নির্ভয়াকাণ্ডে চার দোষীর বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছে দিল্লির এক আদালত (ছবি সৌজন্য পিটিআই)
নির্ভয়াকাণ্ডে চার দোষীর বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছে দিল্লির এক আদালত (ছবি সৌজন্য পিটিআই)

নির্ভয়া-দোষীদের ফাঁসির ড্রেস রিহার্সাল হল তিহাড়ে

  • এক জেল আধিকারিক জানান, দিল্লির আদালত মৃত্যু পরোয়ানা জারি করার পর চারজনের আচরণে তেমন পরিবর্তন ধরা পড়েনি।

ওজন ঠিকঠাক আছে কিনা পরীক্ষার পর ফাঁসিকাঠে ঝোলানো হল পাথর, রাবিশ ভরতি চারটি বস্তা। ইশারা মিলতেই চাপা হল হাতল। এভাবেই নির্ভয়াকাণ্ডে দোষীদের ফাঁসির প্রস্তুতি সারল তিহাড় জেল কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন : ২২ জানুয়ারি সকাল ৭টায় ফাঁসিতে ঝুলবে নির্ভয়ার ধর্ষকরা

দিল্লি পাতিয়ালা হাউস কোর্টের রায়ের পর থেকেই তিহাড়ে ফাঁসির তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। তিহাড়ে একসঙ্গে দুজনের বেশি ফাঁসি হওয়ার নিয়ম ছিল না এতদিন। স্বভাবতই একসঙ্গে চারজনকে ঝোলানোর মতো ব্যবস্থাও ছিল না। নির্ভয়াকাণ্ডে দোষীদের ফাঁসিকাঠে ঝোলানোর জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নাম গোপন রাখার শর্তে এক জেল আধিকারিক জানান, কয়েকদিন আগেই সেই কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে।

আরও পড়়ুন : নির্ভয়ার ধর্ষকদের ফাঁসি ২২ জানুয়ারী- অবশেষে বিচার পেলাম, বললেন খুশি মা

তারপরই শুরু হয় প্রস্তুতি। গতকাল মক ফাঁসিও হয়। চার দোষীর ওজন অনুযায়ী বস্তাগুলিতে রাবিশ ভরা হয়েছিল। ফাঁসির দড়ি ইতিমধ্যে তৈরি করেছে বিহারের বক্সার জেল।

আরও পড়ুন : নির্ভয়া কাণ্ডের সাত বছর- ফাঁসুড়ে হতে চেয়ে বিদেশ থেকে চিঠি তিহাড়ে

এক জেল আধিকারিক জানান, দিল্লির আদালত মৃত্যু পরোয়ানা জারি করার পর চারজনের আচরণে তেমন পরিবর্তন ধরা পড়েনি। তিনি বলেন, 'হয়ত ওরা এখনও বুঝে উঠতে পারেনি বা ওদের আশা, ওদের ফাঁসির উপর স্থগিতাদেশ দেবে আদালত।' যদিও প্রস্তুতির তুঙ্গে রয়েছে জেল কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে চারজনকে ফাঁসির পুরো প্রক্রিয়া জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : তৈরি তিহাড়, নির্ভয়ার ৪ ধর্ষকের ফাঁসির দায়িত্বে মীরাটের ফাঁসুড়ে

নাম প্রকাশ না শর্তে এক আধিকারিক বলেন, 'ওদের ইচ্ছাপূরণ বা পরিবারের সঙ্গে দেখা করার বিষয়ে প্রশাসন সহযোগিতা করবে বলে জানানো হয়েছে। অন্যান্য বন্দীদের মতো এখন সপ্তাহে দু'দিন পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারে দোষীরা। তবে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর তা পালটে যাবে। আর একবার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাবে তারা।'

আরও পড়ুন : নির্ভয়ার হত্যাকারীকে ক্ষমার আর্জি খারিজের সুপারিশ দিল্লি সরকারের

আপাতত চারজন তিহাড়ের ২ ও ৪ নম্বর জেলে আলাদভাবে চারজন রাখা হয়েছে। দুটি সিসিটিভির মাধ্যমে তাদের উপর ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হয়। পাশাপাশি, দু-তিনজন কারারক্ষী সর্বদা নজরদারি চালান। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর তাদের একসঙ্গে তিন নম্বরে জেলে সরানো হবে বলে জানান ওই জেল আধিকারিক।

আরও পড়ুন : নির্ভয়াকাণ্ডে ৪ ফাঁসির আসামিকে অঙ্গদানে রাজি করানোর আর্জি নাকচ


বন্ধ করুন