বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > পাঁচতারা হোটেলে বসে ভোটে লড়া যায় না, হাইকম্যান্ডকে বিঁধে ফের বিস্ফোরক আজাদ
আমাদের নেতারা জনতার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন, অভিযোগ গুলাম নবি আজাদের।
আমাদের নেতারা জনতার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন, অভিযোগ গুলাম নবি আজাদের।

পাঁচতারা হোটেলে বসে ভোটে লড়া যায় না, হাইকম্যান্ডকে বিঁধে ফের বিস্ফোরক আজাদ

  • রাহুল-সনিয়া থেকে শুরু করে ব্লক ও জেলা স্তরের নেতারা মানুষের সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে ফেলেছেন।

পাঁচতারা হোটেলে বসে নির্বাচন লড়া যায় না। আমাদের নেতারা জনতার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ফের এমনই চাঁছাছোলা মন্তব্য করলেন বর্ষীয়ান নেতা গুলাম নবি আজাদ।

সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আজাদ অভিযোগ করেছেন, ‘আমাদের নেতাদের নিয়ে মুশকিল হল, দলের টিকিট পেলে প্রথমেই পাঁচতারা হোটেল বুক করেন। সেখানেও আবার বিলাসবহুল জায়গা না পেলে হয় না। এর পর তাঁরা বাতানুকূল গাড়ি নিয়ে ঘোরাফেরা করেন। পিচমোড়া রাস্তা ছাড়া কোথাও যান না।’

তিনি বলেন, ‘অনেকেই কংগ্রেস সভাপতি বা রাহুল গান্ধীকে দোষ দিচ্ছেন।’

বিরক্ত আজাদ জানিয়েছেন, ‘ব্লক ও জেলা স্তরের নেতারা মানুষের সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে ফেলেছেন। কেউ দলে কোনও পদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের লেটার প্যাড ও ভিজিটিং কার্ড ছাপিয়ে নিয়ে ভাবছেন কাজ করে ফেলেছেন। কিন্তু এখনই তো কাজ শুরু করার কথা।’

প্রসঙ্গত, গত অগস্ট মাসে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, সাংসদ, প্রাক্তমন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যদের মোট ২৩ জন শীর্ষ স্থানীয় নেতা কংগ্রেস সভাপতি সনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখে নেতৃত্ব ও ওয়ার্কিং কমিটির নির্বাচন সংক্রান্ত পরিবর্তনের আবেদন জানান। 

চিঠিতে কংগ্রেসকে ফের শক্তিশালী করে তুলতে সর্বক্ষণের ও সক্রিয় নেতৃত্বের প্রয়োজনের কথা বলা হয়। সেই সঙ্গে ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণ, দলের নিয়মিত অভ্যন্তরীণ নির্বাচন এবং প্রদেশ কংগ্রেসের হাতে আরও ক্ষমতা প্রদানের প্রস্তাব রাখা হয়। 

সেই চিঠিতে গুলাম নবি আজাদ ছাড়াও সই করেন আনন্দ শর্মা, কপিল সিবাল, মণীশ তেওয়ারি, শশীথারুর, ভূপিন্দর সিং হুডা, পৃথ্বীরাজ চবন, পি জে কুরিয়েন, রেণুকা চৌধুরী ও মিলিন্দ দেও রার মতো পোড়খাওয়া নেতারা। 

সেই চিঠিকে ‘দুঃখজনক ও নিষ্ঠুর’ বলেন কংগ্রেস নেতা এ কে অ্যান্টনি। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও অ্যান্টনি বলেন, দলের সভাপতি হিসেবে সনিয়া গান্ধীই বহাল থাকুন। ‘শোকাতুর’ রাহুল গান্ধী তাঁর ভাষণে বলেন, মধ্য প্রদেশ ও রাজস্থানে যে সময়ে দল সংকটের মুখে তখন এই চিঠি পেয়ে তিনি ‘ব্যথিত’ হয়েছেন। এমনকি চিঠিতে সই করা কংগ্রেস নেতাদের তিনি বিজেপি-র সঙ্গে আঁতাত রয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন। 

রাহুলের অভিযোগের পালটা হিসেবে আজাদ বলেন, বিজেপি-র সঙ্গে যোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে তিনি পদত্যাগ করবেন। আর কপিল সিবাল বলেন, ‘গত ৩০ বছরে চিঠিতে সই করা কংগ্রেস নেতারা একবারও বিজেপি-র সমর্থনে কোনও মন্তব্য করেননি।’

সেই ঘটনার কয়েক মাস পরে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গুলাম নবি আজাদ মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘মনে রাখবেন, আমরা সংশোধনকারী মাত্র। বিদ্রোহী নই।’

বন্ধ করুন