোহন সিং, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী সহ অন্যান্য বরিষ্ঠ নেতারা। বিদেশে থাকায় অনুপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধী।

দিল্লির পরিস্থিতি খারাপের দিকে গড়ানোয় গত ২৪ ঘণ্টায় দফায় দফায় বৈঠক করেছেন অমিত শাহ। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল নিজে পুরো বিষয়টি তত্ত্বাবধান করছেন, যাতে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। সেনাবাহিনীকে ডেকে পাঠানো উচিত বলে জানিয়েছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। অন্যদিকে ডোভাল জানিয়েছেন যে পর্যাপ্ত পুলিশ আছে যারা পরিস্থিতি সামলাতে যথেষ্ট। বুধবারও বিভিন্ন জায়গা থেকে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের মিলেছে। দুই নিরাপত্ত়া কর্মী সহ মৃত কমপক্ষে কুড়ি।


বন্ধ করুন