বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > ধনী ও রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রিয় দক্ষিণ জার্মানির হোটেল
জার্মানির দক্ষিণে ধনী ও রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রিয় হোটেল। ছবি ডয়েচে ভেল

ধনী ও রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রিয় দক্ষিণ জার্মানির হোটেল

  • প্রেসিডেন্সিয়াল সুইটগুলি প্রায় হুবহু এক৷ ফলে কোনও শীর্ষ নেতার প্রতি অবিচার করা হয় না৷ এমন সুইট কেমন দেখতে? একটি ছোট বসার ঘর ও করিডোর ছাড়াও বড় একটি ঘর রয়েছে৷ তবে সবচেয়ে সুন্দর বৈশিষ্ট্য নিশ্চয় বাইরের দৃশ্য৷

পাহাড়ের কোলে দুর্গম এক হোটেলে বিশ্বনেতা থেকে শুরু করে ধনী অতিথির সমাগম ঘটে৷ জার্মানির দক্ষিণে সেই বিশেষ স্থাপনার খাদ্যতালিকাও ভোজনরসিকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়৷ কী অসাধারণ প্রেক্ষাপট! জার্মানির দক্ষিণে বাভেরিয়া রাজ্যের আলপ্স পর্বতে এলমাউ নামের কেল্লা অবস্থিত৷ ২০১৫ সালে জি-সেভেন শীর্ষ সম্মেলনের কল্যাণে গোটা বিশ্বে এই কেল্লার নাম ছড়িয়ে পড়ে৷

২০২২ সালে দ্বিতীয় বারের জন্য শিল্পোন্নত দেশগুলির শীর্ষ নেতারা আবার সেই হোটেলেই মিলিত হন৷ বিশ্বে অন্য কোনও জায়গায় এমনটা কখনো ঘটেনি৷ হোটেলের মালিক ও কর্ণধার ডিটমার ম্যুলার-এলমাউ স্থাপনাটির বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করে বলেন, ‘জার্মানিতে এমন জায়গা অত্যন্ত বিরল, যেখানে এলমাউ কাসেলের মতো সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব৷ অত্যন্ত বিচ্ছিন্ন হওয়া সত্ত্বেও অন্যান্য জায়গা থেকে মোটেই বেশি দূরে নয়৷ মিউনিখ থেকে সহজেই এখানে আসা যায়৷’

এই ফাইভ স্টার হোটেলের মূল ভবনে ১১৫টি ঘর ও সুইট রয়েছে৷ হোটেলটিকে ‘হাইডঅ্যাওয়ে’ বলা হয়৷ অর্থাৎ সেখানে ভিড় এড়িয়ে নিভৃতে সময কাটানো সহজ৷ মূল ভবনের পাশেই আরেকটি ভবন রয়েছে৷ বলতে গেলে হোটেলের মধ্যেই যেন আর একটি হোটেল৷ সেখানে ৪৭টি সুইট ও বিশাল বড় সব ঘর রয়েছে৷ সেই ভবনের নাম ‘রিট্রিট’৷ লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার আদর্শ জায়গা৷ ২০১৫ সালের জি-সেভেন শীর্ষ সম্মেলনের সময় সেটির উদ্বোধন হয়৷ সেখানেই শীর্ষ নেতাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ ডিটমার ম্যুলার-এলমাউ বলেন, ‘‘তাঁরা সেখানে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া বা সাঁতার কাটতে পারেন৷ ৪৭টি ঘরের ছোট হোটেলে তারা থাকতে পারেন৷ প্রত্যেকের জন্য পাঁচটি করে ঘর বরাদ্দ করা হয়৷ সঙ্গে আরও কিছু মানুষ থাকেন৷ তাঁদের কর্মীরা সবাই মূল দুর্গে থাকেন৷ একটি ভবন প্রেসেডেন্টদের জন্য, অন্যটি কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট রাখা আদর্শ বন্দোবস্ত৷

প্রেসিডেন্সিয়াল সুইটগুলি প্রায় হুবহু এক৷ ফলে কোনও শীর্ষ নেতার প্রতি অবিচার করা হয় না৷ এমন সুইট কেমন দেখতে? একটি ছোট বসার ঘর ও করিডোর ছাড়াও বড় একটি ঘর রয়েছে৷ তবে সবচেয়ে সুন্দর বৈশিষ্ট্য নিশ্চয় বাইরের দৃশ্য৷ হোটেলের অতিথিরা মোট নয়টি রেস্তোরাঁয় খাবার সুযোগ পান৷ সেগুলির মধ্যে ‘লুস দোরো' দু-দুটি ‘মিশেলিন স্টার' খেতাব পেয়েছে৷ সেই রেস্তোরাঁর প্রত্যেকটি টেবিলের পাশে একটি করে টুল রয়েছে৷ সম্ভ্রান্ত নারীর পাশে সেটি রাখা হয়, যাতে তিনি নিজের হ্যান্ডব্যাগ রাখতে পারেন৷

শেফ ক্রিস্টফ রাইনার ও তাঁর টিম সেই রেস্তোরাঁর রান্নাঘরের দায়িত্বে রয়েছেন৷ খাদ্যের বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখানকার রান্নার ভিত্তি হল চিরায়ত ফরাসি রন্ধনশৈলি, যাতে আমিও হাত পাকিয়েছি৷ কিন্তু এখানে সেই রান্না আরেও অনেক হালকাভাবে করা হয়৷ অর্থাৎ অনেক কম পরিমাণ মাখন ব্যবহার করি আমরা৷ অনেক ঝোল রাখি৷ আমাদের এখানে ঝালের বিষয়টিও খুব জরুরি৷ এমনভাবে খাবার প্রস্তুত করা হয়, যে অতিথিরা সহজেই সাত-আটটি কোর্স খেতে পারেন৷ সেই খাবার খেলে হাঁসফাঁস করতে হয় না বরং মনে আনন্দ হয়৷’

নানা ধরনের অতিথি সেখানে আসেন৷ খাদ্যরসিক ভ্রমণকারী থেকে শুরু করে ধনী পরিবারের মন জয় করতে হয়৷ ক্রিস্টফ রাইনার জানান, ‘পাঁচ কোর্সের মিল দিয়ে আমাদের তালিকা শুরু হয়, যার মূল্য ১৮৯ ইউরো৷ সঙ্গে ছোটখাটো আরেও পদ থাকে৷ বিশেষ পানীয়র মূল্যও সেইসঙ্গে যোগ হয়৷’ মোটকথা এই রেস্তোরাঁর রন্ধনশৈলিকে ‘কসমোপলিটান’ বলা চলে৷ রান্নাঘর থেকে সৌজন্য হিসেবে এক বিশেষ জাপানি পদ অতিথিদের টেবিলে আসে, যেটিকে কোর্স হিসেবে ধরা হয় না৷ হিরামাসা কিংফিশ বিশেষ এক পদ৷ জি-সেভেন শীর্ষ সম্মেলন না চললে সেখানে মূলত জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ডের অতিথিদেরই সমাগম ঘটে৷ পকেটে যথেষ্ট পয়সা থাকলে সবকিছু ভুলে এই হোটেলে নির্বিঘ্নে কিছু সময় কাটানো যায়৷ বিশ্ব রাজনীতিও ভুলে থাকা যায়৷

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনটি ডয়চে ভেলে থেকে নেওয়া হয়েছে। সেই প্রতিবেদনই তুলে ধরা হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার কোনও প্রতিনিধি এই প্রতিবেদন লেখেননি।)

বন্ধ করুন