বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > তাবিজ বিক্রি করায় বৃদ্ধকে মার উত্তরপ্রদেশে, কাটা হল দাড়ি! ঘটনায় গ্রেফতার ৩
আক্রান্ত আবদুল সামাদ (ছবি সৌজন্যে টুইটার)
আক্রান্ত আবদুল সামাদ (ছবি সৌজন্যে টুইটার)

তাবিজ বিক্রি করায় বৃদ্ধকে মার উত্তরপ্রদেশে, কাটা হল দাড়ি! ঘটনায় গ্রেফতার ৩

  • আবদুল সামাদ নামক সেই ব্যক্তি অটোতে করে মসজিদে যাচ্ছিলেন। সেই সময় একদল দুষ্কৃতী তাঁকে অটো থেকে নামিয়ে 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনি তুলতে বাধ্য করে বলে অভিযোগ। তবে পুলিশের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে কোনও সাম্প্রদায়িকতা যুক্ত নেই।

উত্তরপ্রদেশে এক ব্যক্তিকে অটো থেকে নামিয়ে মারার অভিযোগ ওঠে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। আক্রান্ত ব্যক্তির নাম আবদুল সামাদ। সেই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, আবদুল সামাদ নামক সেই ব্যক্তি অটোতে করে মসজিদে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় একদল দুষ্কৃতী তাঁকে অটো থেকে নামিয়ে 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনি তুলতে বাধ্য করে। ঘটনাটি গত ৫ জুন গাজিয়াবাদে ঘটেছে। এরপর সেই ঘটনার ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই পুলিশ এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতের নাম প্রবেশ গুজ্জর। যদিও পুলিশের দাবি, তাবিজ বিক্রি নিয়ে ঝামেলার জেরে সেই বৃদ্ধকে মারা হয়েছিল। পুলিশের দাবি, হামলাকারীদের চিনতেন নিগৃহীত ব্যক্তি। তাছাড়া পুলিশের দাবি, এই ঘটনায় কোনও সাম্প্রদায়িকতা নেই।

এর আগে বৃদ্ধ এক ভিডিয়ো বার্তায় অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে অটো থেকে নামিয়ে কুঁড়েঘরে নিয়ে যায় কয়েকজন যুবক। সেখানে তাঁকে 'জয় শ্রীরাম' ও 'বন্দেমাতরম' স্লোগান তুলতে বাধ্য করা হয়। এরপর সেই ব্যক্তিকে বেধড়ক মারা হয়। সেই ঘটনার এক ভিডিয়ো সম্প্রতি ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়াতে। তাতে দেখা যায় হামলাকারীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হচ্ছে আবদুল সামাদকে। আবদুল সামাদ অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাঁকে অন্যান্য মুসলিম ব্যক্তিদের উপর হামলার ভিডিয়ো দেখায়। পাশাপাশি তাঁকে পাকিস্তানি গুপ্তচর বলে আখ্যা দেয়। পাশাপাশি আবদুলের দাড়িও কেটে দেওয়া হয়।

গাজিয়াবাদ গ্রামীণের এসপি, ডঃ ইরাজ রাজা এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বলেন, 'একটি ভিডিয়ো সম্প্রতি ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যায় এক বৃদ্ধকে বেধড়ক মারা হচ্ছে। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করছি ঘটনা প্রসঙ্গে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে ডেকে তাঁর বয়ানও রেকর্ড করা হয়েছে।'

এসপি আরও বলেন, 'আমরা আক্রান্তের সঙ্গে বরাবর যোগাযোগ রেখে চলেছি। আমরা এই ঘটনার মূল কারণ বের করার চেষ্টা করছি। এফআইআর-এ অবশ্য কোনও ধর্মীয় স্লোগান তুলতে বাধ্য করার বিষয় নেই। হয়রানি এবং নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করা রয়েছে।'

 

বন্ধ করুন