বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > উত্তপ্ত কাইমলা গ্রাম, ব্যারিকেড ভেঙে খট্টারের সভামঞ্চে তাণ্ডব কৃষকদের
কাইমলা গ্রামে মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টারের ডাকা কিষান মহাপঞ্চায়েত সভাস্থল ভাঙচুর করলেন প্রতিবাদী কৃষকরা। রবিবার সকালে। ছবি: এএনআই।
কাইমলা গ্রামে মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টারের ডাকা কিষান মহাপঞ্চায়েত সভাস্থল ভাঙচুর করলেন প্রতিবাদী কৃষকরা। রবিবার সকালে। ছবি: এএনআই।

উত্তপ্ত কাইমলা গ্রাম, ব্যারিকেড ভেঙে খট্টারের সভামঞ্চে তাণ্ডব কৃষকদের

  • বিনা বাধায় খেতের মধ্যে দিয়ে হেঁটে প্রতিবাদীদের মিছিল পৌঁছে যায় খট্টারের মহাপঞ্চায়েত সভামঞ্চে। এর পর অবাধে চলে ভাঙচুর, সঙ্গে বিজেপি ও খট্টারের বিরুদ্ধে স্লোগান।

হরিয়ানার কাইমলা গ্রামে মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টারের ডাকা কিষান মহাপঞ্চায়েত সভাস্থল ভাঙচুর করলেন প্রতিবাদী কৃষকরা। বিক্ষোভকারীদের সামলাতে জলকামান দাগল পুলিশ। 

রবিবার সকালে পুলিশের তৈরি ব্যারিকেড ও ট্রাকের অবরোধ উপেক্ষা করে কারনাল জেলার কাইমলা গ্রামে ঢুকে পড়েন কয়েক হাজার বিক্ষুব্ধ কৃষক। বিনা বাধায় খেতের মধ্যে দিয়ে হেঁটে প্রতিবাদীদের মিছিল পৌঁছে যায় খট্টারের মহাপঞ্চায়েত সভামঞ্চে। এর পর অবাধে চলে ভাঙচুর, সঙ্গে বিজেপি ও খট্টারের বিরুদ্ধে স্লোগান। 

মুখ্যমন্ত্রীর কিষান মহাপঞ্চায়েত সভায় বিক্ষোভকারীদের হামলার আশঙ্কায় শনিবার রাত থেকেই সতর্ক ছিল পুলিশ। কাইমলা রোডের উপরে ঘরাওন্দায় কৃষকদের রুখতে তৈরি করা হয়েছিল দুই সারির ব্যারিকেড। তা ছাড়া রাস্তার উপরে ট্রাকের সারি দাঁড় করিয়েও বাধা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল পুলিশ। কিন্তু কার্যত সমস্ত আয়োজনই ভেঙে পড়ল। 

এ দিন ট্রাকের প্রাচীর এড়িয়ে, ব্যারিকেড ভেঙে দলে দলে বিক্ষুব্ধ কৃষক ট্র্যাক্টরে চেপে কাইমলা গ্রামের দিকে ধেয়ে যান। প্রথম সারির ব্যারিকেড অতিক্রম করার পরে ট্র্যাক্টর ও অন্যান্য বাহন ছেড়ে পায়ে হেঁটে কাইমলা গ্রামের সভামঞ্চের দিকে এগোতে থাকে বিক্ষোভ মিছিল। 

এই সময় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন কারনালের এসপি গঙ্গারাম পুনিয়া। বিক্ষোভকারীদের তিনি শান্ত হয়ে প্রতিবাদ জানানোর জন্য আবেদন জানান। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। 

বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ। রবিবার সকালে। ছবি: এএনআই।
বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ। রবিবার সকালে। ছবি: এএনআই।

এ দিকে ঘরাওন্দায় প্রথম সারির ব্যারিকেড ভাঙার পরে দ্বিতীয় ব্যারিকেডের কাছে ধরনায় বসে পড়েন বিক্ষুব্ধরা। এরই মধ্যে পরবর্তী কৌশল ঠিক করতে আলোচনায় বসেন কৃষক নেতারা। প্রতিবাদীদের শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য তাঁরাও আবেদন জানান।

এর পরেই অশান্ত হয়ে ওঠে ধরনার পরিবেশ। অবস্থান ছেড়ে দলে দলে বিক্ষোভকারী কাইমলা গ্রামে খট্টারের সভামঞ্চের দিকে এগিয়ে চলেন। অভিযোগ, তাঁদের সমর্থন জানান স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ, ছোড়া হয় জলকামানও। 

অন্য দিকে, মুখ্যমন্ত্রীর আগমনের জন্য প্রস্তুত হেলিপ্যাড পাহারা দিতে খেতের মধ্যে নেমে পড়েন স্থানীয় বিধায়ক হরবিন্দর কল্যাণের নেতৃত্বে বিজেপি সমর্থকরা। তাঁরা হেলিপ্যাড ঘিরে রাখেন। 

হেলিপ্যাড উপেক্ষা করে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর মহাপঞ্চায়েত মঞ্চে পৌঁছে যান কৃষকরা। পুলিশের বাধা তুচ্ছ করে মঞ্চে ভাঙচুর চালানো হয় অবাধে। 

উল্লেখ্য, এ দিন কৃষকদের বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়ে প্রতিবাদীদের দলে এসে যোগ দেন কাইমলার পাশের গ্রাম কুটেইলের বেশ কয়েক জন বাসিন্দা। বিধায়কহরবিন্দর কল্যাণের বিধানসভা নির্বাচন কেন্দ্রের অন্তর্গত এই গ্রামের বাসিন্দারা বস্তারা টোল প্লাজায় এসে কৃষকদের সমর্থন জানিয়ে বলেন, তাঁরাও মুখ্যমন্ত্রী খট্টারের কিষান মহাপঞ্চায়েত সভা করতে দেবেন না।

বন্ধ করুন