বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > জ্বালানি নিরাপত্তার লক্ষ্যে জার্মানিতে সৌরবিদ্যুতের প্রসার
জ্বালানি নিরাপত্তার লক্ষ্যে জার্মানিতে সৌরবিদ্যুতের প্রসার। ছবি ডয়চে ভেলে

জ্বালানি নিরাপত্তার লক্ষ্যে জার্মানিতে সৌরবিদ্যুতের প্রসার

  • বার্লিনের উত্তরে টেম্পেলফেল্ডে এলাকায় ১০০ হেক্টর জুড়ে সৌর প্যানেল লাগানো হবে৷ সেখানেও স্থানীয় পর্যায়ে বিতর্ক দানা বাঁধছে, কারণ এর ফলে কিছু মানুষের আয় হচ্ছে৷ যেমন ঘোড়া পালনের একটি ক্ষেত্র এলাকার কিছুটা বাইরে থাকায় ভবিষ্যতের প্লান্টের কাছেই সেটির অবস্থান হবে৷

বিশ্বজুড়ে বিকল্প জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে অনেক জমির প্রয়োজন৷ জার্মানির পূর্বাঞ্চলে সৌর বিদ্যুৎ প্লান্টের বিরুদ্ধে কিছু মানুষ প্রতিবাদ জানালেও অনেক চাষি জমি ইজারা দিয়ে স্থায়ী আয়ের ফলে সন্তুষ্ট৷ জার্মানির পূর্বাঞ্চলের ছোট গ্রাম হোয়েনসাটেন৷ জনবিরল এই বসতির ধারেই বিশাল অরণ্য৷ সামরিক কার্যকলাপের জন্য বহু দশক ধরে সেখানে প্রবেশ নিষেধ ছিল৷ ফলে প্রকৃতি নিজস্ব ছন্দে বিকশিত হয়েছে৷ স্থানীয় বাসিন্দা হলগার লেমান বলেন, ‘সেখানে পেঁচা, কালো সারস আছে৷ আমি ব্যাজারও দেখেছি৷ ৩০ বছর ধরে প্রকৃতি বিনা হস্তক্ষেপে বেড়ে উঠেছে৷ জায়গাটা প্রাণে ভরপুর৷’

অদূর ভবিষ্যতে অবশ্য সেখানে পরিবর্তন আসছে৷ কারণ এক সোলার প্লান্ট গড়ে তুলতে ৩৭০ হেক্টর, অর্থাৎ পাঁচশোরও বেশি ফুটবল মাঠের আয়তনের সমান জঙ্গল কেটে ফেলা হবে৷ কাছেই ওডারব্যার্গ শহরের হনারারি মেয়র মার্টিনা হেনেল অবশ্য সে কারণে অসন্তুষ্ট৷ তিনি বলেন, ‘পুনর্ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন করার লক্ষ্যে আমাদের একটা জঙ্গল কেটে ফেলতে হবে, এমন সিদ্ধান্তের কথা শুনে আমি আতঙ্কিত হয়েছিলাম৷ ছাদ ও অন্যান্য কত জায়গায়ই না সেটা করা যায়! জঙ্গল ধ্বংস করে জ্বালানি সরবরাহের উন্নতি একেবারেই উচিত নয়৷’

বিনিয়োগকারী স্থানীয় বাসিন্দাদের সামনে নিজের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছেন৷ বাসিন্দারা এক নাগরিক উদ্যোগ গড়ে তুলতে চান৷ জার্মানির পূর্বাঞ্চলে ব্রান্ডেনবুর্গ রাজ্যে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ঘিরে সম্প্রতি সংঘাতের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে৷ কারণ সেখানে অনেক এলাকা সৌর জ্বালানির জন্য উপযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত৷ অনেক স্থানীয় বাসিন্দা প্রতিবাদ জানালেও ইয়ুর্গেন গিসের মতো চাষির কাছে সৌর জ্বালানি শাপে বর হয়ে উঠতে পারে৷ কারণ জ্বালানি কোম্পানিগুলিকে তাঁরা চাষ বাবদ আয়ের তিন গুণ বেশি মূল্যে ইজারা দিতে পারেন৷ ইয়ুর্গেন গিসে এমনই এক চাষি৷ তিনি বলেন, ‘চাষি হিসেবে আমাদের সার, কীটনাশক, বীজ-– সবকিছুর জন্য আগাম মূল্য চোকাতে হয়৷ ফসলের মূল্য কী হবে আমরা তা কখনওই আগেভাগে জানতে পারি না৷ সেটা বড় ঝুঁকি৷ সেই সূত্রে সৌর কোম্পানিগুলি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রশ্ন করলো, তাদের প্রস্তাবে আমাদের আগ্রহ আছে কিনা৷ অবশ্যই আগ্রহ রয়েছে৷ কারণ এর ফলে আমার কর্মকাণ্ডের জন্যও নিরাপত্তা আসছে৷’

বার্লিনের উত্তরে টেম্পেলফেল্ডে এলাকায় ১০০ হেক্টর জুড়ে সৌর প্যানেল লাগানো হবে৷ সেখানেও স্থানীয় পর্যায়ে বিতর্ক দানা বাঁধছে, কারণ এর ফলে কিছু মানুষের আয় হচ্ছে৷ যেমন ঘোড়া পালনের একটি ক্ষেত্র এলাকার কিছুটা বাইরে থাকায় ভবিষ্যতের প্লান্টের কাছেই সেটির অবস্থান হবে৷ সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ইয়ুলিয়ানে উলিশ বলেন, ‘আমার মতে, তখন মানুষ ভেবে দেখবেন, আদৌ তাঁরা আমাদের এখানে এসে ঘোড়ায় চড়বেন কিনা৷ নাকি অন্য কোনো জায়গার খোঁজ করবেন, যেখানে তাঁরা ঘোড়ায় চেপে মাঠ বরাবর জঙ্গলের মধ্য দিয়ে যেতে পারবেন৷’ আশার কথা, প্রকল্পের প্রবক্তা ও বিরোধীদের মধ্যে সংলাপ গড়ে উঠেছে৷

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনটি ডয়চে ভেলে থেকে নেওয়া হয়েছে। সেই প্রতিবেদনই তুলে ধরা হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার কোনও প্রতিনিধি এই প্রতিবেদন লেখেননি।)

বন্ধ করুন