বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > খাদ্য সংকটের মুখে উত্তর কোরিয়া, কৃৃষকদের রোজ ২ লিটার মূত্র দেওয়ার নিদান
কিম জঙ উন ছবি–রয়টার্স (via REUTERS)
কিম জঙ উন ছবি–রয়টার্স (via REUTERS)

খাদ্য সংকটের মুখে উত্তর কোরিয়া, কৃৃষকদের রোজ ২ লিটার মূত্র দেওয়ার নিদান

জানা গিয়েছে, একটি ছোট এক প্যাকেট কালো চা পাতার দাম পৌঁছে গিয়েছে ৭০ মার্কিন ডলারে। অন্যদিকে এক প্যাকেট কফির দাম ১০০ ডলারও ছাড়িয়ে গিয়েছে।

খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। উত্তর কোরিয়ার প্রধান কিম জং উন নিজে এই কথা স্বীকার করেছেন। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্কটজনক যে একটা প্যাকেট কফির দাম ১০০ মার্কিন ডলারে (আনুমানিক ৭,৫০০ টাকা) পৌঁছে গিয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, রাজধানী পিয়ং ইয়ঙে গত কয়েক মাস ধরে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া হতে শুরু করেছে। পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয় নয়, এমন জিনিসপত্রের দামও বাড়তে শুরু করেছে উত্তর কোরিয়ার বিভিন্ন জায়গায়। জানা গিয়েছে, একটি ছোট এক প্যাকেট কালো চা পাতার দাম পৌঁছে গিয়েছে ৭০ মার্কিন ডলারে। অন্যদিকে এক প্যাকেট কফির দাম ১০০ ডলারও ছাড়িয়ে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, এক কেজি কলার দাম পৌঁছেছে ৪৫ মার্কিন ডলারে। সাম্প্রতিককালে রাষ্ট্রসংঘের ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ায় জনসংখ্যার অনুপাতে ৮ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। দেশে এখন যা খাদ্য মজুত আছে, তাতে আর মাত্র ২ মাস চলবে।

রেডিও ফ্রি এশিয়া নামে এক বেতার মাধ্যম দাবি করছে, পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে উত্তর কোরিয়ার কৃষকদের প্রতিদিন ২ লিটার করে মূত্র দেওয়ার কথা বলা হয়েছে যাতে দেশে সার উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো যায়। সারের উৎপাদন বাড়ালেই কৃষিতে আরও বেশি করে জোর দেওয়া যাবে। এর ফলে ফলনও বাড়বে। সারা বিশ্ব যেভাবে করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো চিন্তিত, তাতে এই পরিস্থিতিতে দেশে যাতে করোনা সংক্রমণ না বাড়ে সেজন্য সীমান্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে। একেই খাদ্য সংকট, তার ওপর যাতে করোনা থাবা বসাতে না পারে, সেজন্য সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে উত্তর কোবিয়ার প্রশাসনের তরফে।

উল্লেখ্য, উত্তর কোরিয়াকে খাদ্য সরবরাহের ব্যাপারে চিনের ওপর অনেকটাই নির্ভর করতে হয়। অনেক পণ্য সামগ্রীই বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়।স্থানীয় যা উৎপাদন হয়, তার বাইরে একটা বড় অংশের পণ্য সামগ্রী বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। কিন্তু দেশে নিউক্লিয়ার প্রকল্পের কারণে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় উত্তর কোরিয়াকে এখন নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। পরিস্থিতি যে আরও সংকটের দিকে যাচ্ছে, তা ভালোভাবেই এখন বুঝতে পারছেন কিম প্রশাসনের সঙ্গে কর্তা ব্যক্তিরা।

বন্ধ করুন