দুধের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে শ্বশুর, বোন ও দুই ছেলেকে পান করিয়ে হত্যা করেন দিব্যা। তার পরে নিজেও বিষ পান করে আত্মঘাতী হন। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে এই তথ্য।
দুধের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে শ্বশুর, বোন ও দুই ছেলেকে পান করিয়ে হত্যা করেন দিব্যা। তার পরে নিজেও বিষ পান করে আত্মঘাতী হন। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে এই তথ্য।

বন্ধ বাড়ির রহস্য ফাঁস, পরিবারের ৪ জনকে খুন করে আত্মঘাতী বধূ

  • পরিবারের থেকে আলাদা হয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে রুড়কিতে থাকার পরিকল্পনা করেন দিব্যা। কিন্তু সেই ইচ্ছায় বাধা দেন রাজেশ্বর প্রসাদ।

গোটা পরিবারকে বিষ খাইয়ে হত্যা করার পরে আত্মঘাতী হয়েছেন গৃহবধূ। এটাহতে একই পরিবারের ৫ সদস্যের রহস্যমৃত্যুর তদন্তে নেমে এই তথ্য উদ্ধার করেছে উত্তর প্রদেশ পুলিশ।

শনিবার সকালে উত্তর প্রদেশের এটাহ শহরের এক বাড়ি থেকে পচৌরি পরিবারের ৫ জনের দেহ উদ্ধার করার পরে ময়না তদন্তে পাঠায় পুলিশ। এর মধ্যে নিহত গৃহবধূ দিব্যার ডান কব্জিতে ক্ষতচিহ্ন আবিষ্কার করেন গোয়েন্দারা। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় শৌচাগার পরিষ্কার করার তরল ও ব্লেড। রান্নাঘর থেকে মেলে দুধের নমুনা।

এ দিন পুলিশ জানিয়েছে, পচৌরি পরিবারের একমাত্র ছেলে কর্মসূত্রে উত্তরাখণ্ডে থাকেন। বৃদ্ধ শ্বশুর রাজেশ্বর প্রসাদ পচৌরি (৭৫) ও দুই শিশুপুত্র অরূপ (৮) ও আরভকে (১) নিয়ে এটাহর বাড়িতে থাকতেন দিব্যা (৩৫)। কিছু দিন আগে তাঁর কাছে বেড়াতে আসেন বুলবুলবাসী বোন সোনাই (২৩)। সম্প্রতি পরিবারের থেকে আলাদা হয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে রুড়কিতে থাকার পরিকল্পনা করেন দিব্যা। কিন্তু সেই ইচ্ছায় বাধা দেন রাজেশ্বর প্রসাদ। এই নিয়ে পরিবারে নিয়মিত ঝগড়া লেগে থাকত।



আরও পড়ুন: বন্ধ বাড়িতে পরিবারের ৫ সদস্যের রহস্যমৃত্যু, তদন্তে নামল পুলিশ

তার জেরেই পরিবারের সবাইকে হত্যা করে আত্মঘাতী হওয়ার পরিকল্পনা করেন বধূ। শুক্রবার রাতে দুধের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে শ্বশুর, বোন ও দুই ছেলেকে পান করিয়ে হত্যা করেন দিব্যা। তার পরে নিজেও বিষ পান করে, ব্লেড দিয়ে হাতের শিরা কেটে তিনি আত্মহত্যা করেন।

শনিবার সকালে বাড়ির দরজায় কড়া নেড়েও সাড়া পাননি স্থানীয় দুধ বিক্রেতা। প্রতিবেসীদের জানালে তাঁরা এসে বাড়ির সমস্ত দরজা ভিতর থেকে বন্ধ দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে গ্যাস কাটার দিয়ে প্রধান দরজা কেটে বাড়িতে ঢোকে। বন্ধ বাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার হয় পচৌরি পরিবারের পাঁচ জনের দেহ।

দেহগুলি ময়না তদন্তের জন্য পাঠানোর পরে তদন্তে নামে পুলিশ। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে প্রথমে ধন্দ তৈরি হয়। পরে ময়না তদন্তের রিপোর্ট এবং সংগৃহীত দুধের নমুনা পরীক্ষা করার পরে ফাঁস হয় মৃত্যুরহস্য।

বন্ধ করুন