বাড়ি > ঘরে বাইরে > INX মিডিয়া মামলায় চিদম্বরম, ছেলে কার্তির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল ED-র
আবারও বিপাকে পড়লেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম (ফাইল ছবি, সৌজন্য মিন্ট)
আবারও বিপাকে পড়লেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম (ফাইল ছবি, সৌজন্য মিন্ট)

INX মিডিয়া মামলায় চিদম্বরম, ছেলে কার্তির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল ED-র

  • বিদেশি বিনিয়োগের ছাড়পত্রের বিনিময়ে আইএনএক্স মিডিয়ার থেকে টাকা নেওযার অভিযোগ উঠেছিল।

আইএনএক্স মিডিয়া মামলায় প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম এবং তাঁর ছেলে কার্তির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মঙ্গলবার দিল্লির বিশেষ আদালতেের বিচারক অজয় কুমারের এজলাসে চার্জশিট জমা পড়েছে।

কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযোগ, ভারত এবং বিদেশের ভুয়ো বা ‘শেল’ সংস্থার সুবিধাপ্রাপ্ত বা 'বেনিফিসিয়াল' মালিক ছিলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা ও তাঁর ছেলে। যে সংস্থাগুলি ঘুষ পেত। 'বেনিফিসিয়াল' মালিক বলতে বোঝায়, মালিকানা অপর কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার নামে নথিভুক্ত থাকলেও যে ব্যক্তি বা সংস্থা মালিকানার নির্দিষ্ট কয়েকটি সুবিধা পান। 

তবে চার্জশিটে আর্থিক তছরুপ আইনের কোন ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি ইডি। আর্থিক দুর্নীতির তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, অতীতে কার্তিকে প্রায় তিন কোটি টাকা দিয়েছিলেন আইএনএক্স মিডিয়ার সহ-প্রতিষ্ঠাতা পি়টার মুখার্জি। আইএনএক্স মিডিয়ায় বিদেশি বিনিয়োগে ছাড়পত্র দেওয়ার সময় তৎকালীন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী চিদম্বরমের নির্দেশে কার্তিকে সেই টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। 

গত বছর অক্টোবরে আইএনএক্স মিডিয়া মামলায় জেলেই চিদম্বরমকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। গত ২১ অগস্ট সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতারির পর থেকে তিহাড় জেলেই ছিলেন তিনি। শেষপর্যন্ত প্রায় ১০৫ দিন জেলে কাটানোর পর গত বছর ৯ ডিসেম্বর ছাড়া পান বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ একাধিক অস্বীকার করেছেন চিদম্বরম। কার্তিও বারবার দাবি করেছেন, তিনি নির্দোষ।

তবে মঙ্গলবার চার্জশিট দাখিলের পর কোনও মন্তব্য করতে চাননি কার্তি। তিনি বলেন, 'যতক্ষণ না সরকারিভাবে আমায় কিছু পাঠানো হচ্ছে, ততক্ষণ আমি কিছু বলব না।'

বিদেশ থেকে ৩০৭ কোটি টাকা পাওয়ার জন্য ২০০৭ সালে আইএনএক্স মিডিয়াকে ছাড়পত্র মঞ্জুরের সঙ্গে যোগ রয়েছে ইডি এবং সিবিআইয়ের মামলার। তদন্তকারীদের অভিযোগ, বিদেশি বিনিয়োগের ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য যখন পিটার মুখার্জি এবং তাঁর স্ত্রী ইন্দ্রাণী তৎকালীন অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন, তখন চিদম্বরম তাঁর ছেলের ব্যবসায়িক স্বার্থের দিকটিও মাথায় রাখতে বলেন। সেই মামলায় শুনানির সময় আগে ইডি দাবি করেছিল, ভুয়ো নথির মাধ্যমে কার্তি নিয়ন্ত্রিত অ্যাডভান্টেজ স্ট্র্যাটেজিক কনসালটেন্সি প্রাইভেট লিমিটেড (এএসসিপিএল) এবং সেটির সহযোগী সংস্থাগুলিকে পিটার মুখার্জি যে ৩.০৯ কোটি দিয়েছেন, তা চিহ্নিত করতে পেরেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

ইডি অভিযোগ করেছিল, 'তদন্তের সময় এটা স্বীকার করা হয়েছিল যে কিছু লেনদেন দেখাতে কার্তি চিদম্বরমের নির্দেশে নথি তৈরি করা হয়েছিল। যে লেনদেন আদতে হয়নি।' সহযোগী সংস্থাগুলি যে টাকা পেত, তা আসলে এএসসিপিএলয়ের হাতেই চলে যেত বলে দাবি করেছিল ইডি। এরইমধ্যে গত বছর ফেব্রুয়ারিতে স্পেন, ব্রিটেন এবং ভারতে প্রায় ৫৪ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছিল ইডি। যা কার্তির বলে অভিযোগ ওঠে।

অন্যদিকে, একটি বয়ানে সিবিআইয়ের কাছে ইন্দ্রাণী দাবি করেন, আইএনএক্স মিডিয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের টাকা পাওয়ার পর প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীর বিদেশি অ্যাকাউন্টে ২০০৭ সালে পাঁচ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং দু'বছর পরে আরও ৪,৫০,০০ মার্কিন ডলার পাঠানো হয়েছিল। পাশাপাশি, দিল্লিতে কার্তিকে এক কোটি নগদও দেওয়া হয়েছিল।

বন্ধ করুন