বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > সকলেই শ্বশুরবাড়িতে, পরীক্ষা দিতে এল না কোনও পড়ুয়া!
সকলেই শ্বশুরবাড়িতে, পরীক্ষা দিতে এল না কোনও পড়ুয়া!। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)
সকলেই শ্বশুরবাড়িতে, পরীক্ষা দিতে এল না কোনও পড়ুয়া!। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)

সকলেই শ্বশুরবাড়িতে, পরীক্ষা দিতে এল না কোনও পড়ুয়া!

পরিস্থিতি এমনই সঙ্গীন যে স্কুল চালানোই এখন দায় হয়ে যাচ্ছে।

‌করোনার প্রভাবে বাংলাদেশে মহিলা শিক্ষায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নাটোরের বাগাতিপাড়ায় এক মাদ্রাসায় পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল ১৫ জন ছাত্রীর। করোনা মহামারীর কারণে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সব মেয়েরই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ফলে কেউ আর পরীক্ষা দিতে স্কুলমুখো হয়নি। পরিস্থিতি এমনই সঙ্গীন যে স্কুল চালানোই এখন দায় হয়ে যাচ্ছে।

বাগাতিপাড়ার মহিলা মাদ্রাসার তত্বাবধায়ক আবদুর রউফ জানান, প্রতি বছর মহিলা মাদ্রাসা থেকে ৯ থেকে ১০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। কিন্তু এবারে বেশি পরীক্ষার্থীর পরীক্ষায় বসার কথা ছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। এবারে যাদের পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল, তারমধ্যে নিজের মেয়েও ছিলেন। কিন্তু স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ফর্ম ফিলআপ করেও নিজের মেয়েকে পরীক্ষা দেওয়া করাতে পারেননি। শুধু নিজের মেয়েই নয়, স্কুলের বাকি ১৪ জন মেয়েরও বিয়ে হয়ে যায়। ফলে তাঁদেরও পরীক্ষায় বসা হয়নি। তিনি জানান, ওই মেয়েদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হয় ঠিকই। কিন্তু কেউই পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ দেখায়নি। চারিদিকে ধানখেতে ঘেরা বাগাতিপাড়ার মহিলা মাদ্রাসাটি এখন ছাত্রীশূন্য।

কিছুটা আক্ষেপের সুরেই তত্বাবধায়ক জানান, অনেক চেষ্টা করেও মাদ্রাসাটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন জোগাড় করতে পারেননি। শিক্ষকরা এখন আর বিনা বেতনে শিক্ষকতা করতে রাজি হচ্ছেন না। ফলে আর কতদিন যে চালিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। বাংলাদেশ প্রশাসন সূত্রে খবর, বাগাতিপাড়া-সহ আশেপাশের এলাকা নিয়ে ওই এলাকায় পাঁচটি মাদ্রাসা রয়েছে। সেই পাঁচটি মাদ্রাসা থেকে ৯৮ জন পরীক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাগাতিপাড়ায় ১৫ জন পরীক্ষার্থী কেউ অংশ না নিলেও বাকি ৮৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে।

বন্ধ করুন