বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ, ১৩ বছর পর ঘরে ফিরল ছেলে, কিন্তু...
পুরো গ্রাম ভেঙে পড়েছে বেরীবাধেঁর বাইরে ছোট্ট বাড়িটাতে। এ যেন সিনেমা! বলছেন অনেকেই। ছবি : ফেসবুক (Facebook)
পুরো গ্রাম ভেঙে পড়েছে বেরীবাধেঁর বাইরে ছোট্ট বাড়িটাতে। এ যেন সিনেমা! বলছেন অনেকেই। ছবি : ফেসবুক (Facebook)

মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ, ১৩ বছর পর ঘরে ফিরল ছেলে, কিন্তু...

  • মিলনের মা জানান, ‘১৩ বছর পর ঘরের ছেলে ঘরে ফিরেছে। কতদিন এই সাগরপারে ছেলের খোঁজে পড়ে থেকেছি। আজ আমার আর কিচ্ছু চাওয়ার নেই।’

সালটা ২০০৮। বঙ্গোপসাগরে ট্রলারে মাছ ধরতে গিয়েছিল বাংলাদেশের পটুয়াখালীর ১৭ বছরের কিশোর মিলন আকন। সেই দিন থেকে কোনও খোঁজ নেই মিলন ও তার সঙ্গীদের। ট্রলার ডুবেই ছেলের মৃত্যু হয়েছে, ধরে নিয়েছিলেন মিলনের মা-বাবা। কিন্তু না। মিলন ফিরল। ১৩ বছর পর।

সেদিন মিলনের সঙ্গে মাছ ধরতে গিয়েছিল পাড়ার ফারুক (১২), খোকন (২৫) ও আরও ৩ জেলে। সাগরে ঝড়ের পর থেকে তাঁদের ট্রলারের কোনও হদিশ মেলেনি। ১ মাস ধরে তন্নতন্ন করে অন্য ট্রলারের মাধ্যমে সমুদ্রে খোঁজ চালানো হয়েছে। খোঁজা হয়েছে উপকূলেও। যদি ট্রলারটা ভেসে আসে। বা সন্তানের দেহ। 'কোথাও ছেলের কোনও হদিশ পাইনি,' কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন মিলনের মা।

একসময়ে বুকে পাথর রেখে ছেলে মৃত ধরে নেন মিলনের মা-বাবা। সমুদ্রের জেলের নিয়তি হিসাবেই ধরে নেন। কিন্তু ভাগ্য যে অন্য পরিকল্পনা করেছে, তা বোধহয় তাঁরা ভাবেননি কখনই।

গত মঙ্গলবার মিলনের এক আত্মীয় হঠাত্ই দেখেন পার্শ্ববর্তী জেলা বরগুনার তালতলী এলাকায় এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। মুখটা খুব চেনা-চেনা লাগে। তখনই তাঁর সন্দেহ হয়। সঙ্গে সঙ্গে মিলনের মা-বাবাকে ব্যাপারটা ফোন করে বলেন। তারপর হোয়াটস্যাপে ওই যুবকের একটা ছবি তুলে পাঠান।

ছবি দেখেই কেঁদে ফেলেন প্রৌঢ়-প্রৌঢ়া। ১৩ বছর হয় তো কেটে গিয়েছে। কিন্তু ছেলেকে চিনতে একটুও সময় লাগেনি তাঁদের। এই তো তাঁদের মিলন! তাঁদের কথা মতো হাতের কাটা দাগও মিলে যায়।

এরপর গত বৃহস্পতিবার পরিবারের সকলে মিলে মিলনকে বাড়িতে আনা হয়। মিলনের এখন ৩০ বছর বয়স। এক মুখ দাড়ি। চুল-দাড়ি কেটে স্নান করিয়ে দেওয়া হয় মানসিক ভারসাম্যহীন মিলনকে।

এদিকে ততক্ষণে পুরো গ্রাম ভেঙে পড়েছে বেরীবাধেঁর বাইরে ছোট্ট বাড়িটাতে। এ যেন সিনেমা! বলছেন অনেকেই।

নিখোঁজ হওয়ার মাত্র ৪ মাস আগে মিলনের বিয়ে হয়। ৫ বছর ধরে স্বামীর অপেক্ষায় শ্বশুরবাড়িতে থাকে নববধূ। কিন্তু শেষমেশ তাঁর মা-বাবা এসে তাঁকে বাড়ি নিয়ে যান। অন্য পাত্র দেখে তাঁর বিয়ে দেওয়া হয়।

সেই স্ত্রী-ও এদিন দেখতে আসেন তাঁর প্রাক্তন স্বামীকে। ঘরের দাওয়ায় কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থেকে ফিরে যান।

মিলন অবশ্য এখনও কিছুই বুঝতে পারছে না। এতদিন কোথায় ছিল, ওইদিন কী হয়েছিল জিজ্ঞাসা করলেও উত্তর দিচ্ছে না। মিলনের মা জানান, '১৩ বছর পর ঘরের ছেলে ঘরে ফিরেছে। কতদিন এই সাগরপারে ছেলের খোঁজে পড়ে থেকেছি। আজ আমার আর কিচ্ছু চাওয়ার নেই। ও মানসিকভাবে অসুস্থ। চিকিত্সা করাবো। ঠিক সুস্থ হয়ে যাবে।' মায়ের দিকে তখন হাঁ করে তাকিয়ে আছে মিলন।

বন্ধ করুন