বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > চাকরি হারানো থেকে TikTok-এ সাফল্য - বিজ্ঞাপনের জন্য ২ কোটি টাকা নিচ্ছেন খাবি
ছবি : ইনস্টাগ্রাম (Instagram )
ছবি : ইনস্টাগ্রাম (Instagram )

চাকরি হারানো থেকে TikTok-এ সাফল্য - বিজ্ঞাপনের জন্য ২ কোটি টাকা নিচ্ছেন খাবি

গত ২০২০ সালে করোনা মহামারীর সময়ে ইতালিজুড়ে বিভিন্ন সংস্থায় আর্থিক প্রভাব পড়ে। ২০২০-র মার্চে কারখানায় সামান্য বেতনের চাকরি হারান বছর একুশের খাবি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তার গুরুত্ব আরও একবার প্রমাণ হল। Dream11-এর জন্য দু'কোটি টাকা পারিশ্রমিক পাবেন টিকটকার খাবি লাহমে (Khaby Lame)। এই প্রথম কোনও মেনস্ট্রিম বিদেশি টিকটকারকে বিজ্ঞাপনের জন্য এত টাকা দিচ্ছে কোনও ভারতীয় সংস্থা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তার বিষয়টা অদ্ভুত। কেউ কেউ বছরের পর বছর এক নাগাড়ে ভিডিয়ো দিয়ে যান। অনেক খরচ ও পরিশ্রম করেন। তবে মেলে না ফলোয়ার্স। আর কেউ কেউ খাবি লাহমের মতো। সামান্য খরচ। ছোট্ট ভিডিয়ো। কিন্তু বেশ অন্য ধরনের কনসেপ্ট। খালি মুখ ও হাতের ভঙ্গিমা। কোনও কথাও নয়। বিশেষ এডিটিং-ও নয়। আর তাতেই বাজিমাত।

জন্মসূত্রে সেনেগালের নাগরিক খাবি লাহমে। কিন্তু পরিবারের সঙ্গে ইতালিতে থাকেন তিনি। গত ২০২০ সালে করোনা মহামারীর সময়ে ইতালি জুড়ে বিভিন্ন সংস্থায় আর্থিক প্রভাব পড়ে। ২০২০ সালেই মার্চে কারখানায় সামান্য বেতনের চাকরি হারান বছর ২১-র খাবি।

চাকরি হারিয়ে কী করবেন, তাই নিয়ে দিশেহারা হয়ে যান খাবি। অনেক খুঁজেও কোনও কাজ পাচ্ছিলেন না। তখনই সময় কাটাতে ও মন অন্যমনস্ক করতে টিকটক ভিডিয়ো বানাতে শুরু করেন তিনি। বিষয় হিসেবে বেছে নেন এক সম্পূর্ণ নতুন জিনিস।

লাইফ হ্যাকস-এর হাজারো ভিডিয়ো টিকটক ও ইউটিউবে ভরতি। দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ কাজ আরও সহজে করার পদ্ধতিকে লাইফ হ্যাকস বলে। কিন্তু ভিউয়ের লোভে বহু ইউটিউব চ্যানেল, টিকটকে অযথা লাইফ হ্যাকস দেখানো হয়। এমনই লাইফ হ্যাকস, যার থেকে সাধারণভাবেই কাজটা করলে বেশি সুবিধা।

সেই আজগুবি লাইফ হ্যাকস নিয়ে রোস্ট, ট্রোল ভিডিয়োর সংখ্যাও কম নয়। কিন্তু সেসবের পথে যাননি খাবি। বরং খালি ভিডিয়োগুলোর পাশাপাশি সহজভাবে সাধারণ কাজটা করে দেখাতেন তিনি। আর সঙ্গে মুখ ও হাতের এক্সপ্রেশন। অনেকটা 'পোকার ফেস' ইমোজির মতো। ব্যবহার করতেন নিজের পুরনো সস্তার ফোনের ক্যামেরা।

পর পর বেশ কিছু ভিডিয়ো পোস্টের পর ভাইরাল হতে শুরু করেন খাবি। দ্রুত বাড়তে থাকে ফলোয়ার্স। খাবিও থেমে থাকেননি। রোজ তিনটে-চারটে করে ভিডিয়ো পোস্ট করতে শুরু করেন তিনি। কোনও ভাষার ব্যবহার নেই। খালি মুখের ভঙ্গিমা। ফলে গোটা বিশ্বজুড়েই মানুষের তাঁর ভিডিয়ো বুঝতে কোনও সমস্যা হয়নি।

ফলোয়ার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই আসতে থাকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনের অফার। এই কাজ করেও যে মোটা টাকা আয় করা যায়, তা বুঝতে পারেন খাবি। শুধু তাই নয়, অন্যান্য নামি ইন্টারনেট সেলেব্রিটিদের সঙ্গে কোলাবরেশনের ডাক আসতে থাকে। যেতে শুরু করেন বিভিন্ন দেশে।

মাত্র দেড় বছরেই টিকটকে এখন ১১৪.৫ মিলিয়ন ফলোয়ার্স খাবির। ইনস্টাগ্রামে তাঁর ফলোয়ার্স ৪৭.৯ মিলিয়ন। ইনস্টাগ্রামের তাঁর ফলোয়ার্সের ১৬% ভারতীয়। এই বিপুল পরিমাণ রিচ বহু নামি তারকা, মিডিয়ারও নেই। ফলে তাঁর পারিশ্রমিক ২ কোটি টাকা হওয়াটাই স্বাভাবিক।

ড্রিম ইলেভেনের হয়ে বিজ্ঞাপনটির ব্যবস্থা করছে ডিজিটাল এজেন্সি হোয়াইট রিভার্স মিডিয়া। সংস্থা জানিয়েছে, ড্রিম ইলেভেনের মূল লক্ষ্য হল পুরো বিষয়টা সহজ রাখা। আর খাবির ভিডিয়োও তাই বলে। ফলে এই কোলাবেরশন সঠিক বলে মনে হয়েছে তাঁদের।

বন্ধ করুন